Women's Asia Cup: জঙ্গি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি নিতে চাননি হরমনরা,তাই মেয়েদের এশিয়া কাপ নিয়েও হাওয়া নকভি

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জেতে ভারতীয় মহিলা দল। ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ট্রফি ক্যাবিনেটে নতুন একটি শিরোপা যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ট্রফি দলের হাতে পৌঁছায়নি।

Published on: Sep 14, 2026, 08:06:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয়েও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের হাতে ওঠেনি ট্রফি। শুধু মহিলা দল নয়, গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জয়ের পরও একই ঘটনা ঘটেছিল। দুই ক্ষেত্রেই মূল কারণ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তাঁর হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জেতে ভারতীয় মহিলা দল। (HT_PRINT)
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জেতে ভারতীয় মহিলা দল। (HT_PRINT)

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জেতে ভারতীয় মহিলা দল। ফলে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ট্রফি ক্যাবিনেটে নতুন একটি শিরোপা যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ট্রফি দলের হাতে পৌঁছায়নি। কারণ, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরও মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হননি।

এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন BCCI সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। স্পোর্টস তক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিলের পাহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। জাতীয় স্বার্থ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মেনে ভারতীয় দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেললেও পাকিস্তানের কোনও প্রতিনিধির কাছ থেকে ট্রফি নেওয়ার বিষয়ে BCCI-এর আপত্তি রয়েছে।

সাইকিয়া আরও বলেন, ACC-তে ট্রফি দেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের অলিখিত প্রথা ছিল। তাঁর দাবি, জয় শাহ ACC চেয়ারম্যান থাকার সময়ও সাধারণত চ্যাম্পিয়ন দলকে সংশ্লিষ্ট দেশের সভাপতি বা সচিব ট্রফি তুলে দিতেন। কিন্তু গত বছরের এশিয়া কাপে সেই প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই আপত্তি তৈরি হয়।

BCCI সচিবের কথায়, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—যে ব্যক্তি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলেছেন, তাঁর হাত থেকে ভারত ট্রফি নেবে না। তাঁর বক্তব্য, দেশের স্বার্থই ভারতীয় দলের কাছে প্রথম এবং সেই কারণেই পুরুষদের পর এবার মহিলা দলের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তবে ভারত ট্রফি নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেনি। BCCI-এর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ACC-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ অথবা অন্য কোনও দায়িত্বশীল আধিকারিক যেন ট্রফি তুলে দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি সাইকিয়ার। ফলে ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হলেও ট্রফি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারেনি। তবে BCCI সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার বক্তব্য, ট্রফি হাতে থাকুক বা না থাকুক, ইতিহাস এবং স্কোরবোর্ডে ভারতই চ্যাম্পিয়ন। শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে যে অষ্টম এশিয়া কাপ ভারত জিতেছে, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, ট্রফি আজ না হলেও ভবিষ্যতে অবশ্যই BCCI-এর ট্রফি ক্যাবিনেটে পৌঁছবে। আপাতত ভারতীয় দলের লক্ষ্য ট্রফি বিতর্ক নয়, বরং সামনে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা।

অর্থাৎ মাঠে ভারত জয় ছিনিয়ে নিলেও মাঠের বাইরের কূটনীতির ছায়া কাটেনি। চ্যাম্পিয়ন ভারতের হাতে ট্রফি নেই, কিন্তু শিরোপা এবং গৌরব—দুটিই ভারতের নামেই লেখা হয়ে গেল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More