‘আজ বিশেষ দিন’, সহকর্মীকে বলেছিল উগ্রবাদী তরুণ! আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার ছক বানচাল রাইফেল জ্যাম হওয়ায়
আমেরিকার ইলিনয় প্রদেশের অরোরায় হিন্দু মন্দিরে ঢুকে ভারতীয়দের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ছক কষেছিল আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিস, অভিযোগ তদন্তকারীদের। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের কাছেও পৌঁছেছিল সে।
রবিবারটা নাকি ছিল ‘বিশেষ দিন’। সহকর্মীদের আগেই সে কথা জানিয়েছিল ১৯ বছরের তরুণ। কিন্তু কেন দিনটিকে বিশেষ বলছে সে? সেই উত্তর মিলতেই সামনে এল ভয়ংকর পরিকল্পনা। আমেরিকার ইলিনয় প্রদেশের অরোরায় হিন্দু মন্দিরে ঢুকে ভারতীয়দের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ছক কষেছিল আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিস, অভিযোগ তদন্তকারীদের। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে অস্ত্র নিয়ে মন্দিরের কাছেও পৌঁছেছিল সে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জ্যাম হয়ে যায় তার রাইফেল। বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালায় অভিযুক্ত। তার পরেও থামেনি ষড়যন্ত্র। বাড়ি ফিরে কী ভাবে বন্দুকের গোলযোগ সারানো যায়, তা ইন্টারনেটে খুঁজতে শুরু করে সে। এক সহকর্মীর সঙ্গে ফোনেও কথা বলে। আর সেই কথোপকথন থেকেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। শেষ পর্যন্ত ওই সহকর্মীর তৎপরতায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পাপোরাকিস।

সহকর্মীর কাছে নিজেই ফাঁস করে পরিকল্পনা
পুলিশ সূত্রে খবর, পাপোরাকিস শিকাগোর উপকণ্ঠে পালাটাইন এলাকার বাসিন্দা। সেখানে একটি টাকো বেল রেস্তরাঁয় নগদ কাউন্টারে কাজ করত সে। গত ১০ অক্টোবর এক সহকর্মীর কাছে ভারতীয়দের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল বলে অভিযোগ। অরোরার একটি হিন্দু মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল সে।
পরের দিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, অস্ত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পাপোরাকিস। তদন্তকারীদের ধারণা, দক্ষিণ-পশ্চিম অরোরার বৃহত্তম হিন্দু মন্দিরটিই ছিল তার সম্ভাব্য লক্ষ্য। তবে নির্দিষ্ট কোন উপাসনালয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
অভিযোগ, মন্দিরে পৌঁছে গুলি চালানোর চেষ্টা করে পাপোরাকিস। কিন্তু আচমকাই আটকে যায় তার রাইফেল। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত গাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় সে। বাড়ি ফিরে অস্ত্রের গোলযোগ মেরামতের উপায় খুঁজতে থাকে ইন্টারনেটে। এর পর এক সহকর্মীকে ফোন করে নিজের পরিকল্পনার কথা জানায়। সহকর্মী বুঝতে পারেন, বিষয়টি নিছক কথার কথা নয়। তিনিই পুলিশকে খবর দেন। তার পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
বাড়িতে মিলল অস্ত্র ও চরমপন্থী লেখা
তদন্তকারীরা পাপোরাকিসের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি পরিবর্তিত এআর-ধরনের রাইফেল, প্রায় ৩০০ রাউন্ড গুলি, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, পেট্রলের ক্যান এবং নাৎসি প্রতীকযুক্ত একাধিক সামগ্রী উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে আট পাতার একটি লেখাও। তার শিরোনাম ছিল ‘হোয়াই আই ফট’।
পুলিশের দাবি, ওই লেখায় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এবং নব্য নাৎসি মতাদর্শের প্রকাশ রয়েছে। ভারতীয়, ইহুদি, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এবং অন্য অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হিংসার কথাও লেখা ছিল সেখানে। নিজেকে ঘৃণায় ভরা চরমপন্থী হিসাবে তুলে ধরেছিল অভিযুক্ত, এমনটাই তদন্তকারীদের দাবি।
মন্দিরে নিরাপত্তা বাড়ল
ঘটনার পর অরোরার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। ভক্ত, কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করছে এফবিআই।
পাপোরাকিসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের হুমকি দেওয়া এবং বেআইনি ভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বুধবার আদালতে হাজির করানোর পর বিচার চলাকালীন তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর। সব মিলিয়ে, রাইফেল জ্যাম হওয়া এবং সহকর্মীর সঠিক সময়ে পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


