...
...
Next Story

শুক্রবার দুর্গা চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, মা দুর্গা হলেন সকল শক্তির উৎস। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে জগজ্জননীর আরাধনা করেন, তিনি সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত থাকেন।

Published on: Aug 14, 2026, 07:11:37 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে দেবী আদিশক্তি মহামায়া মা দুর্গার আরাধনার জন্য শুক্রবার দিনটি পরম পুণ্যময় ও অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হয়। বৈদিক জ্যোতিষ ও সনাতন ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শুক্রবারে দেবী দুর্গার কৃপা লাভের জন্য ব্রত পালন এবং স্তোত্র পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ‘শ্রী দুর্গা চালিশা’ (Shri Durga Chalisa) হলো মা দুর্গার বীরত্ব, মহিমা, শত্রুবিনাশী রূপ এবং কৃপাবারি সম্বলিত ৪০টি পদের এক ঐশ্বরিক স্তোত্র।

শুক্রবার দুর্গা চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
শুক্রবার দুর্গা চালিশা পাঠের অলৌকিক সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

প্রতি শুক্রবারে নিয়ম মেনে পরম ভক্তিভরে দুর্গা চালিশা পাঠ করলে জীবনের সমস্ত ভয়, বাধা-বিপত্তি, অশুভ শক্তি এবং মানসিক অশান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়। শুক্রবার দুর্গা চালিশা পাঠের অপরিসীম উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ দুর্গা চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, মা দুর্গা হলেন সকল শক্তির উৎস। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে জগজ্জননীর আরাধনা করেন, তিনি সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত থাকেন।

শুক্রবার দুর্গা চালিশা পাঠের অশেষ উপকারিতা

প্রতি শুক্রবারে শ্রী দুর্গা চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • ভয় ও শত্রু বিনাশ: দুর্গা চালিশার নিত্য পাঠে জীবনের সমস্ত অশুভ শক্তি, নজর দোষ, শত্রুভয় এবং নেতিবাচক প্রভাব ধ্বংস হয়।
  • সুখ, সমৃদ্ধি ও ধনলাভ: দেবী দুর্গার কৃপায় সংসারে দারিদ্র্য দূর হয়, ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে বাধা কেটে গিয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি আসে।
  • শুক্র ও রাহু-কেতু গ্রহের শুভত্ব বৃদ্ধি: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, শুক্রবারে মা দুর্গার আরাধনা করলে কুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহ বলবান হয়। এ ছাড়া রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষায় দুর্গা পাঠ অত্যন্ত কার্যকরী।
  • রোগমুক্তি ও মনের জোর বৃদ্ধি: দীর্ঘদিনের ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে এবং মনের ভয় কেটে গিয়ে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

দুর্গা চালিশা পাঠের সঠিক নিয়ম

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: শুক্রবার ভোরে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা হলুদ রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা শান্ত স্থানে একটি কাটের পিঁড়িতে লাল কাপড় বিছিয়ে মা দুর্গার মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: শুদ্ধ দেশি ঘিউয়ের প্রদীপ ও সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। দেবীর চরণে জবা ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করুন।

৪. একাগ্র পাঠ: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে দুর্গা চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে আরতি করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী দুর্গা চালিশা (Bengali Script)

নমো নমো দুর্গে সুখ করনী। নমো নমো অম্বে দুঃখ হরনী।।

নিরংকার হ্যায় জ্যোতি তোমারী। তিহুঁ লোক ফেলী উজিরী।।

শশী শেখর রূপ রূপারা। দেবী গোবিন্দ পরম পিয়ারা।।

রূপ সরস্বতী কো তুম ধারা। দে সুবুদ্ধি ঋষি মুনিন উবারা।।

ধরি রূপ নরসিংহ কো অম্বা। প্রগট ভয়ী ফার কর খম্বা।।

রক্ষক হোয় প্রহ্লাদ উবারো। হিরণ্যাক্ষ কো স্বর্গ পাঠারো।।

লক্ষ্মী রূপ ধরো জগ মাহী। শ্রী নারায়ণ অঙ্গ সমাহী।।

ক্ষীরসিন্ধু মে করত বিলাস। দয়া করো হরিদীজো বাস।।

হিংলাজ মে তুমহী ভবানী। মহিমা অমিত ন জাত বখানি।।

মাতঙ্গী ধূমাবতী মাতা। ভু বনেশ্বরী বগলা সুখদাত্রী।।

শ্রী ভৈরব তারা জগত তারনী। ছিন্ন ভাল ভব দুঃখ নিবারনী।।

কেহরি বাহন সোজি ভবানী। লাঙ্গুর বীর চলত অগবানী।।

কর মে খপ্পর খড়গ বিরাজে। জাকে দেখ কাল ডর ভাগে।।

সোহে অস্ত্র অউর ত্রিNetwork। জাতে উঠত শোল পর সম্হা।।

নগর কোটি মে তুমহী বি রাজো। তিহুঁ লোক মে ডঙ্কা বাজো।।

শুম্ভ নিশুম্ভ দানব তুম মারে। রক্তবীজ সংখনি সংহারে।।

মহিষাসুর নৃপ অতি অভিমানী। জেহি অঘ ভার মহী অকুলানী।।

রূপ করাল কালী কো ধারা। সেন সহিত তুম তিহি সংহারা।।

পরী গাঢ় সন্তন পর জব জব। ভয়ী સહાયী মাতু তুম তব তব।।

অমরপুরী অউর সব লোকো। তব মহিমা গাবত সব সো কো।।

জ্বালা মে হ্যায় জ্যোতি তোমারী। তুমহে সদাবন্দে নর নারী।।

প্রেম ভক্তি সে জো যশ গাবৈ। দুঃখ দারিদ্র্য নিকট নহি আবৈ।।

ধ্যাৱৈ তুমহে জো নর মন লাই। জন্ম মরণ তে সো ছুটি জাই।।

যোগী সুর মুনি কহত পুকারী। যোগ ন হোয় বিন শক্তি তোমারী।।

শংকর আচারজ তপ কীন্হো। কাম ক্রোধ জীতি সব লীন্হো।।

নিশদিন ধ্যান ধরো শংকর কো। কাহূ কাল নহী তুম সুমিরো।।

শক্তি রূপ কো মরমু ন পায়ো। শক্তি গয়ী তব মন পছতায়ো।।

শরনাগত হয় কীর্তি বখানি। জয় জয় জয় জগদম্ব ভবানী।।

ভয়ী প্রসন্ন আদি জগত অম্বা। বেগি করো সন্তন অবলম্বা।।

মনোকামনা পুরো মেরা। বাস করো হৃদয় মহঁ সেরা।।

দুর্গা চালীসা জো নর গাবৈ। সব সুখ ভোগ পরম পদ পাবৈ।।

দেবী দাস নিজ জানিকৈ, ক্ষমহু ভুল চুক অঞ্জনা।

করহু কৃপা জগদম্ব অব, হরহু সকল ভব ফন্দ।।

সকল শক্তির মহামায়া মা দুর্গা হলেন অপার করুণাময়ী। কোনো কঠিন আড়ম্বর না থাকলেও কেবল প্রতি শুক্রবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই চালিশা পাঠ করলেই সংসার থেকে যাবতীয় অশুভ প্রভাব ও অভাব দূর হয়ে পরম সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি লাভ হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe