হিন্দু ধর্মে অম্বুবাচী তিথিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়। ২০২৬ সালের অম্বুবাচী তিথি জুন মাসেই পড়ছে। জুন মাসে আর কয়েকদিন পরই এই তিথি রয়েছে।

লোকবিশ্বাস অনুসারে ,আষাঢ় মাসের ৭ তারিখে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদের সমাপ্তিতে ধরিত্রী মা রজঃস্বলা হন। ফলত জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন ধরিত্রী। যেহেতু ঋতুমতী নারীরাই সন্তান ধারণে সক্ষম হন, তাই এই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রীও সুফলা হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই এই অম্বুবাচী তিথি পালিত হয়। ভারতের একাধিক স্থানে অম্বুবাচী উৎসব, রজঃউৎসব নামেও পালিত হয়।
চলতি বছরে অম্বুবাচী ২২ জুন শুরু। পঞ্জিকা অনুসারে চলতি বছরে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিঃ অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন, সোমবার অর্থাৎ ৭ আষাঢ় রাত ৯.৩৮ মিনিটে। আর তিথির নিবৃত্তি ১১ আষাঢ় রাত ঘ ৯.৩৩ মিনিটে, অর্থাৎ ১১ আষাঢ় ২৬ জুন শেষ হবে এই তিথি।
অম্বুবাচী তিথি উপলক্ষ্যে অসমের কামাক্ষ্যা মন্দিরে বিশেষ পুজো করা হয়। সেই পুজো উপলক্ষ্যে দেশের নানান প্রান্ত থেকে বহু সাধু সন্ন্যাসীর ভিড় হয়। সেখানে চলে তন্ত্র সাধনা। বহু দিন ধরে সেখানে চলে তন্ত্র সাধনা। এদিনে এই অম্বুবাচীর বিশেষ তিথিতে কোনও গাছ পোঁতা বা তা তোলা হয় না। মনে করা হয়, এই সময় মাটি খুঁড়লে ধরিত্রী মাকে কষ্ট দেওয়া হয়। সেই বিশ্বাস থেকে এই নিয়ম পালিত হয়। অম্বুবাচীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু আচার অনুষ্ঠান। এই তিনদিন সন্ন্যাসী এবং বৈধব্যে থাকা মানুষরা বিশেষ ভাবে পালন করেন। এদিকে, অম্বুবাচীর এই ৩ দিন কোনও শুভ কাজও এই কয়েকদিন নিষিদ্ধ থাকে। শুধু তাই নয়, অম্বুবাচী চলাকালীন কৃষিকাজ বন্ধ রাখা হয়। তিনদিন পর অম্বুবাচী শেষ হলে, ফের কোনও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান ও চাষাবাদ শুরু হয়।