স্বপ্নের গোলকধাঁধায় বিজ্ঞান! আমরা কেন স্বপ্ন দেখি? বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের নতুন ব্যাখ্যায় অমীমাংসিত রহস্য
প্রতি রাতে ঘুমের গভীরে আমরা এক অন্য জগতে প্রবেশ করি। কখনো আমরা উড়ছি, কখনো বা কোনো অজানা ভয়ের তাড়া খাচ্ছি। এই বিচিত্র অভিজ্ঞতাই হলো স্বপ্ন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিবর্তনের ধারায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্নের প্রয়োজন কী ছিল?
1 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে? এই প্রশ্নটি আদিমকাল থেকেই দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সাম্প্রতিককালে ফোর্বস (Forbes) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে একজন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী এই রহস্যের ওপর নতুন আলোকপাত করেছেন। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, তবুও স্বপ্নের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আজও গবেষকরা একমত হতে পারছেন না।
2 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
প্রতি রাতে ঘুমের গভীরে আমরা এক অন্য জগতে প্রবেশ করি। কখনো আমরা উড়ছি, কখনো বা কোনো অজানা ভয়ের তাড়া খাচ্ছি। এই বিচিত্র অভিজ্ঞতাই হলো স্বপ্ন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিবর্তনের ধারায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য স্বপ্নের প্রয়োজন কী ছিল? এই রহস্যের সমাধান খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা একাধিক রোমহর্ষক তত্ত্ব সামনে এনেছেন।
3 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
১. থ্রেট সিমুলেশন থিওরি (Threat Simulation Theory): বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী এবং ফিনল্যান্ডের কগনিটিভ নিউরোসায়েন্টিস্ট আন্তি রেভনসুয়োর মতে, স্বপ্ন হলো আমাদের এক ধরণের 'প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ'। আদিম যুগে মানুষকে হিংস্র পশুর আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে হতো। স্বপ্নে আমরা যখন কোনো বিপদের সম্মুখীন হই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক বাস্তবে সেই বিপদ মোকাবিলার কৌশল ঝালিয়ে নেয়। অর্থাৎ, যারা বেশি স্বপ্ন দেখতেন, বিবর্তনের লড়াইয়ে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা হয়তো বেশি ছিল।
4 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
২. সোশ্যাল রিহার্সাল (Social Rehearsal): মানুষ একটি সামাজিক প্রাণী। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, স্বপ্নের মাধ্যমে আমরা আমাদের সামাজিক সম্পর্ক এবং সংঘাতগুলো পরিচালনা করতে শিখি। স্বপ্নে প্রিয়জনের সাথে ঝগড়া বা বন্ধুর সাথে কাটানো সময়গুলো মূলত আমাদের মস্তিষ্কের একটি রিহার্সাল, যা বাস্তব জীবনে সম্পর্কগুলো আরও দক্ষভাবে সামলাতে সাহায্য করে।
5 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
৩. স্মৃতি সংরক্ষণ ও তথ্য বিন্যাস: স্নায়ুবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করেন যে, সারাদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যগুলোকে সাজানো এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলাই স্বপ্নের মূল কাজ। কম্পিউটার যেমন ডাটা ক্লিনআপ করে, আমাদের মস্তিষ্কও স্বপ্নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী ভাণ্ডারে (Long-term memory) জমা করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'মেমোরি কনসলিডেশন'।
6 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
৪. ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতার আধার: স্বপ্নের জগতে যুক্তি বা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম খাটে না। এই অসংলগ্নতাই আমাদের মস্তিষ্ককে নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। ইতিহাসের অনেক বড় বড় আবিষ্কার বা কালজয়ী সুরের জন্ম হয়েছে স্বপ্নের মাধ্যমে। যখন প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (যুক্তির অংশ) ঘুমিয়ে থাকে, তখন মস্তিষ্ক স্বাধীনভাবে বিভিন্ন আজব আইডিয়াকে জোড়া দিতে পারে।
7 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
৫. কোনো উদ্দেশ্যই নেই?: সবথেকে বিতর্কিত তত্ত্বটি হলো—স্বপ্নের হয়তো আদতে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যই নেই! কিছু বিজ্ঞানীর মতে, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক যখন তার স্বাভাবিক কাজকর্ম চালায়, তখন উপজাত (By-product) হিসেবে কিছু এলোমেলো ছবি বা অনুভূতি তৈরি হয়, যাকে আমরা স্বপ্ন বলি। এটি অনেকটা ইঞ্জিনের শব্দের মতো; যার কোনো কাজ নেই কিন্তু ইঞ্জিন চললে শব্দ হবেই।
8 / 8
Published on Apr 07, 2026 07:08 am IST
E-Paper

