জ্যোতিষবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে চন্দ্রগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ প্রায় একই সরলরেখায় আসে এবং পৃথিবীর ছায়ার কারণে চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তখন এই গ্রহণ হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, গ্রহণকে একটি অশুভ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়, যে কারণে এই সময়ে সমস্ত প্রকার শুভ কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকে। ধারণা করা হয়, গ্রহণের অশুভ প্রভাব কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং তার সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
আগামী বছর ২০২৬ সালে মোট দু’টি চন্দ্রগ্রহণ

প্রথম চন্দ্রগ্রহণ: ৩ মার্চ, ২০২৬
২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি হবে ৩ মার্চ, মঙ্গলবার। এটি একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ (খণ্ডগ্রাস) হবে এবং এই গ্রহণটি ভারত থেকে দেখা যাবে।
সময়কাল: গ্রহণের শুরু সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিট থেকে শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, এই গ্রহণের মোট সময়কাল হবে মাত্র ২০ মিনিট।
বিশেষত্ব: এই গ্রহণটি ফাল্গুন পূর্ণিমার দিনে ঘটবে এবং এই দিনেই হোলিকা দহন উৎসব রয়েছে।
সূতক কাল: যেহেতু এটি ভারতে দৃশ্যমান হবে, তাই এর সূতক কাল ভারতে মান্য হবে। সূতক কাল শুরু হবে সেই দিন সকাল ৯টা ৩৯ মিনিট থেকে।
দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬
বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণটি সংঘটিত হবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট, শুক্রবার।
দৃশ্যমানতা: এই গ্রহণটি ভারতে দেখা যাবে না।
সূতক কাল: ভারতে দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে, এই গ্রহণের সূতক কাল ভারতে মান্য হবে না। তবে জ্যোতিষীয় মতে দূরবর্তী কোনও প্রভাব থাকতে পারে।
গ্রহণকালে বর্জনীয় কাজ
চন্দ্রগ্রহণ যেহেতু অশুভ সময় হিসেবে বিবেচিত, তাই এই সময় কিছু কাজ কঠোরভাবে বর্জনীয়:
{{/usCountry}}চন্দ্রগ্রহণ যেহেতু অশুভ সময় হিসেবে বিবেচিত, তাই এই সময় কিছু কাজ কঠোরভাবে বর্জনীয়:
{{/usCountry}}১. খাবার ও পানীয়: গ্রহণ চলাকালীন খাবার রান্না করা বা খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়।
২. পূজা ও মন্দির: এই সময় পূজা-অর্চনা করা বা মন্দিরে দেব-দেবীর মূর্তিতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. ধারালো বস্তু: ছুরি, কাঁচি, সুঁই-সুতো বা অন্য কোনও ধারালো বস্তু ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪. নতুন কাজ: কোনও ধরনের নতুন কাজ শুরু করা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৫. অন্যান্য: এই সময় শরীরে তেল মাখা, কেনাকাটা করা বা খোলা জায়গায় যাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।