T20 World Cup 2026: ইডেন থেকে T20 বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সরাতে পারে জয় শাহের ICC, বাঁচার উপায় কী?

সুপার এইট পর্বের দল চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পাঠানো এক বার্তায় আইসিসি জানিয়েছে, প্রথম সেমিফাইনালটি ‘ফ্লোটিং’ বা ভাসমান সূচিতে রাখা হয়েছে।

Published on: Feb 24, 2026, 11:44:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টি-২০ বিশ্বকাপ মধ্যগগনে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ। শুরু হয়ে গিয়েছে সুপার এইট পর্ব। ১ মার্চ সুপার এইট পর্বে ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ রয়েছে ভারতের। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে এটাই কী টি-২০ বিশ্বকাপে ক্রিকেটের নন্দনকাননে শেষ ম্যাচ? কারণ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই প্রতিযোগিতার সূচিতে বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে জয় শাহের আইসিসি।

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে 'ব্রাত্য' ইডেন?
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে 'ব্রাত্য' ইডেন?

সূচি প্রকাশের সময় খাতায় কলমে ৪ মার্চ প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচ দেওয়া হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সে। তবে তা শর্তসাপেক্ষে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলা হয়েছিল, পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে সেই ম্যাচ হবে কলম্বোয়। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার। তবে যেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, যদি শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে সেই ম্যাচ কোথায় হবে? সেক্ষেত্রে ভেন্যু বদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘরের মাঠে নাও খেলার সুযোগ পেতে পারে টিম ইন্ডিয়া। যদি সুপার এইটের ফলাফল অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনাল হয়, সেক্ষেত্রে কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচ হবে। যদি সুপার এইটে নিজেদের গ্রুপে এক নম্বরে শেষ করে ভারত, এবং নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে পাকিস্তান, বা বিপরীত, তাহলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান।

এমন পরিস্থিতি হলে ৫ মার্চ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলবে না ভারত। পরিবর্তে ৪ মার্চ কলম্বোয় প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে। সেক্ষেত্রে হোলির দিন খেলতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে। সুপার এইট পর্বের দল চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পাঠানো এক বার্তায় আইসিসি জানিয়েছে, প্রথম সেমিফাইনালটি ‘ফ্লোটিং’ বা ভাসমান সূচিতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচটি পরিস্থিতি অনুযায়ী কলম্বো কিংবা কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই ব্যবস্থায় আয়োজক শহর নির্ধারণ হবে কোন দল সেমিফাইনালে উঠছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে তার ভিত্তিতে। নির্দেশনা অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়, তাহলে তারা ৪ মার্চ কলম্বোতে প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচটির ভেন্যু হবে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। আবার পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু শ্রীলঙ্কা ওঠে এবং তাদের প্রতিপক্ষ ভারত না হয়, তাহলেও প্রথম সেমিফাইনালটি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ভারত ছাড়া অন্য যে কোনও দলের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা খেললে কলম্বোই হবে আয়োজক শহর।

আইসিসি আরও জানিয়েছে, যদি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দু’দলই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে না পারে, তাহলে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায় এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে মুম্বইয়ে। এই পরিস্থিতিতে সুপার এইটের গ্রুপ ১-এর শীর্ষ দল খেলবে গ্রুপ ২-এর রানার্স আপের বিপক্ষে কলকাতায়, আর গ্রুপ ২-এর শীর্ষ দল মুখোমুখি হবে গ্রুপ ১-এর রানার্স আপের সঙ্গে মুম্বইয়ে। ভারতের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তারা সাধারণত মুম্বইয়েই খেলবে, প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন। তবে ভারত ও পাকিস্তান যদি সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়, তাহলে ম্যাচটি আয়োজন করা হবে কলম্বোতে। অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভেন্যু রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী। এদিকে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দু’দলই সুপার এইটের গ্রুপ ২-এ রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই, কারণ একই গ্রুপের দু’দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে না।

এই সিদ্ধান্তকে আইসিসির আগের সূচির একটি সংশোধন বা স্পষ্টীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত নভেম্বরে প্রকাশিত সূচিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে তারা শ্রীলঙ্কায় খেলবে। এমনকী পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে আহমেদাবাদের বদলে কলম্বোতে ফাইনাল আয়োজনের কথাও উল্লেখ ছিল। তবে তখন শ্রীলঙ্কা নিজে নকআউট পর্বে উঠলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। সর্বশেষ এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আয়োজক শহর নির্ধারণে কেবল পাকিস্তান নয়, শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য অগ্রগতিও বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সূচি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সুপার এইট পর্বের ফলাফল ও সম্ভাব্য ম্যাচ-আপের উপর।