হাসিনা কি ভারতে থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি করবে? সংসদীয় কমিটির সামনে মুখ খুলল কেন্দ্র

সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না।

Published on: Jul 31, 2026, 08:06:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। এই আবহেই ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধও দেশের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। (AFP)
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। (AFP)

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কাছে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারতের দীর্ঘদিনের মানবিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। যাঁরা গুরুতর সংকট, নির্যাতন বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েন, তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি ভারত বরাবরই অনুসরণ করে এসেছে। তবে এই ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও একটি মৌলিক নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়—ভারতের ভূখণ্ড কোনওভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি যথাযথ কূটনৈতিক ভারসাম্য ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিচালনারও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, দীর্ঘদিন ভিসা পরিষেবায় সীমাবদ্ধতা থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা পরিষেবা স্থগিত করেছিল। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে সেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। চলতি বছরেই এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সেই কারণে কমিটি কেন্দ্রকে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত নতুন করে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, নতুন জলবণ্টন চুক্তির আলোচনা হওয়া উচিত সর্বশেষ জলবিদ্যাগত তথ্য, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বজায় রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে অর্থনীতি, সংযোগ ও নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থান, ভিসা নীতি, গঙ্গার জলচুক্তির নবীকরণ এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More