Kamikaze Dolphins: হরমুজে নয়া উত্তেজনা! মার্কিন জাহাজে 'ডলফিন' হামলা চালাবে ইরান? কী বলছে পেন্টাগন?
Kamikaze Dolphins: সামরিক উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েক দশকের পুরনো একটি প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে ডলফিনদের জলের নিচে মাইন শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
Kamikaze Dolphins: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইরান ‘ডলফিন’ ব্যবহার করতে পারে-এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনতে অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতো মনে হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ডলফিনগুলো আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে’ কায়দায় মাইন বহন করে আছড়ে পড়ে শত্রু জাহাজে। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় যুদ্ধের মেঘ ক্রমেই ঘন হচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক যখন তুঙ্গে, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে এই অদ্ভুত কিন্তু রোমহর্ষক তথ্য।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়। ইরান কী সত্যিই ডলফিন বাহিনীকে যুদ্ধে নামাচ্ছে? এর জবাবে হেগসেথ কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এই মুহূর্তে মোতায়েন করার মতো কোনও ডলফিন নেই- এটা তিনি ‘নিশ্চিত’ করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন যখন উল্টা ঘুরে নিজের দেশের দিকে আসে, তখন তিনি বেশ রহস্যজনক উত্তর দেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘কামিকাজে ডলফিন’ আছে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত করবেন না, আবার অস্বীকারও করবেন না। ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত। মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েক দশকের পুরনো একটি প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে ডলফিনদের জলের নিচে মাইন শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নেভাল ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার সেন্টার প্যাসিফিকের অধীনে পরিচালিত এই ‘মেরিন ম্যামল প্রোগ্রাম’ মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজ করে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের ডলফিনগুলো আত্মঘাতী নয় বরং সেগুলো মাইন ও ডুবন্ত বস্তু শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান হরমুজ সংকট নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও ডলফিন ব্যবহার করছে না।
ডলফিন যুদ্ধ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ নয়, যারা সামরিক উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী ব্যবহার করে। রাশিয়া অতীতে তাদের বন্দরগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য ডলফিন ব্যবহারের নজির স্থাপন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০ সালে ইরান কিছু ডলফিন কিনেছিল। তবে সেই ডলফিনগুলো এখন বেঁচে থাকার কথা নয় বা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক বয়স্ক হয়ে যাওয়ার কথা। এছাড়া বর্তমানে তেহরানের এই ধরনের কোনও সক্রিয় ডলফিন প্রোগ্রাম আছে কিনা, তার কোনও অকাট্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
১৯৫৯ সাল থেকেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশেষ প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে ডলফিন এবং সমুদ্র সিংহদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়া সি লায়ন আর বটলনোজ ডলফিনদের জলের নিচের মাইন খুঁজে বের করা বা বিশেষ বস্তু শনাক্ত করার কাজে লাগানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বিজ্ঞানের জানা সবচেয়ে উন্নত শব্দতরঙ্গ ব্যবস্থার চেয়েও ডলফিনের প্রাকৃতিক ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। এমনকী অত্যাধুনিক জলের নিচের ড্রোনও ডলফিনের কাছে নস্যি। সামরিক বা বেসামরিক জাহাজের জন্য হুমকি হতে পারে এমন মাইন খুঁজে বের করে তার অবস্থান চিহ্নিত করাই এই প্রশিক্ষিত ডলফিনদের প্রধান কাজ। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ‘ডলফিন যুদ্ধ’ বা প্রাণী ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
E-Paper











