Delhi SIR List: জয়শঙ্কর থেকে আদবানী, কেজরিওয়াল-সিসোদিয়া! কেন SIR নোটিস হেভিওয়েটদের? কমিশন বলছে...
Delhi SIR List: নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩,৭৯,৭৮৫ জন ভোটার 'নন-ম্যাপিং' বিভাগের আওতায় পড়েছেন। আরও ১৯,৩৩,১৩৪ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে।
Delhi SIR List: দিল্লির ভোটার তালিকায় তথ্য সংক্রান্ত গরমিল মেটাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রায় ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এসআইআর-এর এই তালিকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নাম রয়েছে একাধিক ভিআইপি ও শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S.Jaishankar) থেকে শুরু করে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, বিজেপি বিধায়ক কৈলাশ গেহলটের মতো হেভিওয়েট নেতারাও স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর অধীনে নোটিস পেয়েছেন।

গত ৩১ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, বহু ভোটারের বর্তমান তথ্য ২০০২ সালের শেষ 'ইনটেনসিভ রিভিশন'-এর রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না (No Mapping)। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে তথ্যে গাণিতিক বা যুক্তিসঙ্গত গরমিল (Logical Discrepancies) ধরা পড়েছে। নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, প্রায় ৩৩.১৩ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে রবিবার পর্যন্ত ৩১.৬৩ লক্ষেরও বেশি নোটিস পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩,৭৯,৭৮৫ জন ভোটার 'নন-ম্যাপিং' বিভাগের আওতায় পড়েছেন। আরও ১৯,৩৩,১৩৪ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে।
নোটিস পেলেন যাঁরা
১. এস জয়শঙ্কর
এস জয়শঙ্কর এবং তাঁর স্ত্রী কিয়োকো জয়শঙ্করকে ‘Unmapped with last SIR’ তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের বর্তমান ভোটার তথ্য ২০০২ সালের আগের সংশোধিত ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা যায়নি। নিউ দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের সুন্দর বাগ অংশে তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত।
২. দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নামেও নোটিস ইস্যু করা হয়েছিল। তাঁর নামেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ছিল। মা-বাবার বয়সের থেকে তাঁর বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ায় নোটিস দেওয়া হয়। যদিও পরে শালিমার বাগের নির্বাচনী আধিকারিক জানান যে তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম যোগ করা হয়েছে।
৩. অরবিন্দ কেজরিওয়াল
দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তথ্য আগের এসআইআর-এর রেকর্ডের সঙ্গে মেলানো যায়নি। একই কারণে তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল, তাঁর বাবা গোবিন্দ রাম কেজরিওয়াল, মা গীতা দেবী এবং ছেলে পুলকিতকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের নাম তালিকা থেকে মোটেও বাদ যায়নি, বরং আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে নিজেদের ম্যাপিং বা সংযোগ না করার কারণেই নোটিস জারি করা হয়েছে।
৪. লালকৃষ্ণ আডবানী
প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী এল কে আডবানী, তাঁর মেয়ে প্রতিভা আডবানী এবং পুত্রবধূ গীতিকা আডবানীকে 'নো ম্যাপিং' ক্যাটাগরিতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালের তথ্যের সঙ্গে তাঁদের বর্তমান রেকর্ডের মেলবন্ধন না মেলাতেই এই নোটিস। তবে তাঁর ছেলে জয়ন্ত আডবানীর রেকর্ড সফলভাবে ম্যাপ করা গেছে। তাঁরা সকলে নতুন দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের নিবন্ধিত ভোটার।
৫. কপিল সিব্বল
এই তালিকায় রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বলের নামও রয়েছে। আগের এসআইআর ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁর তথ্য মেলেনি বলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে কপিল বলেন, 'এসআইআর মানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নয়। বিশেষ ও নিবিড় কায়দায় ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।'
৬. মণীশ সিসোদিয়া
দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, তাঁর স্ত্রী সীমা সিসোদিয়া এবং ছেলে মীর সিসোদিয়ার নামেও নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। সীমার নামের বানানে গরমিল এবং মীরের ক্ষেত্রে অভিভাবকের নামে বৈষম্য থাকার কারণে এই নোটিস।
৭. কৈলাশ গেহলট
প্রাক্তন আপ নেতা তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়ক কৈলাশ গেহলট, তাঁর স্ত্রী মৌসুমি মিশ্র গেহলট এবং মেয়ে জাহ্নবী গেহলটও নোটিস পেয়েছেন। তাঁদেরও 'নো ম্যাপিং' বিভাগের আওতায় রাখা হয়েছে।
৮. এস এস সান্ধু
নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধুর নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে কারণ ভোটার রেকর্ডে তাঁর নামের বানান মিলছে না।
৯. জগদীপ ধনকড়
শুধু তাই নয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে একাধিকদের হেভিওয়েটদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে সেই তালিকায় রয়েছেন সস্ত্রীক প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ও।
আমলা এবং শীর্ষ আধিকারিকদেরও নোটিস
এই তালিকায় বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি, সেবি চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পাণ্ডে, প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজর অজয় কুমার সুদ এবং স্বাস্থ্যসচিব পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তবের নামও রয়েছে। মৎস্য সচিব অভিলক্ষ লিখি, তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন সেনাকল্যাণ সচিব সুকৃতি লিখি, সারসিব সচিব রজত কুমার মিশ্র এবং ভূমি সম্পদসচিব নরেন্দ্র ভূষণের নামও তালিকায় রয়েছে।
অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
তালিকায় আরও রয়েছেন:
প্রাক্তন সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী
সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদ
বিজেপি সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ
কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি
নাম বাদ পড়ছে না, স্পষ্ট করল কমিশন
দিল্লি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কার্যালয় থেকে একটি স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়েছে। কমিশন জানায়, ভোটার তালিকার অসংগতি দূর করতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। 'কাউকে শুনানি ও উপযুক্ত শুনানির সুযোগ না দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে না। নোটিস পাওয়া ভোটাররা তাঁদের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ERO) কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ জবাব জমা দিতে পারবেন।' নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জমাকৃত নথিপত্র পরীক্ষার পরেই চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হবে। ভোটার তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।
E-Paper

