মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রধান বিচারপতি কেন নেই? কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

বিচারপতি দীপাঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে, সিবিআই প্রধান এবং লোকপাল নিয়োগের নির্বাচনী কমিটিতে যেখানে প্রধান বিচারপতি রয়েছেন, সেখানে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁকে কেন রাখা হয়নি?

Published on: Jul 31, 2026, 09:29:45 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (EC) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন শুধু স্বাধীনভাবে কাজ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের কাছেও সেই স্বাধীনতা দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে (CJI) কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (EC) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। (HT_PRINT)
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের (EC) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। (HT_PRINT)

বিচারপতি দীপাঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে, সিবিআই (CBI) প্রধান এবং লোকপাল নিয়োগের নির্বাচনী কমিটিতে যেখানে প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, সেখানে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁকে কেন রাখা হয়নি? আদালতের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা শুধু বাস্তবে নয়, তা জনমানসেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ২০২৩ সালের 'প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, পরিষেবার শর্ত এবং কার্যকাল) আইন'-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানি চলছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাচন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করবেন। এই কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আগের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে থাকা প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার মামলাটি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আবেদন জানায়। সেই আবেদনের উপর রায় সংরক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামণি এবং সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, সংসদ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তাঁদের যুক্তি, কোনও বিকল্প ব্যবস্থা সম্ভব ছিল বলেই সংসদের আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলা যায় না। আইনসভা, নির্বাহী এবং বিচারব্যবস্থা—এই তিনটি সাংবিধানিক স্তম্ভই স্বাধীন এবং একে অপরের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।

তুষার মেহতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে রয়েছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের উপর মানুষের আস্থা থাকা উচিত। যদি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপরই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, তবে ভবিষ্যতে কি মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রেও কোনও প্রাক্তন বিচারপতি বা বাইরের ব্যক্তির পরামর্শ বাধ্যতামূলক করা হবে? আদালত আগে থেকেই ধরে নিতে পারে না যে প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবেন।

এর জবাবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থার অভাব নয়। আদালতের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'ন্যায়বিচার শুধু হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা হচ্ছে বলেও মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হওয়া জরুরি।'

অন্যদিকে, মামলার আবেদনকারীদের আইনজীবীরা কেন্দ্রের সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রায় ২০ দিনের শুনানি শেষ হওয়ার পর এই দাবি তোলা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে দেশের নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More