Shani dev cursed by Parvati: হিন্দু সনাতন ধর্মে শনিদেবকে কর্মফলের দেবতা এবং পরম ন্যায়বিচারক হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত শনিদেবের নাম শুনলেই মানুষ ভয় বা আশঙ্কার মধ্যে পড়ে যান। কিন্তু পৌরাণিক কাহিনী বলছে, শনিদেবের এই রূপ, তাঁর দৃষ্টির তীব্রতা এবং তাঁর শারীরিক গঠনে অঙ্গহীনতার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অলৌকিক লীলা। ‘গণেশ পুরাণ’-এ বর্ণিত এক অতীব রহস্যময় উপাখ্যান অনুযায়ী, মাতা পার্বতীর একটি তীব্র অভিশাপই কীভাবে পরবর্তীতে শনিদেবের জন্য এক পরম মহাবরদানে পরিণত হয়েছিল এবং তাঁকে ‘যোগীন্দ্র’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল, সেই ইতিহাস অত্যন্ত চমৎকার।

মহর্ষি বেদব্যাস রচিত গণেশ পুরাণের কথা অনুযায়ী, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল শিব-পার্বতীর পুত্র গণেশ জির জন্মের পর। যখন আদিপুজ্য গণেশ জির প্রাকট্য বা জন্ম হলো, তখন কৈলাসে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সমস্ত দেবী-দেবতা, যক্ষ, গন্ধর্ব এবং ঋষিমুনিরা শিশু গণেশের অলৌকিক রূপ দর্শন করার জন্য কৈলাসে এসে উপস্থিত হন। সেই মহাসভায় আমন্ত্রিত হয়ে স্বয়ং সূর্যপুত্র শনিদেবও এসে পৌঁছান।
শনির ক্রুর দৃষ্টি ও মাতা পার্বতীর ক্রোধ
মাতা পার্বতী তখন এক মহামূল্যবান রত্নখচিত স্বর্ণ সিংহাসনে বসেছিলেন এবং তাঁর চারপাশে অসংখ্য সখীরা পরিবৃত হয়ে সেবা করছিলেন। শনিদেব সভাকক্ষে উপস্থিত হয়ে জগতমাতা উমাকে প্রণাম করে স্তুতি করতে লাগলেন। কিন্তু প্রণাম করার সময় শনিদেব নিজের মস্তক বা মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে রেখেছিলেন এবং অত্যন্ত দ্বিধাবোধ করছিলেন। তিনি কোনোভাবেই শিশু গণেশের দিকে সরাসরি তাকাচ্ছিলেন না।
আসলে, নিজের স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া একটি অভিশাপের কারণে শনিদেবের দৃষ্টি অত্যন্ত ক্রুর ও বিনাশকারী হয়ে উঠেছিল, যার ফলে তিনি যার দিকেই তাকাতেন, তারই অমঙ্গল হতো। এই কারণেই শনিদেব শিশু গণেশের অকল্যাণ এড়াতে চোখ নিচু করে রেখেছিলেন। কিন্তু মাতা পার্বতী শনিদেবের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হন। তাঁর মনে হয়, শনিদেব ইচ্ছা করেই তাঁর আনন্দের দিনে মুখ লুকিয়ে রাখছেন এবং তাঁর পুত্রকে দেখতে অস্বীকার করে অবজ্ঞা করছেন। ক্রুদ্ধ হয়ে মাতা পার্বতী তৎক্ষণাৎ শনিদেবকে অভিশাপ দিয়ে বসেন, "তুমি এই ভরা সভার মাঝেই অঙ্গহীন অর্থাৎ পঙ্গু হয়ে যাও"!
দেবতাদের অসন্তোষ ও ব্রহ্মার হস্তক্ষেপ
মাতা পার্বতীর এই কঠোর অভিশাপের কারণে নির্দোষ শনিদেব সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গহীন বা ল্যাংড়া হয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে সভায় উপস্থিত শনিদেবের পিতা সূর্যদেব, মহর্ষি কশ্যপ এবং যমরাজ অত্যন্ত ক্রোধ প্রকাশ করেন। সূর্যদেব বলেন যে, তাঁর পুত্রের বিন্দুমাত্র দোষ ছিল না, সে কেবল মায়ের আজ্ঞা পালন করতেই চোখ নিচু রেখেছিল। কশ্যপ মুনি ও যমরাজও বলেন যে, শনিদেবের প্রতি দয়া দেখানোর পরিবর্তে এই শাস্তি দেওয়া অন্যায় হয়েছে। পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য দেবতারাও রুষ্ট হতে শুরু করেন, তখন পরমপিতা ব্রহ্মা এসে সবাইকে শান্ত করেন এবং মাতা পার্বতীকে তাঁর ভুল বুঝতে সাহায্য করেন।
অভিশাপ যখন পরিণত হলো ‘যোগীন্দ্র’ বরদানে
{{/usCountry}}মাতা পার্বতীর এই কঠোর অভিশাপের কারণে নির্দোষ শনিদেব সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গহীন বা ল্যাংড়া হয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে সভায় উপস্থিত শনিদেবের পিতা সূর্যদেব, মহর্ষি কশ্যপ এবং যমরাজ অত্যন্ত ক্রোধ প্রকাশ করেন। সূর্যদেব বলেন যে, তাঁর পুত্রের বিন্দুমাত্র দোষ ছিল না, সে কেবল মায়ের আজ্ঞা পালন করতেই চোখ নিচু রেখেছিল। কশ্যপ মুনি ও যমরাজও বলেন যে, শনিদেবের প্রতি দয়া দেখানোর পরিবর্তে এই শাস্তি দেওয়া অন্যায় হয়েছে। পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য দেবতারাও রুষ্ট হতে শুরু করেন, তখন পরমপিতা ব্রহ্মা এসে সবাইকে শান্ত করেন এবং মাতা পার্বতীকে তাঁর ভুল বুঝতে সাহায্য করেন।
অভিশাপ যখন পরিণত হলো ‘যোগীন্দ্র’ বরদানে
{{/usCountry}}নিজের অনিচ্ছাকৃত ভুল বুঝতে পেরে মহামায়া মাতা পার্বতী মৃদু হেসে ব্রহ্মা জির উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি যদি ক্রোধের বশে অভিশাপ দিতে পারেন, তবে অনুতাপের পর পরম স্নেহে বরদানও দিতে পারেন। এরপর তিনি সূর্যদেব ও শনিদেবসহ সমস্ত দেবতাকে সেখানে পুনরায় আহ্বান করেন।
মাতা পার্বতী শনিদেবের পরম বিষ্ণুভক্তি দেখে অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং বলেন, "হে শনি! তুমি ভগবান শ্রীহরির অত্যন্ত প্রিয় পাত্র। আমার এই অভিশাপই আজ থেকে তোমার জীবনে মহাবরদান হয়ে উঠবে। আমার বরে তুমি সমস্ত গ্রহদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও ‘গ্রহরাজ’ হিসেবে পুজিত হবে। আজ থেকে তুমি যোগীদের মধ্যে পরম যোগী অর্থাৎ ‘যোগীন্দ্র’ (Yogindra) রূপ ধারণ করবে এবং চিরঞ্জীবী হবে।" মাতা পার্বতী আরও বলেন যে, যারা পরম হরি-ভক্ত বা ঈশ্বরের চরণে সমর্পিত, শনিদেবের দশা বা ক্রুর দৃষ্টি তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
গণেশ পুরাণের এই পবিত্র গাথা আমাদের শেখায় যে, ঈশ্বরের লীলা অত্যন্ত অদ্ভুত। বাহ্যিকভাবে যা অভিশাপ বা দুঃখ বলে মনে হয়, ঈশ্বরের চরণে ভক্তি এবং ধৈর্য বজায় রাখলে তা একসময় পরম আশীষে বা বরদানে রূপান্তরিত হয়। মাতা পার্বতীর সেই কৃপাতেই শনিদেব আজও ভক্তদের জন্য ন্যায়দণ্ডধারী পরম ‘যোগীন্দ্র’ রূপে বন্দিত হন।