ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক খাওয়ার প্রথা বাঙালি সংস্কৃতিতে এক গভীর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য বহন করে। শাস্ত্রমতে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন ১৪ শাক খাওয়া হয় ও কী উপকারিতা পাওয়া যায়।
১. পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার শান্তি

১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ: ভূত চতুর্দশীর দিন ১৪টি শাক খাওয়া হয় পূর্বপুরুষদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রতীক হিসেবে। বিশ্বাস করা হয়, মৃত্যুর পর মানুষের দেহ প্রকৃতির পঞ্চভূতে (মাটি, জল, বাতাস, অগ্নি, আকাশ) বিলীন হয়ে যায়। যেহেতু এই শাকগুলি মাটি থেকেই জন্মায়, তাই মাটির সঙ্গে মিশে থাকা বিগত ১৪ পুরুষের (সাত পুরুষের পিতৃ ও মাতৃকুল) আত্মার শান্তি কামনায় এই শাক খাওয়া হয়।
মর্ত্যে আগমন: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কালীপুজোর আগের এই তিথিতে (কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী) স্বর্গ ও নরকের দরজা খুলে যায় এবং পিতৃপুরুষের আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাঁদেরকে সম্মান জানাতে ও তাঁদের আশীর্বাদ পেতে এই ১৪ শাক খাওয়া এবং ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে।
আরও পড়ুন - দীপাবলির আগে পরে ঘর বদলাচ্ছেন বুধ! বাম্পার অফার কেরিয়ারে, প্রেমেও খুলবে কপাল
আরও পড়ুন - ধনতেরাসের দিন শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন এই জিনিসগুলি! পূরণ হবে সমস্ত ইচ্ছে
২. অশুভ শক্তি ও ভূত-প্রেত বিদায়
{{/usCountry}}আরও পড়ুন - ধনতেরাসের দিন শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন এই জিনিসগুলি! পূরণ হবে সমস্ত ইচ্ছে
২. অশুভ শক্তি ও ভূত-প্রেত বিদায়
{{/usCountry}}অশুভ শক্তির বিনাশ: লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে মা কালী তাঁর চামুণ্ডা রূপ ধারণ করে ১৪ জন ভূতকে সঙ্গে নিয়ে ভক্তের বাড়ি থেকে সমস্ত অশুভ শক্তি ও ভূত-প্রেতাত্মাকে বিতাড়িত করতে মর্ত্যে আসেন। ১৪ শাক খেলে বাড়ি থেকে অশুভ শক্তি বিদায় হয় এবং গৃহস্থের মঙ্গল হয় বলে মনে করা হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ঋকবেদের শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণ ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের বাড়ি অপরিষ্কার রাখতেন। এর ফলে সেই বাড়িতে অশুভ শক্তি বা ভূতের উপদ্রব শুরু হয়। তখন ব্রাহ্মণ ১৪ ধরনের গাছের পাতা দিয়ে পুরো বাড়িতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করেন এবং ১৪ শাক রান্না করে খান। এই কাহিনি স্মরণ করে এখনও ঘর পরিষ্কার করে, ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ১৪ শাক খেয়ে অশুভ শক্তিকে নাশ করার রীতি প্রচলিত।
৩. যমরাজের আশীর্বাদ লাভ
যম চতুর্দশী: ভূত চতুর্দশীর অপর নাম হল 'যম চতুর্দশী'। এই দিন ১৪ জন যমরাজের (যেমন: ধর্মরাজ, মৃত্যু, অন্তক, বৈবস্বত, কাল ইত্যাদি) উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, এই শাক খেলে যমরাজ তুষ্ট হন এবং অকালমৃত্যু বা নরকের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৪. নরকাসুর বধের স্মৃতি
নরক চতুর্দশী: দক্ষিণ ভারতে এই তিথিটি 'নরক চতুর্দশী' নামে পরিচিত। পুরাণ অনুসারে, এই দিন শ্রীকৃষ্ণ ও সত্যভামা দানব নরকাসুরকে বধ করেছিলেন। নরকাসুর বধের আনন্দ ও প্রতীকী অর্থে অশুভের বিনাশকে স্মরণ করে এই শাক খাওয়ার রীতি চালু হয়েছে।
শাস্ত্রীয় মতে ১৪ শাক খাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল
১. ১৪ জন পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি ও আশীর্বাদ লাভ করা।
২. অশুভ শক্তি ও ভূত-প্রেত থেকে পরিবারকে রক্ষা করা।
৩. ১৪ জন যমের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করা।