Donald Trump warns China: ‘খুবই হতাশ হব!’ পাকিস্তানের মাধ্যমে চিন ইরানকে অস্ত্র দিলে কী করবেন ট্রাম্প?

Donald Trump warns China: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চিনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য সর্বোচ্চ ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। পক্ষগুলোর সম্মত হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চিনের উরুমকি থেকে আকাশপথে অস্ত্রগুলো পাঠানো হবে।

Published on: Jul 30, 2026, 12:34:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Donald Trump warns China: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চিন যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে তিনি ‘খুবই হতাশ’ হবেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে বেজিং তেহরানের কাছে কোনও অস্ত্র বিক্রি করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (AP/File Photo)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (AP/File Photo)

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। চুক্তির বিষয়ে জানেন এমন তিনটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে রয়টার্সের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান চিনে তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য সর্বোচ্চ ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। পক্ষগুলোর সম্মত হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চিনের উরুমকি থেকে আকাশপথে অস্ত্রগুলো পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে সেগুলো যাবে ইরানে। তবে পাকিস্তান থেকে ইরানে অস্ত্র স্থানান্তর আকাশপথে নাকি সড়কপথে হবে, তা তারা স্পষ্ট করেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হলে সত্যিই অবাক হওয়ার মতো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শি আমাকে খুব জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি এতে অংশ নেবেন না। আর তিনি জানেন, এমন কিছু হলে আমি খুবই হতাশ হব।’ এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চিন ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় এই তথ্য সামনে আসে, যখন তেহরান বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আবার শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তখন তিনি চিন ও রাশিয়াকে ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-দুজনই তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তাদের কোনও দেশই বর্তমানে ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, চিন ও রাশিয়া-দুই দেশই ইরানে অস্ত্র পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে। তিনি আরও লেখেন, ‘ইরানের বিষয়ে যেসব বড় দেশের নাম প্রায়ই বলা হয়, আমার বিশ্বাস তারা কেউই এতে জড়িত নয়।’ একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা ইরানকে অস্ত্র দিত, তাহলে সেটি তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। এটি তাদের নিজেদের স্বার্থেও থাকত না।’

চিন কী পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চিনের তৈরি কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রথম চালান দেশটিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ধরনের সর্বোচ্চ ৪০০টি লঞ্চার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। এদিকে চিনের বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত অবসানে চিন ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।’ অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর বলেছে, ‘চিন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তান জড়িত, এমন জল্পনা সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা।’

চুক্তিটি ঠিক কী?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই অস্ত্রচুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে তেহরানের সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি। ওই যুদ্ধে সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত কাঠামো রক্ষায় ইরানের সক্ষমতার ঘাটতি সামনে এসেছে। সূত্রগুলো জানায়, চুক্তির আওতায় কেনা হবে ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস)। এর মধ্যে আছে চিনে তৈরি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে চুক্তিটি সই করেছে ইরান। সূত্রগুলোর দাবি, ইরানি পক্ষ ও চিনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করেছে।