Khamenei info: ৪৫ বছর ধরে জোব্বায় ডান হাত আড়ালের চেষ্টা কেন করতেন খামেনি? কর্ণাটকের চিকবল্লাপুরের সঙ্গে তাঁর কোন যোগ?

খামেনি সম্পর্কে কিছু অজানা কথা একনজরে।

Published on: Mar 01, 2026 9:47 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানে টানা শাসন করেন আয়াতোল্লা খামেনেই। সদ্য গতকাল শনিবার তাঁর প্রাসাদে চলে ইজরায়েল আমেরিকার হামলা। বেশ কিছুটা সময় পর ইরান স্বীকার করে নেয়, সেদেশের সুপ্রিম নেতা খামেনির মৃত্যুর কথা। তার বহু আগে, ইজরায়েল দাবি করে, খামেনির দেহ উদ্ধারের কথা। এই খামেনির সঙ্গে ভারতের এক যোগ রয়েছে। আর তা হল কর্ণাটকের চিকবল্লাপুর। সেই প্রসঙ্গে আসার আগে দেখে নেওয়া যাক, গত ৪৫ বছর ধরে কেন জোব্বার আড়ালে ডান হাত লুকোনোর চেষ্টা করতেন খামেনি।

৪৫ বছর ধরে জোব্বায় ডান হাত আড়ালের চেষ্টা কেন করতেন খামেনি (West Asia News Agency)/Handout via REUTERS ATTENTION EDITORS - THIS PICTURE WAS PROVIDED BY A THIRD PARTY./File Photo
৪৫ বছর ধরে জোব্বায় ডান হাত আড়ালের চেষ্টা কেন করতেন খামেনি (West Asia News Agency)/Handout via REUTERS ATTENTION EDITORS - THIS PICTURE WAS PROVIDED BY A THIRD PARTY./File Photo

জোব্বায় কেন ডান হাত আড়াল করতেন?

ঘটনা ১৯৮১ সালের ২৭ জুনের। তখন চলছে ইরা-ইরান সংঘাত। সেবার যুদ্ধের প্রান্তর থেকে ফিরে মসজিদে প্রার্থনা করছিলেন খামেনি। সংঘাত নিয়ে তাঁর ভক্তরা কিছু প্রশ্ন করলে তিনি তার উত্তর দিতে থাকেন। তখনই এক যুবক খামেনেই সামনে আসেন এক টেপ রেকর্ডার নিয়ে। খামেনি বলার সময় সেই রেকর্ডার অন করে যুবক। এরপরই একটি অদ্ভূত শব্দ হতে থাকে। তারপরই বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে গুরুতপর জখম হন খামেনি। টেপ রেকর্ডারের ভেতরের দেয়ালে একটি বার্তা লেখা ছিল, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য ফুরকান গ্রুপের উপহার। ফুরকান গ্রুপ ছিল শাসক ধর্মীয় আদেশের একটি বিরোধী শিবির। ডান হাত, ভোকাল কর্ড এবং ফুসফুসে আঘাতের পর খামেনির সুস্থ হতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগেছিল। কিছু ক্ষত সেরে গেলেও, তাঁর ডান হাত চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি একটা সময় বলেছিলেন,’ আমার হাতের দরকার হবে না। আমার মস্তিষ্ক এবং জিহ্বা যদি কাজ করে তবেই যথেষ্ট।' আর এইভাবে পক্ষাঘাতে খামেনির ডান হাত নষ্ট হওয়ার কারণেই তিনি ওই হাত জোব্বায় আড়ালে রাখার চেষ্টা করতেন। ততদিনে তিনি বাঁ হাত দিয়ে লেখা লিখতে শিখে গিয়েছিলেন।

চিকবল্লাপুর ও খামেনি:-

কর্ণাটকের চিকবল্লাপুরের আলিপুরা গ্রামকে অনেকেই ‘মিনি ইরান’ বলে উল্লেখ করেন। খামেনির মৃত্যুর পর এই গ্রাম শোকস্তব্ধ। গ্রামবাসীদের মতে, আলি খামেনি ১৯৮৬ সালে আলিপুরা সফর করেছিলেন। ইরানি বিপ্লবের দুই বছর পর, এবং ১৯৮১ সালের অক্টোবরে ইরানের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কিছু আগে, খামেনি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা রুহুল্লাহ খোমেনির সরকারের প্রচার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪১। স্থানীয় বিবরণ অনুসারে, তিনি ১৯৮১ থেকে ৮২ সালে ইরান সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত একটি হাসপাতাল উদ্বোধন করতে গ্রামটি পরিদর্শন করেছিলেন।

এই ছোট্ট গ্রামের জন্য, এই সফরটি ইরানের সাথে তাদের সম্পর্কের সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আজও, গ্রামের কয়েক ডজন যুবক ইরানি মাদ্রাসায় ধর্মীয় পড়াশোনা করে অথবা তেহরান এবং মাশহাদের মতো শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা করে।