বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে যে বিষয়গুলো নিয়ে সবথেকে বেশি আলোচনা ও উৎকণ্ঠা দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো 'মাঙ্গলিক দোষ' (Manglik Dosh)। বিশেষ করে বিয়ের সময় কোষ্ঠী মেলাতে গিয়ে এই দোষের কথা শুনলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মাঙ্গলিক দোষের প্রকৃত অর্থ, এর প্রভাব এবং এটি কাটানোর সহজ ও কার্যকরী উপায় জেনে নিন।

সনাতন হিন্দু ধর্মে বিয়ের সময় পাত্র-পাত্রীর গুণ ও গ্রহের অবস্থান মেলানো এক প্রাচীন ঐতিহ্য। এই মেলবন্ধনের সময় সবথেকে বড় বাধা হিসেবে ধরা হয় মাঙ্গলিক দোষকে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কারো জন্মকুণ্ডলীর প্রথম, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ স্থানে মঙ্গল গ্রহ অবস্থান করলে সেই জাতক বা জাতিকাকে 'মাঙ্গলিক' বলা হয়। তবে এই দোষ নিয়ে সমাজে যত ভয় রয়েছে, তার সঠিক প্রতিকারও কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্রে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে।
মাঙ্গলিক দোষের প্রভাব: কেন এত সতর্কতা?
মঙ্গলকে সাহসিকতা, শক্তি ও রাগের কারক মনে করা হয়। মাঙ্গলিক দোষ থাকলে সাধারণত বৈবাহিক জীবনে অশান্তি, সঙ্গীর সাথে মতবিরোধ বা বিয়ের কাজে অযথা দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে জ্যোতিষবিদদের মতে, সব মাঙ্গলিক দোষই ক্ষতিকারক নয়। যদি কুণ্ডলীতে শনি বা গুরু বৃহস্পতির শুভ দৃষ্টি মঙ্গলের ওপর পড়ে, তবে এই দোষের অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।
মাঙ্গলিক দোষ কাটানোর অব্যর্থ প্রতিকার
অমর উজালায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি কারোর কুণ্ডলীতে এই দোষ প্রবল থাকে, তবে নিচের প্রতিকারগুলো পালন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়:
{{/usCountry}}অমর উজালায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি কারোর কুণ্ডলীতে এই দোষ প্রবল থাকে, তবে নিচের প্রতিকারগুলো পালন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়:
{{/usCountry}}১. হনুমান আরাধনা:
মাঙ্গলিক দোষের সবথেকে বড় প্রতিকার হলো বজরংবলীর সেবা করা। মঙ্গল গ্রহের অধিপতি দেবতা হলেন হনুমানজি। প্রতি মঙ্গলবার এবং শনিবার হনুমান চালিসা বা সুন্দরকাণ্ড পাঠ করলে মঙ্গলের অশুভ তেজ প্রশমিত হয়।
২. কুম্ভ বিবাহ বা ঘট বিবাহ:
যদি কোনো জাতিকা প্রবল মাঙ্গলিক হন, তবে মূল বিয়ের আগে ভগবান বিষ্ণু বা কোনো পবিত্র ঘটে (কলসি) সাথে প্রতীকী বিয়ে দেওয়া হয়। একে 'কুম্ভ বিবাহ' বলা হয়। এর ফলে মাঙ্গলিক দোষের নেতিবাচক প্রভাবটি সেই কলসি বা মূর্তির ওপর সঞ্চারিত হয় এবং মূল বিবাহ সুখের হয়।
৩. নির্দিষ্ট দান ও খাদ্যভ্যাস:
মঙ্গলবার দিন লাল মুসুর ডাল, লাল কাপড় বা গুড় দান করা অত্যন্ত শুভ। এছাড়া এই দিনে আমিষ খাবার এবং মদ্যপান এড়িয়ে চললে গ্রহের স্থিতি অনুকূল থাকে।
৪. লাল চন্দনের ব্যবহার:
স্নানের জলে সামান্য লাল চন্দন মিশিয়ে স্নান করলে বা কপালে লাল চন্দনের তিলক পরলে শরীরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং মন শান্ত থাকে।
৫. মাঙ্গলিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন:
জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, একজন মাঙ্গলিক জাতকের সাথে অন্য একজন মাঙ্গলিক জাতিকার বিয়ে হলে উভয়ের কুণ্ডলীতে থাকা মঙ্গলের প্রভাব একে অপরকে প্রশমিত করে দেয়। একে 'দোষ সাম্য' বলা হয়।
সামাজিক ভ্রান্তি বনাম বাস্তবতা
মাঙ্গলিক দোষ মানেই বিবাহ বিচ্ছেদ বা সঙ্গীর মৃত্যু নয়। এটি কেবল একটি চারিত্রিক ও গ্রহগত বৈশিষ্ট্য যা মানুষকে কিছুটা জেদী বা রাগী করে তুলতে পারে। সঠিক কাউন্সেলিং এবং ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে এই দোষ থাকা সত্ত্বেও মানুষ অত্যন্ত সুখী জীবনযাপন করতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে সঠিক জ্যোতিষীয় পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।