'স্বামীকে কিডনি দাও, নাহলে ৩০ লক্ষ...,' পণের জন্য অকথ্য নির্যাতন, ভয়ঙ্কর কেচ্ছা ফাঁস স্ত্রীর

ওই মহিলা অভিযোগে বলেন, কখনও কখনও তাঁর শাশুড়ি এসে ছেলে-বৌমার মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়তেন। এছাড়া তাঁর শ্বশুর যখন-তখন তাঁর ঘরে ঢুকে পড়তেন।

Published on: Apr 7, 2026, 22:59:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

‘হয় নিজের কিডনি দাও, না হলে ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড় করো।’ উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক মহিলা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে এমনই মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। মানসিক হেনস্তার পাশাপাশি তাঁকে পণ দেওয়ার জন্যও জোরাজুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পণের জন্য অকথ্য নির্যাতন, ভয়ঙ্কর কেচ্ছা ফাঁস স্ত্রীর
পণের জন্য অকথ্য নির্যাতন, ভয়ঙ্কর কেচ্ছা ফাঁস স্ত্রীর

ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর দু’টো কিডনিই খারাপ। কিন্তু বিয়ের আগে সে কথা তাঁকে জানায়নি শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। পরে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে জোর করেন কিডনি দান করার জন্য। আর তিনি কিডনি দিতে না চাইলে, ৩০ লক্ষ টাকার দাবি করেন তাঁরা। ইতিমধ্যে কানপুর চাকেরির পুলিশ পণের অভিযোগ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। ওই মহিলা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ২২ জুন, লখনউয়ের নিশান্ত কুমার নামের এক যুবককের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর পরিবার বিয়ে উপলক্ষে নগদ ৮ লক্ষ টাকা, বহু সোনার গয়না আর মহেন্দ্র থর এসইউভি গাড়ি যৌতুক হিসাবে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়িকে। ওই গৃহবধূ তাঁর অভিযোগে বলেন, বিয়ে কানপুরে আয়োজন করা হলেও, লখনউয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এসে তাঁকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

তিনি এও জানান, তাঁর স্বামীর তাঁর সঙ্গে কোনও শারীরিক সম্পর্ক নেই। তিনি অভিযোগে আরও বলেন, কখনও কখনও তাঁর শাশুড়ি এসে ছেলে-বৌমার মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়তেন। এছাড়া তাঁর শ্বশুর যখন-তখন তাঁর ঘরে ঢুকে পড়তেন। তাঁকে না জানিয়েই ঢুকতেন ঘরে। তাঁর অনুমতি ছাড়াই ছবি তুলে নিয়ে যেতেন। কিন্তু যখনই তিনি নিশান্তকে যৌন চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখনই সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান নিশান্ত। স্ত্রীকে অন্য কাউকে বিয়ে করতেও বলেন। ওই মহিলা জানান, তাঁর স্বামী দিনে অন্তত ১০টি ওষুধ খেতেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে যখন তিনি এই এতগুলো ওষুধ খাওয়ার কারণ জানতে চান, তখন তাঁরা উত্তরে বলেন, নিশান্ত উচ্চ রক্তচাপের রোগী। পরবর্তীকালে তিনি অন্য মহিলার সঙ্গে স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। নিশান্তের পরিবারও এই ব্যাপারে সবই জানাতো বলে অভিযোগ তাঁর। ওই মহিলা অভিযোগে আরও জানান, সমস্ত কিছু সহ্য করতে না পেরে অবশেষে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি তাঁর ননদকে এই ব্যাপারে সবটা খুলে বলেন। এরপরেই তাঁর ননদ হস্তক্ষেপে নিশান্ত স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হন।

পরবর্তীকালে ওই মহিলা তাঁর ননদকে শাশুড়ির একটি ফাইল লুকিয়ে রাখা কথা বলতে শোনেন। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে অবশেষে সেই ফাইল উদ্ধার করেন তিনি। আর তারপর তিনি সেই ফাইল দেখে একেবারে স্তম্ভিত হয়ে যান। নিশান্তের মেডিক্যাল রিপোর্টের ফাইল ছিল ওটি। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল নেশার কারণে ২০২২ সালে তাঁর দু’টো কিডনিই খারাপ হয়ে যায়। তাঁর ডায়ালিসিস চলার কথাও স্পষ্ট রিপোর্টে রয়েছে। এরপর যখন ওই মহিলার পরিবার নিশান্তের পরিবারের কাছে এই গোপনীয়তা নিয়ে জবাব চায়, তখন তারা জানায়, ‘হয় স্বামীর জন্য নিজের একটা কিডনি দাও, নতুবা ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড় করো।’ অবশেষে ২০২৪ সালে ১১ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই মহিলা চলে আসেন। তিনি অভিযোগে আরও জানান, তাঁর সমস্ত গয়না ও অন্যান্য দামী উপহার তাঁকে আনতে দেওয়া হয়নি শ্বশুরবাড়ি থেকে। তারপর থেকে ওই মহিলা কানপুরে বসবাস করছেন। পুলিশ ওই মহিলার স্বামী নিশান্ত ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ আধিকারিক অভিষেক পাণ্ডে বলেছেন, ‘তদন্ত চলছে। এখনও পুরো ঘটনার সত্যতা জানা যায়নি। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’