Guru Purnima 2026 date and time: সনাতন ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথির এক বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। এই পবিত্র দিনটি শাস্ত্রীয়ভাবে ‘আষাঢ় পূর্ণিমা’ এবং সারা বিশ্বজুড়ে ‘গুরু পূর্ণিমা’ (Guru Purnima) হিসেবে পরম ভক্তিভরে পালিত হয়। গুরু পূর্ণিমার দিনটি মূলত মানবসমাজের সমস্ত পথপ্রদর্শক, শিক্ষক এবং গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দিন। মহাভারত ও বহু পৌরাণিক গ্রন্থের রচিয়তা মহর্ষি বেদব্যাসের জন্মজয়ন্তী হিসেবেও এই পবিত্র তিথিটি উদযাপিত হয়।

২০২৬ সালের আষাঢ় পূর্ণিমা বা গুরু পূর্ণিমার সঠিক দিনক্ষণ, শুভ সময় ও পুজো অর্চনার শুভ মুহূর্ত এবং এর গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনের সমস্ত মানসিক অন্ধকার দূর করে গুরুকৃপা লাভ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পাওয়ার সহজ উপায় জেনে নিন।
বৈদিক ঐতিহ্য অনুসারে, ‘গুরু’ শব্দের অর্থ হলো যিনি অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যান। গুরু পূর্ণিমার দিন নিষ্ঠার সাথে গুরুপূজন করলে জীবন সুশৃঙ্খল হয় এবং আত্মিক উন্নতি ঘটে।
আষাঢ় পূর্ণিমা ও গুরু পূর্ণিমার শুভ দিনক্ষণ ও তিথি
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হতে চলেছে এই মহোৎসব।
- পূর্ণিমা তিথি শুরু: পূর্ণিমা তিথি সূচনার সঠিক সময় থেকে শুরু করে উদয়া তিথি মেনে সারা দিনব্যাপী ভক্তরা স্নান, দান এবং গুরু পূজনের বিশেষ সুযোগ পাবেন।
- শুভ মুহূর্ত: ব্রাহ্ম মুহূর্তে (ভোরবেলা) গঙ্গাস্নান বা যেকোনো পবিত্র নদীতে স্নান সেরে দান-ধ্যান করা অত্যন্ত অলৌকিক ফলদায়ক বলে গণ্য হয়।
গুরু পূজনের সহজ ও সঠিক পূজাবিধি
গুরু পূর্ণিমার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু বিশেষ নিয়ম ও আচার মেনে চলা উচিত:
{{/usCountry}}গুরু পূর্ণিমার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু বিশেষ নিয়ম ও আচার মেনে চলা উচিত:
{{/usCountry}}১. স্নান ও সঙ্কল্প: সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার হলুদ বা শুভ্র বস্ত্র পরিধান করুন। এরপর মনে মনে নিজের গুরু ও পরমাত্মাকে স্মরণ করে পূজার সঙ্কল্প নিন।
২. মহর্ষি বেদ ব্যাস ও গুরুর আরাধনা: পূজার বেদীতে মহর্ষি বেদব্যাসের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে ধূপ, প্রদীপ ও হলুদ ফুল নিবেদন করুন। যাঁদের নিজস্ব দীক্ষাগুরু বা শিক্ষা গুরু রয়েছেন, তাঁরা গুরুর চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করুন এবং গুরুকে ফল, মিষ্টি ও বস্ত্র উপহার দিন।
৩. চন্দ্রদেব ও ভগবান বিষ্ণুর পূজা: আষাঢ় পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রদেবকে দুধ ও জলের অর্ঘ্য নিবেদন করা শুভ। একই সাথে জগতগুরু ভগবান শ্রী হরি বিষ্ণুর কৃপা পেতে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
গুরু পূর্ণিমা ও আষাঢ় পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
- মহর্ষি বেদব্যাসের আগমন: বেদকে চার ভাগে বিভক্তকারী মহর্ষি বেদব্যাস এই তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনটিকে ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ও বলা হয়ে থাকে।
- গুরু কৃপায় ভাগ্যোদয়: জ্যোতিষশাস্ত্রে বৃহস্পতিকে গুরুর গ্রহ মনে করা হয়। যাদের কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি দুর্বল বা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে বাধা আসছে, তাঁরা এই দিনে গুরুজনদের সেবা করলে ও হলুদ রঙের খাদ্য সামগ্রী (যেমন ছোলার ডাল, চাল, গুড়) দান করলে গ্রহদোষ দূর হয়।
- মানসিক শান্তি ও সুখ-সমৃদ্ধি: আষাঢ় পূর্ণিমায় লক্ষ্মী-নারায়ণের পূজার সাথে সাথে অন্ন ও বস্ত্র দান করলে ঘরে স্থায়ী আর্থিক সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
গুরু পূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের জীবনের প্রকৃত পথপ্রদর্শকদের সম্মান জানানোর এক মহৎ দিন। আষাঢ় পূর্ণিমার এই পরম পুণ্য তিথিতে ভক্তিভরে গুরুদের স্মরণ করলে ও শুভ তিথিতে দান-ধ্যান করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও পরম মুক্তির পথ সুগম হয়।