Passport Not Proof of Citizenship: 'গতকালই সিদ্ধান্ত হয়নি!' কেন পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? ব্যাখ্যা কেন্দ্রের

Passport Not Proof of Citizenship: বিদেশ মন্ত্রক ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর ধারা উল্লেখ করেছে। যা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অ-ভারতীয় নাগরিককেও পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান করতে পারে। 

Published on: Jun 25, 2026, 21:16:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Passport Not Proof of Citizenship: সম্প্রতি বিদশে মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়ছে যে, ভারতীয় পাসপোর্ট সরকারিভাবে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত ও অখণ্ড প্রমাণ নয়। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাসপোর্ট মূলত একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথি। যা বিদেশ সফর সহজ করতে সরকার ইস্যু করে। কিন্তু কারও কাছে পাসপোর্ট থাকা মানেই তিনি ভারতের নাগরিক, এমন নয়। এই ব্যাখ্যা ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, এই অবস্থান মোটেও নতুন কিছু নয় এবং এটি সাম্প্রতিক কোনও নীতিগত পরিবর্তনও নয়।

কেন পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? ব্যাখ্যা কেন্দ্রের
কেন পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? ব্যাখ্যা কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, 'পাসপোর্ট যে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়, এটি গতকাল হঠাৎ করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এমনকী গত ১২ বছরেও এমন কোনও নতুন নিয়ম তৈরি করা হয়নি।' পাশাপাশি, তিনি আরও বলেন যে, এই আইনি অবস্থান বা নিয়মটি দেশে গত কয়েক দশক ধরেই চলে আসছে। ১৪তম 'পাসপোর্ট সেবা দিবস'-এর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পাসপোর্ট কোনও ভাবেই নাগরিকত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত নথি নয়। পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার্থে সরকারের জারি করা একটি ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা ‘ভ্রমণ সংক্রান্ত পরিচয়পত্র’ মাত্র। বিদেশ মন্ত্রকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনায় মুখর হন বিরোধী শিবিরের নেতারা, যার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বিতর্ক শুরু হয়। তার ঠিক পরদিনই সরকারের পক্ষ থেকে এই স্পষ্টীকরণ সামনে এল।

আইন ও আদালতের রায়

দেশের আইন এবং একাধিক আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে নিজেদের এই অনড় অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, পাসপোর্টকে কখনওই নাগরিকত্বের অকাট্য বা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এর নেপথ্যের মূল যুক্তিটি ব্যাখ্যা করে এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, 'পাসপোর্ট কখনওই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অ-ভারতীয় নাগরিককেও পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান করতে পারে। এমনকী ২০১৩ সালের বম্বে হাইকোর্টের রায়েও এটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, পাসপোর্ট কোনওভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়।'

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর ধারা উল্লেখ করেছে। যা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অ-ভারতীয় নাগরিককেও পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি প্রদান করতে পারে। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, পাসপোর্টের প্রকৃত তাৎপর্য কী? এবং এটি যদি কেবলই একটি ভ্রমণ নথি হয়ে থাকে, তবে কেন এর জন্য এত কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়? চলতি বছরের শুরুতে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, আধার ও ভোটার আইডি নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি নয়। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ কী?

আইন কী বলছে?

২০২০ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আধার, পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা জন্ম শংসাপত্রের মধ্যে কোনটি নাগরিকত্বের প্রমাণ? উত্তরে সরকার কোনও একক নথির নাম বলেনি। সরকার জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। জন্ম, বংশপরম্পরা, রেজিস্ট্রেশন, ন্যাচারালাইজেশন বা কোনও অঞ্চল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যেতে পারে।