Pune Murder Case: দিওয়ালির পার্টিতে আলাপ, খুন! বাগদত্তাকে হত্যার আগে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা তরুণীর, ঘটনা জানলে শিউরে উঠবেন

Pune Murder Case: তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক পুলিশ কর্তা জানান, সিয়া গোয়েল একাধিকবার কেতন আগরওয়ালকে সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৩০০ ফুট উপরে অবস্থিত লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছিল। ৩১ মে ওই দম্পতি লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। 

Published on: Jun 25, 2026, 12:24:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pune Murder Case: একটি হত্যার ঘটনা ফের পুরো দেশের মানুষকে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করছে। পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন বিশাল আগরওয়াল মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। আর এই হত্যায় অভিযোগের তির তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের দিকে। অভিযোগ, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি মিলে খুন করেছেন কেতনকে। তাঁদের এই ষড়যন্ত্র এখন অনেকের কাছেই রূপোলি পর্দার রোমাঞ্চকর থ্রিলারকেও হার মানাচ্ছে, যা আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের বোধশক্তির বাইরে।

বাগদত্তাকে হত্যার আগে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা তরুণীর
বাগদত্তাকে হত্যার আগে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা তরুণীর

যে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে ভাবা হয়েছিল, সেটি কী আসলেই পূর্বপরিকল্পিত? পরিকল্পনা মাফিক খুন করা হয়েছে? এমনই এক তথ্য এবার সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গে তার বাগদত্তা কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা আগে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল তার প্রেমিক চেতনের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে দেখা করেছিলেন। তারপর ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা।

কী ঘটেছে সেই দিন?

অভিযোগ, গত ১৮ জুন ২৬ বছর বয়সি কেতনকে তার ২০ বছর বয়সি বাগদত্তা এবং তার ২২ বছর বয়সি প্রেমিক লোনাভলার বিখ্যাত লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুন করে। ফেব্রুয়ারিতে কেতনের সঙ্গে বাগদান হয়েছিল এবং নভেম্বরে রাজস্থানে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সিয়া কেতনের পরিবারকে জানায় ছবি তোলার সময় দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশের জেরায় ধরা পড়ে যায় গোপন সত্যি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশি জেরা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বয়ান থেকে এটি স্পষ্ট যে, সিয়া গোয়েল কোনওভাবেই কেতন আগরওয়ালকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না।

নিহত কেতন আগরওয়াল তাঁর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘সাকসেস গ্রুপ’-এর অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন, যা মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম লজিস্টিকস ও ওয়ারহাউস ডেভেলপার সংস্থাগুলোর অন্যতম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ওয়েলেসলিতে অবস্থিত ব্যাবসন কলেজের ‘এফডব্লিউ ওলিন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস’ থেকে সফলভাবে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০২৩ সালে পুণেতে ফিরে আসেন কেতন। এরপরই তিনি সক্রিয়ভাবে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে সিয়া ও কেতনের বাগদান হয়েছিল ধুমধাম করে। নভেম্বরে বিয়ের কথা ছিল। কেতনের পরিবার প্রায় ১৭ কোটি খরচ করে রাজস্থানে একটি প্রাসাদ বুক করে। অতিথিদের জন্য ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সিয়া নিজেও পুণের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। তবে আগরওয়াল পরিবারের সম্পূর্ণ অগোচরে, সিয়া ২২ বছর বয়সি চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। চেতনের পরিবারেরও পুণের সেই একই এলাকায় ব্যবসা রয়েছে, যেখানে সিয়ার বাবার ব্যবসা রয়েছে।

তদন্তে কী উঠে আসে?

তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক পুলিশ কর্তা জানান, সিয়া একাধিকবার কেতনকে সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৩০০ ফুট উপরে অবস্থিত লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছিল। ৩১ মে ওই দম্পতি লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। তিনি চার দিন পর আবার দুর্গটি পরিদর্শনের জন্য জোর করেন সিয়া। কিন্তু কেতনের মা তাঁকে দ্বিতীয়বার সেখানে যেতে দেননি। সিয়া জুনের ১৪ তারিখ পুনরায় সেখানে নিয়ে যায় কেতনকে। অভিযোগ, সেদিনই তাঁকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে, একটি ঝোপ ধরে ফেলায় প্রাণে বেঁচে যায় কেতন। কেতন যখন জিজ্ঞাসা করে কেন তাকে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন সিয়া সাপ ছিল বলে মিথ্যা বলে এবং এমন অভিনয় করে যে সে-ই তাকে বাঁচালো। কিন্তু ১৮ জুন আর শেষ রক্ষা হল না। এই দিন সকালে, সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন পুণের একটি ক্যাফেতে দেখা হয়ে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা দুর্গের মধ্যে সম্ভাব্য কিছু জায়গা চিহ্নিত করে, যেখান থেকে তারা কেতনকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলতে পারবে। তারপর বিকেলে সিয়া কেতনকে আবার দুর্গে নিয়ে যায় এবং চেতনও তাদের অনুসরণ করে সেই পথে হাঁটে। ট্রেকিং-এর সময় সে হাতের ইশারায় সিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। এরপর সিয়া ও চেতন পেছন থেকে কেতনকে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে ধরা পড়ল প্রেমিক চেতন?

সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, দম্পতিটিকে অনুসরণ করার সময় চেতন নিজের পরিচয় গোপন করতে একটি হুডি পরে। হুডির উপরে একটি হেডসেটও পরা ছিল। অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেতন হুডি পরা লোকটির দিকে তাকালে সে সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ে। এর থেকেই সন্দেহ হয়। পুলিশ ১৮ জুনের ওই নির্দিষ্ট সময়ের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখে যে, তা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এত গরমে কেউ কেন হুডি পরবে, তা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর পূর্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়া জানায় যে, কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে এই বাগদানে সে মোটেও খুশি ছিল না। পুণে গ্রামীণ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়ার দাবি, সে কেতনকে আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে তিনি এই সম্পর্ক আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না এবং বিয়ে বাতিল করার জন্যও তাঁকে অনুরোধ করেছিল। তবে সিয়ার অভিযোগ, তার প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেতন এই সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য জেদ ধরেছিল এবং বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতিতে একইভাবে চলছিল। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সিয়ার এই সমস্ত দাবি ও অভিযোগের সত্যতা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এত কম বয়সে বিয়েতে প্রবল আপত্তি থাকার মাঝেই চেতন চৌধুরির সঙ্গে সিয়ার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের জেরা এবং ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সিয়া নিজের জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছিল। কিন্তু পরিবারের প্রবল চাপের কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে এই বিয়ের প্রস্তাবে মত দিতে হয়েছিল। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত তরুণী মানসিকভাবে এই বিয়ের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। পরিবারের চাপেই তাকে এই প্রস্তাবে রাজি হতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তদন্তকারীরা এখন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন।

প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথোপকথন

তদন্তে আরও জানা গেছে যে, সিয়া ও চেতন গত সাত মাসে প্রায় ২৩৮ ঘণ্টায় ২,০০৪ বার ফোনে কথা বলেছিলেন। পুণে গ্রামীণ পুলিশের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কেতনের সঙ্গে বিয়ের অনেক আগেই। সিয়া ও চেতনের পরিচয় হয়েছিল গত বছর এক দিওয়ালির পার্টিতে। সেখান থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক মাসের মধ্যে ২ হাজারেরও বেশি বার দু’জনের ফোনে কথা হয় এবং প্রতিদিন প্রায় দীর্ঘ সময় ফোনে একে অন্যের সঙ্গে ব্যস্ত থাকতেন তাঁরা। কল রেকর্ড বলছে গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ২৩৪ ঘণ্টারও বেশি কথা হয়েছে সিয়া ও চেতনের। পুলিশ আরও দাবি করেছে, ফোনে কথা বলার পাশাপাশি শহরের একটি ক্যাফেতেও তাঁদের একাধিকবার দেখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেখানেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণে এই তথ্যগুলিতেই জোর দিচ্ছে পুলিশ।

অন্যদিকে অভিযুক্ত চেতনের পরিবারের দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। সিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল ঠিকই, কিন্তু কেতনকে খুন তিনি করেননি। বরং ঘটনার সময়ে তিনি কেতনের থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখান থেকে কেতনকে ঠেলে ফেলে দেওয়া অসম্ভব। চেতনের বাবা বাবুলাল চৌধুরির দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চেতন আমাকে স্পষ্ট জানিয়েছে, পাহাড়ের খাদের ধারে কেতনের একদম কাছে দাঁড়িয়েছিল সিয়া। চেতন সেখান থেকে অনেক দূরে ছিল।’ তবে সিয়াই কেতনকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।