দেবোত্থানী একাদশী হিন্দু ধর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু চার মাসের যোগনিদ্রা থেকে জাগ্রত হন এবং এর মাধ্যমেই সমস্ত শুভ ও মাঙ্গলিক কাজের সূচনা হয়। তাই এই তিথিকে 'দেব উত্থান একাদশী' বা 'প্রবোধিনী একাদশী'ও বলা হয়।
২০২৫ সালে দেবোত্থানী একাদশী তিথি

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৫ সালে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিটি পড়েছে ১লা নভেম্বর, শনিবার। এই দিনেই দেবোত্থানী একাদশী পালন করা হবে। এই তিথি শুরু হচ্ছে ১লা নভেম্বর সকাল ৯টা ১১ মিনিট থেকে এবং শেষ হচ্ছে ২রা নভেম্বর সকাল ৭টা ৩১ মিনিটে।
বিয়ের বাধা কাটাতে করণীয়
দেবোত্থানী একাদশী যেহেতু ভগবান বিষ্ণুর জাগরণের দিন এবং এই দিন থেকেই বিবাহসহ অন্যান্য শুভ কাজ শুরু হয়, তাই এই তিথিতে বিয়ের বাধা কাটাতে কিছু বিশেষ উপায় অবলম্বন করা যায়।
১. তুলসী বিবাহ: এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর শালগ্রাম শিলার (বা তার প্রতিরূপ) সঙ্গে দেবী তুলসীর বিবাহ দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই বিবাহ অনুষ্ঠান ভক্তিভরে সম্পন্ন করলে শ্রীহরি ও তুলসী দেবীর আশীর্বাদে বিবাহের পথে আসা বাধা দূর হয় এবং দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন - Vrischika Rashi Astrology: বৃশ্চিক রাশিতে বড় খেলা! ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়বে জোড়়া গ্রহের মিলনে, কারা লাকি?
আরও পড়ুন - Vastu Tips Coriander Seeds: রান্নাঘরের ধনেবীজই দূর করবে ৪ বিপদ! বাস্তু মেনে রাখুন এভাবে, জানুন এর ক্ষমতা
{{/usCountry}}আরও পড়ুন - Vastu Tips Coriander Seeds: রান্নাঘরের ধনেবীজই দূর করবে ৪ বিপদ! বাস্তু মেনে রাখুন এভাবে, জানুন এর ক্ষমতা
{{/usCountry}}২. হলুদ রঙের ব্যবহার: দেবোত্থানী একাদশীতে হলুদ রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এটি ভগবান বিষ্ণু ও বৃহস্পতি গ্রহের প্রিয় রং। বৃহস্পতি বিবাহ এবং দাম্পত্য জীবনের কারক গ্রহ। তাই এই দিনে হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করা, হলুদ চন্দনের তিলক লাগানো এবং ভগবান বিষ্ণুকে হলুদ ফুল (যেমন গাঁদা) নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।
৩. বিষ্ণু পুজো ও মন্ত্র জপ: এই দিনে নিষ্ঠা ভরে ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর পুজো করুন। 'ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়' মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করা শুভ। দ্রুত বিবাহের জন্য দেবোত্থানী একাদশীর দিন নারায়ণের মন্ত্র ও স্তুতি পাঠ করলে ফল পাওয়া যায়।
৪. তুলসী গাছে জল অর্পণ: যারা বিবাহের জন্য বাধা বা বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছেন, তারা শুদ্ধ জল ও সামান্য হলুদ মিশিয়ে তুলসী গাছে নিবেদন করতে পারেন এবং এই সময় বিবাহের বাধা দূর হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে পারেন।
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এখানে লেখা সব কথা আগামী দিনে সত্য প্রমাণিত হবে, এমন দাবি করা হচ্ছে না। জ্যোতিষশাস্ত্র সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন বা কোনও সমস্যার সমাধানের জন্য পেশাদার জ্যোতিষীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।