আজ ২৮ আগস্ট ২০২৬, পঞ্চাঙের হিসাব অনুযায়ী উদযাপিত হচ্ছে এই বছরের অন্যতম প্রধান মহাজাগতিক ইভেন্ট—চন্দ্রগ্রহণ (Chandra Grahan)। জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডলে এবং জ্যোতির্মণ্ডলে অশুভ ও সংবেদনশীল শক্তির বিস্তার ঘটে বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে গ্রহণের সুতক কাল (Sutak Period) চলাকালীন কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজ না করার নির্দেশ দেয় শাস্ত্র।

গ্রহণের অশুভ ছায়া থেকে রক্ষা পেতে এবং গ্রহণের পর জীবন থেকে রাহুর নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে ‘স্নান ও দান’-এর বিশেষ বিধান রয়েছে। শাস্ত্র মতে, গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নিজের রাশি অনুযায়ী নির্দিষ্ট বস্তু দান করলে শারীরিক পীড়া, মানসিকভাবে অস্থিরতা ও আর্থিক অনটন দূর হয়। আজকের চন্দ্রগ্রহণের সঠিক সময়সূচী, সুতক কালের নিয়ম এবং গ্রহণ শেষে রাশিভিত্তিক দান সংক্রান্ত বিস্তৃত গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. আজ চন্দ্রগ্রহণের সময়সূচী ও সুতক কাল
বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে চন্দ্রগ্রহণের সুতক কাল গ্রহণের ঠিক ৯ ঘণ্টা আগে শুরু হয় এবং গ্রহণ সমাপ্তি পর্যন্ত বহাল থাকে:
- গ্রহণের সূচনার সময়: আজ ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর/বিকেলের দিকে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
- সুতক কালের সময়সীমা: গ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে সুতক কাল কার্যকর হয়েছে।
- সুতক কালের বিধিনিষেধ: সুতক কাল চলাকালীন পূজার ঘর বন্ধ রাখা, রান্না করা ও খাবার গ্রহণ এড়িয়ে চলা (বৃদ্ধ, অসুস্থ ও শিশুদের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে) এবং কোনো ধারালো জিনিস বা ছুরি-কাঁচি ব্যবহার না করাই শাস্ত্রসম্মত।
২. গ্রহণ শেষ হওয়ার পর কী করবেন?
চন্দ্রগ্রহণ পুরোপুরি শেষ হওয়া মাত্রই শুভ ফল পেতে কয়েকটি জরুরি কাজ করা বাধ্যতামূলক:
- ১. গঙ্গাস্নান বা গৃহ স্নান: গ্রহণ শেষ হওয়া মাত্রই স্নান সেরে নেওয়া উচিত। স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিলে গ্রহণজনিত অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
- ২. ঘর-দুয়ার ও পূজার স্থান শুদ্ধিকরণ: গ্রহণ শেষে পুরো ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পূজার ঘর পরিষ্কার করুন এবং ঠাকুরঘরে দীপ প্রজ্জ্বলন করুন।
- ৩. দান-ধ্যান: গ্রহণের সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার হলো দান। দুঃস্থ, অনাথ বা গরিব মানুষকে দান করলে গ্রহণের পর গ্রহদোষ কাটে।
- ৩. চন্দ্রগ্রহণ ২০২৬: ১২ রাশি অনুযায়ী বিশেষ দানের তালিকা
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আপনার রাশি অনুযায়ী যে যে বস্তু দান করা পরম কল্যাণকর:
{{/usCountry}}চন্দ্রগ্রহণ পুরোপুরি শেষ হওয়া মাত্রই শুভ ফল পেতে কয়েকটি জরুরি কাজ করা বাধ্যতামূলক:
- ১. গঙ্গাস্নান বা গৃহ স্নান: গ্রহণ শেষ হওয়া মাত্রই স্নান সেরে নেওয়া উচিত। স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে নিলে গ্রহণজনিত অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
- ২. ঘর-দুয়ার ও পূজার স্থান শুদ্ধিকরণ: গ্রহণ শেষে পুরো ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পূজার ঘর পরিষ্কার করুন এবং ঠাকুরঘরে দীপ প্রজ্জ্বলন করুন।
- ৩. দান-ধ্যান: গ্রহণের সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার হলো দান। দুঃস্থ, অনাথ বা গরিব মানুষকে দান করলে গ্রহণের পর গ্রহদোষ কাটে।
- ৩. চন্দ্রগ্রহণ ২০২৬: ১২ রাশি অনুযায়ী বিশেষ দানের তালিকা
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আপনার রাশি অনুযায়ী যে যে বস্তু দান করা পরম কল্যাণকর:
{{/usCountry}}১. মেষ রাশি (Aries):
- গ্রহণ শেষে গম, গুড়, মসুর ডাল বা লাল রঙের বস্ত্র দান করুন। এতে কাজের জায়গায় বাধা দূর হবে।
২. বৃষ রাশি (Taurus):
- সাদা বস্ত্র, চাল, দুধ, চিনি বা সাদা মিষ্টি দান করা শুভ। এর ফলে পারিবারিক জীবনে শান্তি বজায় থাকবে।
৩. মিথুন রাশি (Gemini):
- সবুজ মুগ ডাল, সবুজ বস্ত্র বা কাঁচা শাকসবজি দান করুন। এটি বাচনিক তেজ বাড়াতে সাহায্য করবে।
৪. কর্কট রাশি (Cancer):
- চন্দ্রের নিজস্ব রাশি হওয়ায় শাঁখ, রূপার বস্তু, চাল বা শ্বেত বস্ত্র দান করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক।
৫. সিংহ রাশি (Leo):
- তামার পাত্র, গুড়, তিল বা কেশর দান করলে পদ-মর্যাদা ও মান-সম্মান বৃদ্ধি পায়।
৬. কন্যা রাশি (Virgo):
- সবুজ ডাল, গাভীকে সবুজ ঘাস বা বই-খাতা দান করুন। অর্থনৈতিক অনটন কেটে যাবে।
৭. তুলা রাশি (Libra):
- আটর চাল, দুধ, ঘি, রূপা বা সাদা রঙের সুগন্ধি দ্রব্য দান করলে ব্যবসায় উন্নতি হবে।
৮. বৃশ্চিক রাশি (Scorpio):
- লাল চন্দন, লাল বস্ত্র, গুড় বা মুগ ডাল দান করুন। শত্রু ভয় দূর হবে।
৯. ধনু রাশি (Sagittarius):
- হলুদ বস্ত্র, ছোলার ডাল, হলুদ, সোনা বা ছাতু দান করা পরম কল্যাণকর।
১০. মকর রাশি (Capricorn):
- কালো তিল, অড়হর ডাল, সর্ষের তেল বা ছাতা দান করুন। শনির শুভ নজর বজায় থাকবে।
১১. কুম্ভ রাশি (Aquarius):
- কালো কাপড়, তিলের তেল বা লোহাজাতীয় বস্তু দুঃস্থদের দান করলে মানসিক স্থিরতা ফিরে আসবে।
১২. মীন রাশি (Pisces):
- হলুদ মিষ্টি, কেশর, ধর্মীয় বই বা ছোলার ডাল দান করুন। ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলে যাবে।
আজকের এই চন্দ্রগ্রহণের সময় ঈশ্বর আরাধনায় মন দিন। গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে স্নান করে আপনার রাশি মেনে দান-ধ্যান সম্পন্ন করলে গ্রহ দোষের ভয় কেটে গিয়ে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি সুনিশ্চিত হবে।