শত্রু ইরানে নিজেদেরই ৯২৯ কোটির বিমান ধ্বংস করল ট্রাম্প সেনা, কিন্তু কেন?

ইরানি বাহিনীর হামলায় একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তার দুই আরোহী ইরানের অভ্যন্তরে আটকে পড়েন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী মরুভূমির বিমানঘাঁটিতে বিশেষ অভিযানের পরিবহন বিমান নামায়।

Published on: Apr 6, 2026, 21:52:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলকে গুলি করে মাটিতে নামিয়েছিল ইরান। এরপরেই ইরানি ভূখণ্ডে নিখোঁজ দুই বিমানসেনাকে উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বড়সড় ত্যাগ স্বীকার করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মিশনকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দাবি করলেও, একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, শত্রুপক্ষের হাতে উন্নত প্রযুক্তি চলে যাওয়া রুখতে পিছু হটার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেদেরই সর্বোচ্চ দু'টি হাই-টেক এয়ারক্রাফ্ট ধ্বংস করে এসেছে।

ইরানে নিজেদেরই বিমান ধ্বংস করল US (সৌজন্যে টুইটার)
ইরানে নিজেদেরই বিমান ধ্বংস করল US (সৌজন্যে টুইটার)

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানি বাহিনীর হামলায় একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তার দুই আরোহী ইরানের অভ্যন্তরে আটকে পড়েন। তাঁদের উদ্ধারের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী মরুভূমির বিমানঘাঁটিতে বিশেষ অভিযানের পরিবহন বিমান নামায়। মূল লক্ষ্য ছিল আহত এক মার্কিন কর্নেল-সহ দ্বিতীয় বিমানসেনাকে নিরাপদে উদ্ধার করা। কিন্তু অবতরণের পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অন্তত একটি, এমনকী দুটি বিমান প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নরম মরুভূমির বালিতে আটকে পড়ায় আর উড়তে পারেনি। এ সময় ইরানের বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানা যায়। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত বিমান ডেকে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করতে হয় মার্কিন বাহিনীকে। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণে পেছনে ফেলে আসা দুটি পরিবহন বিমান মার্কিন সেনারা উড়িয়ে দিয়েছে।

কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিমান ধ্বংস করল?

জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে ফেলে আসা বিমানগুলো যাতে ইরানের হাতে না পড়ে, সে কারণে মার্কিন সেনারা সেগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে দেয়। সামরিক অভিযানে শত্রুপক্ষের হাতে গোপন প্রযুক্তি চলে যাওয়া ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ একটি প্রচলিত প্রোটোকল। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০১১ সালের ২ মে'র ঘটনা। সেদিন রাতে মার্কিন নেভি সিলের বিশেষ টিমের (সিল টিম সিক্স) পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন অভিযানে (অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার) আল-কায়েদা নেতা ও ৯/১১-র মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার সময়েও একই কাজ করেছিল। হাই-টেক এয়ারক্রাফ্টে অত্যন্ত গোপন প্রযুক্তি থাকে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নেভিগেশন সিস্টেম এবং বিশেষ অপারেশনস সংক্রান্ত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত। তাই এসব প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখা আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কী কী বিমান ধ্বংস করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ইসফাহান প্রদেশের বিস্তীর্ণ সমতল মরুভূমির বুকে দুর্ঘটনার কেন্দ্রে থাকতে পারে লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের বিশেষ অপারেশন বিমান, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডোও থাকতে পারে, যার মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। যা প্রায়শই বিশেষ অভিযানের জন্য শত্রু পক্ষের ভূখণ্ডে সেনা অনুপ্রবেশ ও বাইরে বেরনোর কাজে ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে ছোট আকারের এমএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরসিজি) দাবি করেছে, এই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'লজ্জাজনক' পরাজয় বরণ করেছে। পরে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড জানায়, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদেরই বিমানে হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অভিযানে আহত এক বিমানসেনাকে পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় আরোহীকেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।