Mojtaba Khamenei: কফিনের পাশে ৩ পুত্র! খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় মানুষের ঢল, কোথায় উত্তরসূরি মোজতবা?

Mojtaba Khamenei: এর আগেই ইরান জানিয়েছিল, মোজতবা খামেনেই বাবার ছয় দিনের শেষকৃত্যের কোনও অনুষ্ঠানেই যোগ দেবেন না। নিরাপত্তার খাতিরেই তাঁকে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Published on: Jul 8, 2026, 22:59:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mojtaba Khamenei: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য ঘিরে শোকের আবহে ভাসছে গোটা দেশ। সপ্তাহব্যাপী শেষযাত্রার অংশ হিসেবে রবিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় হাজার হাজার মানুষ প্রার্থনায় যোগ দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। খামেনেইয়ের কফিন ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাধারণ মানুষ থেকে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এই আবেগঘন মুহূর্তে অনুপস্থিত থাকছেন একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। আলি খামেনেইর প্রয়াণের পর ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত মোজতবার এই শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, কোথায় মোজতবা খামেনেই?

কোথায় উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই? (AP Photo/Altaf Qadri)
কোথায় উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই? (AP Photo/Altaf Qadri)

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক শেষ বিদায় গত শুক্রবার থেকে (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন স্থানে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে খামেনেইর কফিন রাখা হয়েছে। রবিবার ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খামেনেইয়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর তিন ছেলে- মোস্তফা, মেইসাম এবং মাসুদ। উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ, আইআরজিসি প্রধান জেনারেল আহমদ ভাহিদি এবং কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি-সহ ইরানের প্রায় গোটা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব। তবে গোটা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনেই।

এর আগেই ইরান জানিয়েছিল, মোজতবা খামেনেই বাবার ছয় দিনের শেষকৃত্যের কোনও অনুষ্ঠানেই যোগ দেবেন না। নিরাপত্তার খাতিরেই তাঁকে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, বোন, বোনের স্বামী এবং ১৪ মাস বয়সি ভাগ্নি। ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান তার ছেলে মোজতবা খামেনেই। তারপর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসা চলছে। যদিও ইরান সরকার বরাবরই দাবি করে এসেছে, মোজতবা জীবিত আছেন এবং সুস্থ হচ্ছেন।

ওই হামলার কয়েকদিন পর মোজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেও বাবার মৃত্যুর পর তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যেও জনসম্মুখে দেখা যায়নি। সে সময় থেকে মোজতবাকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে একটি বিবৃতিও তিনি নিজ মুখে পড়ে শোনাননি। গত ১৮ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে মোজতবা খামেনেই জানান, তিনি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্মারক চুক্তি সইয়ের বিষয়টিতে সম্মতি দিয়েছেন। পরবর্তীতে ২৮ জুন অপর এক লিখিত বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ রায়েলের হামলার বিপরীতে ন্যায়বিচার আদায় ও জবাবদিহির দাবি জানান তিনি। তাঁর বাবাকে হত্যা-সহ সব ধরনের যুদ্ধাপরাধের জন্য তিনি ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের দায় করেন এবং তাদের এসব অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ইরানের সূত্র খবর মোজতবা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে তিনি বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে চান। বিশেষ করে আগামী ৯ জুলাইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু ইজরায়েলের হামলার আশঙ্কায় এবং তাঁর গোপন অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখনও তাঁর এই অনুরোধ মঞ্জুর করা হয়নি। ইরানের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মোজতবাকে এখনও প্রকাশ্যে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে, সোমবার তেহরানে শোভাযাত্রা শেষে মঙ্গলবার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের কফিন কোম শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে তাঁকে সমাধিত করা হবে।