কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা রান্না করতে পারে! অন্য কেউ পারল না কেন?

বিবর্তনের কোন বাঁকে মানুষ অন্য প্রাণীদের থেকে এগিয়ে গেল? কীভাবে একমাত্র মানুষই পারল রান্না শিখতে? বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন সেই তথ্য। 

Published on: Apr 1, 2026, 09:20:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক কোনটি? চাকা আবিষ্কার, নাকি ভাষার ব্যবহার? অনেক বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী মনে করেন, আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করার ক্ষমতা অর্জনই ছিল আমাদের প্রজাতির শ্রেষ্ঠ মোড়। ফোর্বস (Forbes)-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এক বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করেছেন যে কেন পৃথিবীতে কেবল মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা খাবার রান্না করে খায় এবং কীভাবে এই অভ্যাসটি আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশে আমূল পরিবর্তন এনেছিল।

কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা রান্না করতে পারে! অন্য কেউ পারল না কেন?
কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা রান্না করতে পারে! অন্য কেউ পারল না কেন?

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, কিন্তু মানুষ বাদে আর কাউকেই খাবার পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে খেতে দেখা যায় না। বন্য প্রাণীরা কাঁচা মাংস বা লতাপাতা খেয়েই জীবন ধারণ করে। অথচ মানুষের জন্য রান্না করা খাবার ছাড়া বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। এই অদ্ভুত পার্থক্যের পেছনে লুকিয়ে আছে লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের রহস্য।

ডারউইনের তত্ত্ব ও রান্নার গুরুত্ব

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী রিচার্ড রাঙহ্যাম (Richard Wrangham) তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, রান্না করা কেবল একটি বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের জৈবিক প্রয়োজনীয়তা। রান্না করা খাবার অনেক বেশি নরম এবং সহজে হজমযোগ্য হয়। কাঁচা খাবার চিবিয়ে খেতে এবং তা হজম করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, রান্না করা খাবারের ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক কম শক্তি ব্যয় হয়। এই 'অতিরিক্ত' শক্তিই মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।

মস্তিষ্ক বনাম পাকস্থলী: এক বিবর্তনীয় আপস

আমাদের শরীরের মধ্যে মস্তিষ্ক হলো সবথেকে বেশি শক্তি ব্যয়কারী অঙ্গ। বিজ্ঞানীদের মতে, যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা খাবার রান্না করে খাওয়া শুরু করল, তখন তাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রের ওপর কাজের চাপ কমে গেল। ফলে পরিপাকতন্ত্র ধীরে ধীরে আকারে ছোট হয়ে এল এবং সেখান থেকে বেঁচে যাওয়া বিপুল পরিমাণ ক্যালোরি বা শক্তি সরাসরি মস্তিষ্কের পুষ্টির জন্য ব্যবহৃত হতে লাগল। এর ফলেই মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাইমেট বা বনমানুষের তুলনায় অনেক বেশি বড় এবং জটিল হতে পেরেছে।

রান্নার সামাজিক প্রভাব

রান্না করার অভ্যাস কেবল শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনই আনেনি, এটি মানুষের সামাজিক কাঠামোকেও বদলে দিয়েছে। আগুনের পাশে বসে খাবার রান্না করা এবং তা ভাগ করে খাওয়ার মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে আদিম সমাজ। এটি ধৈর্য ধরা, পরিকল্পনা করা এবং একে অপরের সাথে সহযোগিতার শিক্ষা দিয়েছে। আগুনের চারপাশে কাটানো সেই সময়গুলোই হয়তো ভাষার বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কেন মানুষই শুধু রান্না করতে শিখল?
কেন মানুষই শুধু রান্না করতে শিখল?

কাঁচা খাবার বনাম রান্না করা খাবার

অনেকে মনে করেন কাঁচা খাবার বা 'র ডায়েট' (Raw Diet) স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু বিবর্তনীয় দিক থেকে দেখলে, মানুষ যদি কেবল কাঁচা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করত, তবে তাদের সারাদিনের অধিকাংশ সময় কেবল খাবার চিবিয়ে খেতেই ব্যয় করতে হতো। আমাদের দাঁত ও চোয়ালের গঠনও সময়ের সাথে সাথে ছোট হয়ে এসেছে, কারণ রান্না করা নরম খাবার খাওয়ার জন্য এখন আর সেই বিশাল শক্তিশালী চোয়ালের প্রয়োজন নেই।

রান্না করা হলো মানুষের সেই শৈল্পিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষমতা যা আমাদের প্রাণিজগত থেকে আলাদা করেছে। আগুনের ব্যবহার আমাদের পূর্বপুরুষদের কেবল শীত বা বন্য পশুর হাত থেকেই রক্ষা করেনি, বরং এটি আমাদের বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। আজ আমরা যখন রসুইঘরে সময় কাটাই, তখন আসলে আমরা আমাদের বিবর্তনের সেই মহান উত্তরাধিকারকেই উদযাপন করি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More