ISRO Battles Brain Drain: আকর্ষণীয় বেতন থেকে সুযোগের হাতছানি! কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?

ISRO Battles Brain Drain: বিশেষজ্ঞ এবং ইসরোর বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, একাধিক কারণ এই প্রবণতার জন্য দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির অনিশ্চয়তা।

Published on: Jul 17, 2026, 22:01:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ISRO Battles Brain Drain: ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) বর্তমানে একটি অপ্রত্যাশিত সঙ্কটের মুখে পড়েছে। প্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক ব্যর্থতা নয়, বরং ইসরো থেকে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের গণ-ইস্তফা এখন উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?
কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?

গত কয়েক মাসে শতাধিক বিজ্ঞানী ইসরো থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বা স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেছে মহাকাশ বিভাগ (ডিওএস)। গগনযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছাবসরের উপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পগুলির জন্য দক্ষ জনবল ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞানীরা কেন ছাড়ছেন ইসরো?

বিশেষজ্ঞ এবং ইসরোর বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, একাধিক কারণ এই প্রবণতার জন্য দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির অনিশ্চয়তা।

তবে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির দ্রুত উত্থান। ২০২০ সালে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পর থেকেই স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস, ধ্রুব স্পেস, দিগন্তরা-র মতো আরও বেশ কিছু স্টার্টআপ ভারতের মহাকাশ শিল্পের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। এই স্টার্টআপগুলি রকেট, উপগ্রহ, প্রপালশন সিস্টেম এবং মহাকাশভিত্তিক পরিষেবা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

ইসরোর বিজ্ঞানীদের কাছে এই সংস্থাগুলির আকর্ষণও কম নয়। তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন, স্টক অপশন, কাজের ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ মিলছে সেখানে। পাশাপাশি, সরকারি সংস্থার তুলনায় অনেক কম সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থাগুলি বিজ্ঞানীদের আরও বড় ভূমিকা দিচ্ছে। এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করছে ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীরাই। গত কয়েক বছরে বহু অবসরপ্রাপ্ত বা প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক নিজস্ব মহাকাশ স্টার্টআপ গড়েছেন বা নতুন সংস্থাগুলির পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ফলে ইসরোর বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা খুলে গিয়েছে, যা আগে ছিল না।

অভ্যন্তরীণ সমস্যা

তবে শুধুমাত্র উচ্চ বেতন বা উন্নত সুযোগ-সুবিধাই পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। গগনযানের জি১ টেস্ট ফ্লাইট, এসএসএলভি-এল১, জিএসএলভি-এফ১৭ এবং শিল্পক্ষেত্রে নির্মিত পিএসএলভি-এন১-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সময়সূচি পিছিয়ে গিয়েছে। চলতি বছরে পরপর দুটি পিএসএলভি-র সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ কর্মসূচিও বিলম্বিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেনি ইসরো। সংস্থার একাংশের বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ক্রমশ চেয়ারম্যানের দফতরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। এর ফলে অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের মডেল বদলাতে হবে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরোর কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের মতে, সংস্থার কর্মসংস্থানের মডেলেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তাঁদের দাবি, নাসা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতো প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি গ্রহণ করলে ইসরোরও সুবিধা হতে পারে। নাসায় স্থায়ী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ, এই তিন ধরনের কর্মী কাঠামো রয়েছে। এতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা সংরক্ষণ করা যায়, তেমনই নতুন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ করা সম্ভব হয়। অনেক মহাকাশ নীতি বিশেষজ্ঞের মতে, ইসরোও এই ধরনের হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করলে দক্ষ বিজ্ঞানীদের ধরে রাখা সহজ হবে।

ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্প যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই ইসরো ভবিষ্যতে মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট এবং নিউক্লিয়ার প্রপালশনের মতো উন্নত গবেষণায় আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে। তবে এক সময় দেশের মহাকাশবিজ্ঞানীদের একমাত্র গন্তব্য ছিল ইসরো। এখন সেই চিত্র বদলেছে। বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতামূলক বেতন, দ্রুত কেরিয়ার উন্নতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। ফলে ইসরোর সামনে এখন শুধু দেশের সেরা মেধাকে আকর্ষণ করাই নয়, তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে সংস্থায় ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।