Why do we get goosebumps: ‘গায়ে কাঁটা’ দেয় কেন? বিবর্তনের ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে অদ্ভুত তথ্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
Human evolution facts: শীতে বা ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। এর কারণ কী? মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস থেকে এই বিষয়ে অদ্ভুত তথ্য জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা।
Arrector pili muscles function: আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, শীতে বা খুব ভয়ের কোনো সিনেমা দেখলে কেন আমাদের শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়? যাকে আমরা চলতি ভাষায় ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ বা ইংরেজিতে 'Goosebumps' বলি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পিলোইরেকশন’ (Piloerection)। ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী স্কট ট্র্যাভারসের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে এই অদ্ভুত শারীরিক প্রতিক্রিয়ার পেছনের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।

বিবর্তনের ইতিহাস ও লোম খাড়া হওয়ার কারণ
মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল যখন আমাদের পূর্বপুরুষদের সারা শরীর ঘন লোমে ঢাকা ছিল। তখন এই 'Goosebumps' ছিল টিকে থাকার একটি অন্যতম অস্ত্র। যখন তারা প্রচণ্ড ঠান্ডার সম্মুখীন হতো, তখন চামড়ার নিচে থাকা ক্ষুদ্র পেশিগুলো (Arrector Pili Muscles) সংকুচিত হতো। এর ফলে গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে যেত। এই খাড়া লোমগুলো শরীরের চারপাশে বাতাসের একটি স্তর তৈরি করত, যা তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে শরীরকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করত।
কিন্তু আধুনিক মানুষের শরীরে সেই ঘন লোম আর নেই। তবুও আমাদের মস্তিষ্ক এখনো সেই আদিম বিবর্তনীয় স্মৃতি বহন করে চলেছে। তাই আজ আমাদের শরীরে যখন পিলোইরেকশন হয়, তখন তা কোনো উষ্ণতা দিতে পারে না, বরং চামড়ায় ছোট ছোট দানার মতো ফুটে ওঠে।
ভয় এবং আত্মরক্ষা
ঠান্ডা ছাড়াও ভয়ের কারণে আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। এটি মূলত আদিম প্রাণীদের একটি আত্মরক্ষার কৌশল। বিড়াল বা অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিপদের মুখে তারা গায়ের লোম ফুলিয়ে নিজেদের আকারে বড় দেখানোর চেষ্টা করে। এতে শিকারি প্রাণী ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে পারে। আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটত। তবে আধুনিক মানুষের শরীরে লোম কম থাকায় আমরা বড় দেখানোর পরিবর্তে কেবল রোমাঞ্চিত বা আতঙ্কিত অনুভব করি।
আবেগ এবং মিউজিক কেন গায়ে কাঁটা দেয়?
অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, খুব ভালো কোনো গান শুনলে বা আবেগঘন মুহূর্তে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। গবেষকদের মতে, এটি আমাদের মস্তিষ্কের ‘সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’-এর সাথে যুক্ত। তীব্র আবেগ বা ‘অ্যাড্রেনালিন’ হরমোনের ক্ষরণ যখন বেড়ে যায়, তখন আমাদের শরীর অবচেতনভাবেই পিলোইরেকশন শুরু করে। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের আবেগ কেবল মানসিক নয়, বরং এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি শারীরিক প্রক্রিয়াও বটে।
নতুন সম্ভাবনা: চুল গজাতে কি সাহায্য করে Goosebumps?
বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের এই আলোচনায় নতুন এক তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী ঠান্ডার ফলে যখন বারবার গায়ে কাঁটা দেয়, তখন সেটি চুলের ফলিকল বা কোষগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। এটি শরীরের একটি অভিযোজন প্রক্রিয়া যাতে ভবিষ্যতে শরীরকে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে আরও ঘন চুল বা লোম গজাতে পারে। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে এটি এখন খুব একটা কার্যকর নয়, তবে গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
আমাদের শরীরে ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ কেবল একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি আমাদের লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। যদিও আধুনিক জীবনে এর সরাসরি উপযোগিতা কমে গেছে, তবুও এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper











