'নতুন শুল্ক কাঠামো...,' ঠাণ্ডা ঘরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি? কী বলছে সরকার?
ভারত-সহ ১৬টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের বাণিজ্য নীতি এবং অনুশীলনের বিষয়ে একটি নতুন তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই সব দেশের বাণিজ্য নীতিকে 'অন্যায্য' বলে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের মাঝেই ফের বড় ধাক্কা খেল ভারত-মার্কিন সম্পর্ক? সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছেন, নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পরেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। ফেব্রুয়ারিতেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে ৷ এই রায়ের পরেও ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন ৷ তিনি খোলাখুলি দেশের শীর্ষ আদালতের কড়া সমালোচনা করে প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্কের কথা ঘোষণা করেছিলেন ৷ পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা জানিয়েছেন ৷
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, কেন্দ্রের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেছেন, বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির নানা সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, 'এই মুহূর্তে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।' রাজেশ আগরওয়াল আরও বলেন, নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পরেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক সইসাবুদ সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ করতে এটাই তাঁর অর্থনৈতিক নীতি বলে ঘোষণা করেন ৷ এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পারস্পরিক শুল্ক অবৈধ ৷ ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশন ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট' (আইইইপিএ)-এর আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্য দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক লাগু করতে পারেন না ৷ তিনি এই আইন লঙ্ঘন করেছেন ৷ মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে জরুরি অবস্থার অজুহাতের আশ্রয় নিয়ে তিনি অবৈধ কাজ করেছেন ৷
এই আবহে ১৬টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের বাণিজ্য নীতি এবং অনুশীলনের বিষয়ে একটি নতুন তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই সব দেশের বাণিজ্য নীতিকে 'অন্যায্য' বলে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ১৬টি দেশের তালিকায় আছে ভারতের নামও। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি খারিজ করে দেওয়ার পরে এই তদন্ত শুরু হল। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নং ধারার অধীনে এই তদন্ত হবে। এই তদন্তে কোনও দেশ 'দোষী' সাব্যস্ত হলে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বা জারি করতে পারে নানা নিষেধাজ্ঞা। এদিকে, সরকার জানিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাণিজ্য অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা বর্তমানে বিভিন্ন দেশ এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ছয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করছে। বার্তা সংবাদ এএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, পেরু, চিলি, ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (ইএইইউ) এবং ইজরায়েলের সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা চলছে।
E-Paper

