Delimitation Bill: 'অপেক্ষা করুন!' আসন পুনির্বিন্যাস বিল সমর্থন করবে ডিএমকে? মুখ খুললেন স্ট্যালিন
Delimitation Bill: আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। আর এই অধিবেশন শুরুর আগেই দেশের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বেশ আকর্ষক মোড় নিয়েছে।
Delimitation Bill: তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা আসন পুনর্বিন্যাস আইনের সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন। এর আগে লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই বিল পেশ করেছিলেন দ্রাবিড় ভূমির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেদিন কালো পোশাক পরে প্রকাশ্যে বিলের কপি পুড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি ও ক্ষমতা হারাতেই আসন পুনর্বিন্যাস আইন নিয়ে কী অবস্থান পরিবর্তন করলেন স্টালিন? কেন্দ্র যদি ফের আসন পুনর্বিন্যাস বিল আনে তাহলে তাঁর দল সেটার বিরোধিতা করবে নাকি সমর্থন, এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না ডিএমকে প্রধান।

আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। আর এই অধিবেশন শুরুর আগেই দেশের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বেশ আকর্ষক মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে শাসক শিবির এনডিএ এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট-উভয় পক্ষই এই মুহূর্তে ডিএমকে-র রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে গভীর চাতক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন এমকে স্ট্যালিন। সেখানে তিনি বলেন, আসন পুনর্বিন্যাস বিলটির বিষয়ে তাঁর দল আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার অবস্থানেই থাকবে। ডিএমকে সভাপতি সাফ জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোটের বাধ্যবাধকতা নয়, বরং দলের মূল আদর্শ এবং তামিলনাড়ুর সামগ্রিক স্বার্থই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। দলীয় সূত্রে খবর, সংসদে এই বিলের প্রেক্ষিতে ডিএমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজেপি কিংবা কংগ্রেস-কারো পক্ষই নেবে না। বিলের বিষয়ের গভীরতা বিচার করেই দল তাদের নিজস্ব অবস্থান নির্ধারণ করবে।
কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাসে কি সমর্থন দেবে স্ট্যালিনের দলের ২২ সাংসদ। স্ট্যালিনের সংক্ষিপ্ত উত্তর, 'অপেক্ষা করুন।' বস্তুত এতদিন যে তিনি এই বিলের অন্ধ বিরোধিতা করে আসছিলেন, সেখান থেকে সরে এসেছেন তিনি। তাঁর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্র শর্ত মানলে বিলকে সমর্থনও করতে পারে ডিএমকে। নিতান্তই সমর্থন না করলেও ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকাশ্যে স্ট্যালিন বলছেন, বিলের খসড়া প্রকাশ্যে আসার পরই ওই বিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও জানান, এখন আর কংগ্রেসের স্বাভাবিক মিত্র নয় তাঁর দল। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্ধ বিরোধিতা নয়। কংগ্রেসকে সব ইস্যুতে সমর্থনও নয়। প্রতিটি ইস্যু ধরে ধরে অবস্থান ঠিক করা হবে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের আরও একটি দল শরদ পওয়ারের এনসিপি আসন পুনির্বিন্যাস বিলে সমর্থন করা নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিয়েছে। শরদকন্যা সুপ্রিয়া সূলে বলছেন, 'আগে বিলটা আসুক, তার আগে তো বলতে পারব না। কেন্দ্র যদি ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি লিখিত আকারে জানায়, তাহলে ভেবে দেখতে পারি।' অর্থাৎ সব রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে, এটা যদি বিলে লিখিত আকারে জানায় কেন্দ্র, তাহলে শরদ পওয়ারের দল সেই বিলকে সমর্থন করতেও পারে, সেটা একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন সুপ্রিয়া।
আসলে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় ক্ষেত্রে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের মূল আপত্তির কারণ ছিল, উত্তর-দক্ষিণ সাম্য নিয়ে উদ্বেগ। বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, আসন পুনর্বিন্যাস পাশ হলে বেশি জনসংখ্যার অজুহাত দেখিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসনসংখ্যা বেশি বাড়বে, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলি যেহেতু জনসংখ্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, তাই দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন তুলনায় কম বাড়বে। যদিও আগেরবার সংসদে এই বিল পেশ করার সময় অমিত শাহ সাফ বলে দিয়েছিলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং লোকসভার আসন বাড়ানো হবে শতাংশের বিচারে। সব রাজ্যের এখন যা আসন রয়েছে, সেটার ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু বিলের খসড়ায় সেটা লিখিত আকারে ছিল না। সেটাই এবার লিখিত আকারে চাইছে ডিএমকে। সেকারণেই প্রকাশ্যে স্ট্যালিন খসড়া প্রকাশ্যে আসার জন্য অপেক্ষা করতে চাইছেন।
E-Paper

