...
...
Next Story

মিজোরামের মারাল্যান্ডে লুকিয়ে আছে এক রহস্য়ময় প্রেতাত্মার কাহিনি! সেই আহমাও-এর গল্প শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে

মারাল্যান্ডের লোককথা বা ফোকলোরের অন্যতম ভয়ংকর এক চরিত্র হলো ‘আহমাও’। এটি এমন এক প্রেতাত্মা, যে সারা রাত অরণ্যে ও পাহাড়ের ঢালে বিচরণ করে বেড়ায় এবং যার কান্নার আওয়াজ শুনলে বুক কেঁপে ওঠে স্থানীয়দের।

Published on: Feb 24, 2026 01:45 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

মিজোরামের দক্ষিণ প্রান্তের মারাল্যান্ড (Mara Autonomous District Council) এক রহস্যময় জনপদ। সেখানকার গভীর অরণ্য আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে লোকগাথার অদ্ভুত সব চরিত্র। মারাল্যান্ডের লোককথা বা ফোকলোরের অন্যতম ভয়ংকর এবং একই সাথে ট্র্যাজিক এক চরিত্র হলো 'আহমাও' (Ahmaw) বা 'এনগালেই আহমাও' (Ngalei Ahmaw)। এটি এমন এক প্রেতাত্মা, যে সারা রাত অরণ্যে ও পাহাড়ের ঢালে বিচরণ করে বেড়ায় এবং যার কান্নার আওয়াজ শুনলে বুক কেঁপে ওঠে স্থানীয়দের।

মিজোরামের মারাল্যান্ডে লুকিয়ে আছে এক রহস্য়ময় ভূতের কাহিনি! কেন আহমাও নিয়ে এত ভয়
মিজোরামের মারাল্যান্ডে লুকিয়ে আছে এক রহস্য়ময় ভূতের কাহিনি! কেন আহমাও নিয়ে এত ভয়

মিজোরামের মারা (Mara) উপজাতিদের বিশ্বাসে, মৃত্যু কেবল জীবনের শেষ নয়, বরং এক জগতের সীমান্ত পেরিয়ে অন্য জগতে প্রবেশ। কিন্তু কিছু আত্মা আছে যারা না পারে মানুষের পৃথিবীতে থাকতে, না পারে পরলোকে (মিজোদের প্রাচীন বিশ্বাসে যা 'মিথিখুয়া') পৌঁছাতে। 'আহমাও' হলো এমনই এক অস্থির আত্মা।

আহমাও ভূতের পরিচয় ও প্রকৃতি

'আহমাও' শব্দটি মারা ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ একাকী ঘুরে বেড়ানো আত্মা বা ছায়া। একে অনেক সময় 'এনগালেই আহমাও' বলা হয়, যেখানে 'এনগালেই' শব্দটির সাথে পাহাড়ি ঢাল বা ভূমির সম্পর্ক রয়েছে। লোককথা অনুযায়ী, আহমাও কোনো হিংস্র দানব নয়, বরং এটি একটি শোকাতুর প্রেতাত্মা। এর কোনো নির্দিষ্ট অবয়ব নেই; এটি মূলত একটি দীর্ঘদেহী ছায়ার মতো যা রাতের অন্ধকারে বনের কিনারে বা ঝোপের আড়ালে দেখা যায়।

এই ভূতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর শব্দ। গভীর রাতে মারাল্যান্ডের গ্রামগুলোর আশেপাশে এক ধরণের চাপা কান্নার শব্দ বা শিষ দেওয়ার মতো আওয়াজ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এটি আহমাও-এর ডাক। সে কাউকে আক্রমণ করে না, কিন্তু তার দর্শন পাওয়া বা তার ডাক শোনা অত্যন্ত অশুভ বলে গণ্য করা হয়।

উৎপত্তির ইতিহাস: এক করুণ লোকগাথা

প্রাচীন কালে যখন মারাল্যান্ডের মানুষ জুম চাষের জন্য গভীর অরণ্যে অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকত, তখন অনেক সময় বন্য পশুর আক্রমণে বা হঠাৎ অসুস্থতায় কেউ মারা গেলে তার সঠিক সৎগতি হতো না। মারাল্যান্ডের প্রাচীন বিশ্বাসে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া বা আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্য ছাড়া নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার আত্মা একাকিত্বে দগ্ধ হতে থাকে। সেই অতৃপ্ত আত্মাই পরবর্তীতে 'আহমাও' হিসেবে জন্ম নেয়। সে প্রতি রাতে তার হারানো প্রিয়জনদের বা তার পুরনো ঘরকে খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু কোনোদিনও সেখানে পৌঁছাতে পারে না।

লোকবিশ্বাসে আহমাও-এর প্রভাব

মারাল্যান্ডের গ্রামগুলোতে আজও বয়োজ্যেষ্ঠরা রাতে একা বের হতে নিষেধ করেন। তাঁদের মতে:

  • শিশুদের জন্য বিপদ: আহমাও কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি না করলেও, কোনো শিশু যদি তার ডাক শোনে বা তার ছায়া দেখে ফেলে, তবে সে ভয়ে জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে।
  • পথিকের বিভ্রান্তি: বলা হয়, গভীর জঙ্গলে পথ চলা পথিকের সামনে আহমাও অনেক সময় পরিচিত মানুষের অবয়বে দেখা দেয় এবং পথ ভুলিয়ে গভীর অরণ্যে নিয়ে যায়।
  • ধর্মীয় প্রভাব: খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর মিজোরামের অনেক প্রাচীন বিশ্বাস ফিকে হয়ে গেলেও, অরণ্য-নির্ভর মারাদের কাছে আহমাও-এর অস্তিত্ব আজও একটি রহস্যময় ভয় হয়ে টিকে আছে।

আহমাও কেবল একটি ভুতুড়ে কাহিনি নয়, এটি মারাল্যান্ডের মানুষের একাকিত্বের ভীতি এবং প্রকৃতির রহস্যের এক প্রতিচ্ছবি। এটি এমন এক আত্মা, যে নিজেই যন্ত্রণাকাতর। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের আলোয় এই গল্পগুলো কল্পকথা মনে হতে পারে, কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকসংস্কৃতির গভীরে আহমাও আজও এক অমর ছায়া হয়ে বিচরণ করছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe