আজ ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থী, আজকের দিনে ভুলেও কোন কাজ করতে নেই জানেন তো? এগুলি করলে রুষ্ট হবেন গণপতি
কথিত আছে, বারানসীর বা কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রবেশদ্বারে গণেশের যে রূপটি বিরাজমান, সেটিই 'ঢুণ্ডিরাজ' রূপ। এই তিথিতে উপবাস রেখে গণপতির আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিল বাধা বা বিঘ্ন দূর হয় এবং গৃহে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হচ্ছে অত্যন্ত পবিত্র ঢুণ্ডিরাজ গণেশ চতুর্থী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে গণেশ বন্দনা করা আবশ্যিক। তবে ফাল্গুন মাসের এই চতুর্থী তিথিটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এই দিনেই ভগবান গণেশ 'ঢুণ্ডিরাজ' রূপে পূজিত হন।

২০২৬ সালের ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থীর শুভক্ষণ, পূজাবিধি এবং এর মাহাত্ম্য জেনে নিন। বিঘ্নহর্তা গণেশের বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়ার দিন আজ। জেনে নিন আজকের শুভ মুহূর্ত, পূজাবিধি ও গুরুত্ব।
ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিটি উত্তর ভারতে 'ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থী' এবং মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে 'বিনায়ক চতুর্থী' হিসেবে পালিত হয়। কথিত আছে, বারানসীর বা কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রবেশদ্বারে গণেশের যে রূপটি বিরাজমান, সেটিই 'ঢুণ্ডিরাজ' রূপ। এই তিথিতে উপবাস রেখে গণপতির আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিল বাধা বা বিঘ্ন দূর হয় এবং গৃহে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
২০২৬ ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থীর শুভ মুহূর্ত ও তারিখ
২০২৬ সালের পঞ্চাঙ্গ বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থী পালিত হবে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার।
- চতুর্থী তিথি শুরু: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:৩০ মিনিটে।
- চতুর্থী তিথি শেষ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১২:১৫ মিনিটে।
- পূজার শুভ সময়: ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১:১০ মিনিট থেকে দুপুর ০১:৩০ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে পূজা সম্পন্ন করা অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়।
ঢুণ্ডিরাজ গণেশের স্বরূপ ও মাহাত্ম্য
'ঢুণ্ড' শব্দের অর্থ হলো অনুসন্ধান করা। ভক্তদের বিশ্বাস, যারা জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাচ্ছেন না বা বিপথে চালিত হচ্ছেন, ঢুণ্ডিরাজ গণেশ তাঁদের সঠিক পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। কাশীতে বিশ্বনাথের দর্শনের আগে ঢুণ্ডিরাজ গণেশকে প্রণাম করার প্রথা দীর্ঘদিনের। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর অনুমতি ছাড়া কাশীর ফল লাভ করা সম্ভব নয়।
পূজাবিধি: কীভাবে করবেন পূজা?
১. স্নান ও সংকল্প: চতুর্থীর দিন সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ বস্ত্র পরিধান করুন। এরপর গণেশ মূর্তির সামনে বসে উপবাসের সংকল্প নিন।
২. স্থাপন: একটি কাঠের পিঁড়িতে লাল কাপড় পেতে গণেশ প্রতিমা স্থাপন করুন। গঙ্গাজল দিয়ে মূর্তি বা ছবি পবিত্র করুন।
৩. নৈবেদ্য: গণেশের প্রিয় দুর্বা ঘাস, লাল ফুল এবং সিঁদুর নিবেদন করুন। নৈবেদ্য হিসেবে মোদক বা লাড্ডু অবশ্যই দিন।
৪. মন্ত্র জপ: পূজার সময় 'ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ' অথবা 'ওঁ ঢুণ্ডিরাজে নমঃ' মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন।
৫. আরতি ও দান: পূজা শেষে গণেশ আরতি করুন এবং ব্রাহ্মণ বা অভাবী মানুষকে সাধ্যমতো ফল বা মিষ্টি দান করুন।
যা করবেন না
চতুর্থীর দিনে ভুল করেও তুলসী পাতা গণেশকে অর্পণ করবেন না, কারণ শাস্ত্রে এটি নিষিদ্ধ। এছাড়াও এই দিনে চাঁদ দেখা বর্জন করা উচিত বলে অনেক এলাকায় লোকবিশ্বাস রয়েছে, কারণ তা মিথ্যে কলঙ্কের ভয় তৈরি করতে পারে।
ভক্তি ও বিশ্বাসের সাথে ঢুণ্ডিরাজ চতুর্থী পালন করলে কেবল জাগতিক সুখ নয়, বরং মানসিক শান্তি ও প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটে। আপনি যদি নতুন কোনো ব্যবসা বা পড়াশোনা শুরু করতে চান, তবে ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনটি আপনার জন্য পরম কল্যাণকর হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


