Rare melanoma in fish: ভয়ের খবর, এবার ছোঁয়াচে ক্যানসার! মিষ্টি জলের মাছের শরীরে মিল রোগের সন্ধান
First transmissible cancer in freshwater fish: ক্যানসার রোগটি সাধারণত কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে কোনো নির্দিষ্ট জীবের শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার’ অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।
Contagious cancer in aquatic animals: বিজ্ঞানের জগতে ক্যানসার সংক্রান্ত গবেষণায় সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য সামনে এসেছে। সাধারণত ক্যানসার কোনো সংক্রামক বা ছোঁয়াচে ব্যাধি নয়, যা এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন কিছু বিরল ব্যতিক্রম রয়েছে, যেখানে ক্যানসার এক জীব থেকে অন্য জীবে সংক্রমিত হয়। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা স্বাদু জলের মাছে প্রথমবারের মতো এমন এক সংক্রামক ক্যানসারের সন্ধান পেয়েছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের জগতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

স্বাদু জলের মাছে আবিষ্কৃত এই বিরল ক্যানসারটি হলো এক ধরণের মেলানোমা (Melanoma) বা ত্বকের ক্যানসার। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাদু জলের জলজ প্রাণীদের মধ্যে আবিষ্কৃত প্রথম সংক্রামক বা ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার (Transmissible Cancer)। বিজ্ঞানীদের এই বিরল আবিষ্কার, এর কার্যকারিতা এবং মাছের শরীরে কীভাবে এই মেলানোমা ছড়িয়ে পড়ছে—তা জেনে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন।
ক্যানসার রোগটি সাধারণত কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে কোনো নির্দিষ্ট জীবের শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার’ অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা, যেখানে ক্যানসার কোষগুলো পরজীবীর মতো এক প্রাণীর শরীর থেকে অন্য প্রাণীর শরীরে স্থানান্তরিত হতে পারে।
স্বাদু জলের মাছে প্রথম সংক্রামক মেলানোমা
বিজ্ঞানীরা গবেষণা চলাকালীন দেখতে পান যে, নির্দিষ্ট প্রজাতির স্বাদু জলের মাছের শরীরে বিশেষ এক ধরণের ক্ষতিকর কালো দাগ বা টিউমার তৈরি হচ্ছে, যা মূলত মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের রূপ। বিস্তারিত পরীক্ষায় উঠে আসে এক অবিশ্বাস্য তথ্য—এই ক্যানসার কেবল একটি মাছের শরীরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে না, বরং জলের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি স্পর্শের ফলে এক মাছ থেকে অন্য সুস্থ মাছের শরীরে স্থানান্তরিত হচ্ছে। স্বাদু জলের কোনো মাছের মধ্যে এই ধরণের ছোঁয়াচে ক্যানসার কোষের বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধি করার ঘটনা বিশ্বে এই প্রথম নথিভুক্ত হলো।
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার তথ্য
গবেষকরা জানান, এই ট্রান্সমিসিবল ক্যানসারের কোষগুলো মাছের প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে (Immune System) ফাঁকি দিতে সক্ষম। সাধারণত কোনো বহিরাগত কোষ শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাকে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু এই ক্যানসার কোষগুলো নিজেদের এমনভাবে মানিয়ে নিয়েছে যে, হোস্ট মাছের শরীর এদের চিনতে পারে না। এর ফলে ক্যানসার কোষগুলো অনায়াসে এক মাছের শরীর থেকে অন্য মাছের শরীরে প্রবেশ করে সেখানে দ্রুত টিউমার তৈরি করতে থাকে।
বিশ্ব পরিবেশ ও মানুষের ওপর প্রভাব কতটুকু?
এই আবিষ্কারের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই ক্যানসার কি মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর শরীরে ছড়াতে পারে? গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ক্যানসার কোষগুলো নির্দিষ্ট জলজ প্রজাতির বাস্তুতন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষের শরীরে এটি সংক্রামিত হওয়ার কোনো প্রমাণ বা আশঙ্কা নেই। তবে স্বাদু জলের মাছে এই ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব মাছের বংশবৃদ্ধি এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
স্বাদু জলের মাছে আবিষ্কৃত এই বিরল সংক্রামক মেলানোমা ক্যানসার গবেষণায় এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। কীভাবে ক্যানসার কোষগুলো এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়েও বেঁচে থাকে, তা গভীরভাবে বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মানবদেহের ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার চিকিৎসাবিজ্ঞানেও গুরুত্বপূর্ণ পথ মিলতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


