...
...
Next Story

সনাতন মতে, এমন পবিত্র দিন কমই আছে! ভানু সপ্তমীর মাহাত্ম্য জানলে অবাক হয়ে যাবেন

শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথি রবিবার দিনে পড়ে, তখন তাকে ভানু সপ্তমী বলা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনটি সূর্যদেবের জন্মতিথি বা সৃষ্টির আদিতে সূর্যের প্রথম উদয়ের দিন হিসেবে পালিত হয়।

Published on: Feb 08, 2026 11:23 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

সনাতন ধর্মে সূর্যদেবের আরাধনার জন্য নির্দিষ্ট তিথিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো 'ভানু সপ্তমী'। যখন শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথি রবিবার দিনে পড়ে, তখন তাকে ভানু সপ্তমী বলা হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিনটি সূর্যদেবের জন্মতিথি বা সৃষ্টির আদিতে সূর্যের প্রথম উদয়ের দিন হিসেবে পালিত হয়।

সনাতন মতে, এমন পবিত্র দিন কমই আছে! ভানু সপ্তমীর মাহাত্ম্য জানলে অবাক হয়ে যাবেন
সনাতন মতে, এমন পবিত্র দিন কমই আছে! ভানু সপ্তমীর মাহাত্ম্য জানলে অবাক হয়ে যাবেন

ভানু সপ্তমীর মাহাত্ম্য, আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা জেনে নিন।

ভানু সপ্তমী আসলে কী?

'ভানু' সূর্যদেবের অন্যতম নাম। রবিবারের অধিপতিও সূর্যদেব। তাই রবিবারের সাথে সপ্তমীর এই সংযোগকে অত্যন্ত পুণ্যদায়ক মনে করা হয়। এই দিনটিকে হিন্দু ধর্মে 'সূর্য সপ্তমী' বা 'রথ সপ্তমী'র মতোই পবিত্র বলে গণ্য করা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই দিনে ভক্তিভরে সূর্য আরাধনা করলে সারা বছরের সূর্য পূজার ফল এক দিনে লাভ করা সম্ভব।

সনাতন ধর্মে এর গুরুত্ব কেন এত বেশি?

১. আরোগ্য ও জীবনীশক্তি: সূর্য হলো সকল শক্তির উৎস। ভানু সপ্তমীতে সূর্য স্নান এবং অর্ঘ্য নিবেদন করলে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে চর্মরোগ ও চোখের সমস্যায় এই তিথিতে পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।

২. পাপ ক্ষালন: গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, এই দিনে গঙ্গা বা কোনো পবিত্র নদীতে স্নান করলে সাত জন্মের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়।

জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যকে সমস্ত গ্রহের রাজা এবং আত্মার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ভানু সপ্তমীর জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় তাৎপর্য হলো:

  • রবি-যোগের প্রভাব: এই দিনে আকাশে এক বিশেষ ইতিবাচক শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটে। যাদের কুণ্ডলীতে সূর্য দুর্বল বা অশুভ অবস্থানে আছে, তাদের জন্য এই দিনটি দোষ খণ্ডনের মহেন্দ্রক্ষণ।
  • মান-সম্মান ও ক্যারিয়ার: সূর্য সরকারি চাকরি ও উচ্চ পদের কারক। জ্যোতিষীদের মতে, ভানু সপ্তমীতে আদিত্য হৃদয় স্তোত্র পাঠ করলে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি এবং মান-সম্মান বৃদ্ধি পায়।
  • আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: যাদের মনে সর্বদা ভয় বা দ্বিধা থাকে, সূর্যের এই বিশেষ তিথিতে পূজা করলে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক তেজ বহুগুণ বেড়ে যায়।

ভানু সপ্তমীতে করণীয় নিয়মাবলি

  • অর্ঘ্য দান: তামার পাত্রে জল, লাল চন্দন, চাল এবং লাল ফুল মিশিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিন।
  • দান কার্য: এই দিনে গম, গুড় বা তামা দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
  • মন্ত্র জপ: 'ওঁ সূর্যায় নমঃ' বা গায়ত্রী মন্ত্র ১০৮ বার জপ করা ফলদায়ক।
  • খাদ্যাভ্যাস: এদিন লবণ ছাড়া খাবার গ্রহণ করা বা উপবাস রাখা অনেক ভক্তের কাছে রীতি।

ভানু সপ্তমী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি প্রকৃতির শক্তির সাথে নিজেকে সংযুক্ত করার একটি সুযোগ। মহাজাগতিক এই বিশেষ দিনে সূর্যদেবের আরাধনা আপনাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং রোগ থেকে সুস্থতার পথে নিয়ে যেতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe