ভগবান বিষ্ণু থুতু থেকেই তৈরি হয় এই বৃক্ষ! এর প্রতিটি অংশে দেব-দেবীর বাস, জানেন কি পুরাণের এই কাহিনি

এই দিনটি কেবল উপবাসের জন্য নয়, বরং আমলকী বৃক্ষ এবং ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আরাধনার জন্য পরিচিত। আমলকী একাদশী পালনের মাধ্যমে ভক্তরা মোক্ষ লাভ এবং জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি পান বলে বিশ্বাস করা হয়।

Published on: Feb 18, 2026, 12:08:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতের মহিমা অপরিসীম, তবে ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী বা আমলকী একাদশী একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই দিনটি কেবল উপবাসের জন্য নয়, বরং আমলকী বৃক্ষ এবং ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আরাধনার জন্য পরিচিত। আমলকী একাদশী পালনের মাধ্যমে ভক্তরা মোক্ষ লাভ এবং জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি পান বলে বিশ্বাস করা হয়।

ভগবান বিষ্ণু থুতু থেকেই তৈরি হয় এই বৃক্ষ! এর প্রতিটি অংশে দেব-দেবীর বাস
ভগবান বিষ্ণু থুতু থেকেই তৈরি হয় এই বৃক্ষ! এর প্রতিটি অংশে দেব-দেবীর বাস

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিকে আমলকী একাদশী হিসেবে পালন করা হয়। একে অনেক জায়গায় 'আমলকি একাদশী' বা 'ফল্গু একাদশী'ও বলা হয়। এই দিনটিতে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি আমলকী বৃক্ষের পূজা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

আমলকী একাদশী কেন পালন করা হয়?

পুরাণ মতে, আমলকী বৃক্ষ ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। বিশ্বাস করা হয় যে, সৃষ্টির শুরুতে যখন ভগবান বিষ্ণু থুতু ফেলেন, তখন সেখান থেকেই আমলকী বৃক্ষের উৎপত্তি ঘটে। এই বৃক্ষের প্রতিটি অংশে দেব-দেবীর বাস। এর মূলে বিষ্ণু, কাণ্ডে ব্রহ্মা, এবং শাখা-প্রশাখায় শিব ও ঋষিদের অবস্থান বলে মানা হয়। আমলকী একাদশী পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভ করা এবং সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু অর্জন করা।

আমলকী একাদশীর পৌরাণিক কাহিনি

পদ্মপুরাণ ও ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ অনুসারে, প্রাচীনকালে বৈদিশ নামে এক সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল। সেখানকার রাজা চৈত্ররথ এবং প্রজারা সকলেই ছিলেন পরম বিষ্ণুভক্ত। একবার ফাল্গুন মাসের এই একাদশী তিথিতে রাজা এবং সকল প্রজা নদীর তীরে একটি আমলকী গাছের নিচে রাত্রি জাগরণ করে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করছিলেন।

সেই সময় এক ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত ব্যাধ সেখানে এসে পৌঁছায়। সে দূর থেকে এই পূজা এবং ভক্তদের ভজন-কীর্তন লক্ষ্য করতে থাকে। সেই ব্যাধ অজান্তেই সারারাত জেগে থাকে এবং কিছুই আহার না করায় তার অজান্তেই আমলকী একাদশী ব্রত পালিত হয়ে যায়। কালক্রমে সেই ব্যাধের মৃত্যু হলে, একাদশীর প্রভাবে সে পরবর্তী জন্মে এক মহান প্রতাপশালী রাজা হিসেবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে। এই কাহিনী থেকে বোঝা যায় যে, এই ব্রত এতটাই শক্তিশালী যে না জেনে পালন করলেও অসীম পুণ্য লাভ হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্র ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, আমলকী একাদশী এমন এক সময়ে আসে যখন ঋতু পরিবর্তন ঘটে। এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ঔষধি গুণ রয়েছে। জ্যোতিষ মতে:

  • চন্দ্রের প্রভাব: একাদশীর দিন মানুষের মনের ওপর চন্দ্রের প্রভাব বেশি থাকে। ব্রত পালনের ফলে মন শান্ত ও সংযত হয়।
  • গ্রহদোষ খণ্ডন: কোষ্ঠীতে যাদের বুধ বা বৃহস্পতি দুর্বল, আমলকী বৃক্ষের নিচে প্রদীপ জ্বালানো এবং পূজা করা তাদের জন্য অত্যন্ত শুভ।
  • মোক্ষ লাভ: এই একাদশীর প্রভাবে জাতকের জন্মকুণ্ডলীর অনেক নেতিবাচক প্রভাব কেটে যায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে।

পালনের নিয়মাবলী

১. সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরে বিষ্ণুর পূজা করা হয়।

২. আমলকী গাছকে জল দিয়ে অভিষেক করা হয় এবং ধূপ-দীপ দেখানো হয়।

৩. এই দিন চাল বা শস্য জাতীয় খাবার বর্জন করে ফলমূল গ্রহণ করা শ্রেয়।

৪. পরের দিন অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে ব্রত পারণ করে দরিদ্রদের দান করা কর্তব্য।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More