...
...
Next Story

রামায়ণের ভুলে যাওয়া চরিত্র ধন্যমালিনী, রাক্ষসরাজের দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরাট ভূমিকার কথা অনেকেই জানেন না

রাবণ এবং ধন্যমালিনীর জীবন, তাঁদের সম্পর্ক এবং পৌরাণিক ইতিহাসে তাঁর স্থানের কথা অনেকেই জানেন না। অথচ সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

Published on: Feb 21, 2026, 13:09:59 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

রামায়ণের বিশাল ক্যানভাসে আমরা রাক্ষসরাজ রাবণের কথা উঠলেই তাঁর প্রধানা মহিষী মন্দোদরীর কথা ভাবি। কিন্তু বাল্মীকি রামায়ণ এবং বিশেষ করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পরবর্তী পুরাণগুলোতে রাবণের অন্যান্য স্ত্রীদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম রহস্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র হলেন ধন্যমালিনী। তিনি ছিলেন লঙ্কেশ্বর রাবণের দ্বিতীয়া পত্নী।

রামায়ণের ভুলে যাওয়া চরিত্র ধন্যমালিনী, রাক্ষসরাজের দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা জানেন কি
রামায়ণের ভুলে যাওয়া চরিত্র ধন্যমালিনী, রাক্ষসরাজের দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা জানেন কি

রাবণ এবং ধন্যমালিনীর জীবন, তাঁদের সম্পর্ক এবং পৌরাণিক ইতিহাসে তাঁর স্থানের কথা অনেকেই জানেন না।

লঙ্কার রাজপ্রাসাদে সহস্রাধিক সুন্দরী রমণী থাকলেও মন্দোদরীর পরেই যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল, তিনি হলেন ধন্যমালিনী। মহাকাব্যের অনেক স্থানে তাঁকে রাবণের পরম সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতী পত্নী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে মন্দোদরীর আদর্শবাদ এবং চারিত্রিক গভীরতার আড়ালে ধন্যমালিনী অনেকটা আবছা চরিত্র হিসেবেই রয়ে গেছেন।

ধন্যমালিনীর পরিচয় ও বংশধারা

অধিকাংশ পুরাণ এবং রামায়ণের ভাষ্য অনুযায়ী, ধন্যমালিনী ছিলেন মায়াসুর ও অপ্সরা হেমার কন্যা, অর্থাৎ তিনি মন্দোদরীর সহোদরা বোন। কোনো কোনো লোককথা অনুযায়ী, মায়াসুর তাঁর দুই কন্যাকেই রাবণের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ধন্যমালিনী কেবল রাবণের পত্নীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাঁর একান্ত অনুগতা এবং লঙ্কার অন্তপুরের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

ধন্যমালিনী ও রাবণের সন্তানরা

ধন্যমালিনী এবং রাবণের মিলনে বেশ কয়েকজন বীরপুত্রের জন্ম হয়েছিল। যদিও অনেক জায়গায় মেঘনাদকে (ইন্দ্রজিৎ) মন্দোদরীর পুত্র বলা হয়, তবে অনেক সংস্করণে দাবি করা হয় যে রাবণের দুর্ধর্ষ পুত্র অতিকায় (Atikaya) ছিলেন ধন্যমালিনীর গর্ভজাত। অতিকায় ছিলেন এক বীর যোদ্ধা, যিনি রাম-রাবণের যুদ্ধে প্রবল পরাক্রম দেখিয়েছিলেন এবং লক্ষ্মণের হাতে নিহত হন। এছাড়া নরান্তক ও দেবান্তক নামক দুই পুত্রকেও অনেক জায়গায় ধন্যমালিনীর সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সীতার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি

রাম-রাবণের মহাযুদ্ধে ধন্যমালিনী তাঁর প্রিয় সন্তানদের একে একে হারিয়েছেন। বিশেষ করে পুত্র অতিকায়ের মৃত্যু তাঁকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে যখন রাবণের পতন হয়, তখন মন্দোদরীর সঙ্গে তিনিও শোকাতুর হৃদয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। রামায়ণের পরবর্তী বর্ণনাগুলোতে ধন্যমালিনীর শেষ জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য না থাকলেও, তিনি লঙ্কার ট্র্যাজেডির এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে ইতিহাসে থেকে গেছেন।

কেন তিনি স্বল্প পরিচিত?

রামায়ণের মূল ধারার গল্পে নীতিবোধ ও আদর্শের প্রতীক হিসেবে মন্দোদরীকে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, ধন্যমালিনী ছিলেন রাবণের গার্হস্থ্য জীবনের অংশ, যা মূল যুদ্ধের গল্পের সঙ্গে সরাসরি খুব বেশি সম্পৃক্ত নয়। তবে আঞ্চলিক রামায়ণগুলোতে (যেমন কৃত্তিবাসী রামায়ণ বা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন লোকগাথা) ধন্যমালিনীর মাতৃত্ব ও তাঁর করুণ পরিণতির বর্ণনা পাওয়া যায়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe