বাঙালির সংস্কৃতিতে ভাইফোঁটা এক অনবদ্য উৎসব, যা ভাই-বোনের মধ্যেকার নিবিড় প্রীতির বন্ধনকে উদযাপন করে। প্রতি বছর কালীপূজা বা দীপাবলির ঠিক দু’দিন পর, কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই পুণ্য তিথিটি পালিত হয়, যা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা যমদ্বিতীয়া নামেও সুপরিচিত।
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার তিথি ও শুভক্ষণ

পঞ্জিকা মতে, ২০২৫ সালে এই পবিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, এই তিথির সূচনা হচ্ছে তার পূর্ববর্তী দিন অর্থাৎ ২২ অক্টোবর রাতে।
২০২৫ সালের তিথির সময়সূচি
দ্বিতীয়া তিথি আরম্ভ: ২২ অক্টোবর, বুধবার, রাত ৮টা ১৬ মিনিট।
দ্বিতীয়া তিথি সমাপ্ত: ২৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, রাত ১০টা ৪৬ মিনিট।
শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুসারে, যখন দ্বিতীয়া তিথি দিনের বেলায়, বিশেষত অপরাহ্ণ কালে (দিনের মধ্যভাগ থেকে সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়) বিদ্যমান থাকে, তখনই ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়। সেই কারণে, ২২ অক্টোবর রাতে তিথি শুরু হলেও, ২৩ অক্টোবর দিনটিই ভাইফোঁটার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, কারণ এই দিনেই শুভ অপরাহ্ণ মুহূর্তটি পাওয়া যাচ্ছে।
ফোঁটা দেওয়ার শুভ মুহূর্ত
বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুসারে, ২৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেওয়ার শুভ মুহূর্ত শুরু হচ্ছে দুপুর ১টা ১৩ মিনিট থেকে এবং তা চলবে বিকাল ৩টে ২৮ মিনিট পর্যন্ত। এই ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের শুভ সময়ে বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে, ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে এবং মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
উৎসবের পৌরাণিক তাৎপর্য
ভাইফোঁটার উৎপত্তি নিয়ে হিন্দু পুরাণে একটি বিশেষ কাহিনি প্রচলিত। সূর্যপুত্র যমরাজ ও যমুনা দেবীর প্রীতিময় সম্পর্ক থেকেই এই উৎসবের জন্ম। কথিত আছে, কার্তিক শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনাদেবী তাঁর ভাই যমকে সাদরে আপ্যায়ন করে তাঁর কপালে ফোঁটা দেন। যমদেব এতে অত্যন্ত প্রীত হয়ে যমুনাকে বরদান করেন যে, এই দিনে যে বোন তার ভাইকে ফোঁটা দেবে, সেই ভাইয়ের কোনো অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না। সেই থেকে এই তিথি যমদ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। এই প্রথা মেনেই বোনেরা ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে— "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা..."। এর মাধ্যমে ভাই-বোনের সম্পর্ক কেবল পারিবারিক বন্ধনেই নয়, এক ধর্মীয় পবিত্রতার মোড়কে চিরস্থায়ী হয়।
{{/usCountry}}ভাইফোঁটার উৎপত্তি নিয়ে হিন্দু পুরাণে একটি বিশেষ কাহিনি প্রচলিত। সূর্যপুত্র যমরাজ ও যমুনা দেবীর প্রীতিময় সম্পর্ক থেকেই এই উৎসবের জন্ম। কথিত আছে, কার্তিক শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনাদেবী তাঁর ভাই যমকে সাদরে আপ্যায়ন করে তাঁর কপালে ফোঁটা দেন। যমদেব এতে অত্যন্ত প্রীত হয়ে যমুনাকে বরদান করেন যে, এই দিনে যে বোন তার ভাইকে ফোঁটা দেবে, সেই ভাইয়ের কোনো অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না। সেই থেকে এই তিথি যমদ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। এই প্রথা মেনেই বোনেরা ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে— "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা..."। এর মাধ্যমে ভাই-বোনের সম্পর্ক কেবল পারিবারিক বন্ধনেই নয়, এক ধর্মীয় পবিত্রতার মোড়কে চিরস্থায়ী হয়।
{{/usCountry}}