...
...
Next Story

শুক্রবার মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য ও সম্পূর্ণ চালিশা

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনধান্যদায়িনী মা লক্ষ্মী অত্যন্ত আশু ফলদায়িনী। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন, তাঁর সংসারে কখনও অর্থ ও অন্নের অভাব ঘটে না।

Published on: Aug 7, 2026, 07:07:36 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে শুক্রবারে ধন, ধান্য, ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্যের দেবী মা মহালক্ষ্মীর আরাধনার জন্য পরম পুণ্যময় ও শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈদিক জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, শুক্রবারে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভের জন্য চালিশা পাঠ এবং ব্রত পালনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ‘শ্রী মহালক্ষ্মী চালিশা’ (Shri Mahalaxmi Chalisa) হলো শ্রী হরির অর্ধাঙ্গিনী মা লক্ষ্মীর অসীম মহিমা, রূপ, কৃপা এবং আরাধনা সম্বলিত ৪০টি পদের এক ঐশ্বরিক স্তোত্র।

শুক্রবার মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য
শুক্রবার মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠের অপরিসীম সুফল! জানুন পাঠের সঠিক নিয়ম ও মাহাত্ম্য

প্রতি শুক্রবারে নিয়ম মেনে পরম ভক্তিভরে মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠ করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ, দারিদ্র্য, আর্থিক অনটন ও ঋণগ্রস্ততা নিমেষে দূর হয়ে যায়। শুক্রবার মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠের মহিমান্বিত উপকারিতা, শাস্ত্রীয় নিয়ম, জ্যোতিষীয় মাহাত্ম্য এবং সম্পূর্ণ মহালক্ষ্মী চালিশার পাঠ সম্পর্কে জেনে নিন।

শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনধান্যদায়িনী মা লক্ষ্মী অত্যন্ত আশু ফলদায়িনী। যিনি পরম ভক্তি ও শুদ্ধ মনে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন, তাঁর সংসারে কখনও অর্থ ও অন্নের অভাব ঘটে না।

শুক্রবার মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠের অলৌকিক উপকারিতা

প্রতি শুক্রবারে শ্রী মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠ করলে জীবনে বেশ কিছু অনন্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়:

  • আর্থিক সমৃদ্ধি ও ধনলাভ: দেবী লক্ষ্মী হলেন ধনের কারক। শুক্রবারে মহালক্ষ্মী চালিশা নিয়মিত পাঠ করলে ব্যবসা ও চাকরিতে অভাবনীয় উন্নতি হয় এবং আটকে থাকা টাকা বা বকেয়া ধন ফেরত আসে।
  • শুক্র গ্রহের শুভ প্রভাব: বৈদিক জ্যোতিষ মতে, শুক্রবার হলো শুক্র গ্রহের দিন, যা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সৌন্দর্য এবং বস্তুগত আনন্দের প্রতীক। শুক্রবারে দেবী লক্ষ্মীর চালিশা পাঠ করলে কুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহ বলবান হয়।
  • ঋণমুক্তি ও দারিদ্র্য বিনাশ: সংসার থেকে অলক্ষ্মী বা অশুভ শক্তি বিদায় নেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা ঋণ ও অভাব-অনটন থেকে মুক্তি পাওয়ার সুগম পথ উন্মুক্ত হয়।
  • দাম্পত্য জীবনের সুখ ও পারিবারিক শান্তি: বিবাহিত জীবনে মানসিক মিল ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে এবং সংসারে আনন্দের বাতাবরণ তৈরি হয়।

জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের বক্তব্য

১. স্নান ও পরিষ্কার পরিচ্ছদ: শুক্রবার ভোরে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার সাদা, গোলাপি বা লাল রঙের বস্ত্র পরিধান করুন।

২. পূজার স্থান প্রস্তুতি: ঠাকুরঘরে বা শান্ত স্থানে একটি কাটের পিঁড়িতে লাল বা গোলাপি কাপড় বিছিয়ে মা লক্ষ্মী ও বিষ্ণুর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করুন।

৩. দীপ ও নৈবেদ্য: শুদ্ধ দেশি ঘিউয়ের প্রদীপ ও সুগন্ধি ধূপকাঠি জ্বালান। দেবীর চরণে লাল বা গোলাপি ফুল (সম্ভব হলে পদ্ম ফুল), চাল, মিষ্টি বা দুধের তৈরি পায়েস নিবেদন করুন।

৪. একাগ্র পাঠ: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসে শান্ত মনে স্পষ্ট উচ্চারণে মহালক্ষ্মী চালিশা পাঠ করুন। পাঠ শেষে দেবীর আরতি ও প্রসাদ বিতরণ করুন।

সম্পূর্ণ শ্রী মহালক্ষ্মী চালিশা (Bengali Script)

মাতু লক্ষ্মী কারি কৃপা, করো হৃদয় মহঁ বাস।

মনোকামনা সিদ্ধ করি, পুরভহু মোরি আস।।

সিন্ধুসুত মহালক্ষ্মী, বন্দউ চরণ শুভকর।

ধন ধান্য সুখ শান্তি দেহু, কিজৈ দয়া পরমাবল।।

জয় জয় শ্রী মহালক্ষ্মী মাতা। সব সুখ সম্পতি কী দাত্রী।।

আদি শক্তি তুম জগদা বাধা। মহাদেব মন মোহিত সাধা।।

বিষ্ণু প্রিয়া তুম শ্রী শিব রানি। ব্রহ্মা রূপ সরস্বতী জানি।।

তুমহী চণ্ডী তুমহী ভવાની। সব জগ মাতু তুমহী বখানি।।

সিন্ধু সুতা তুম অগম অপারা। সব সুর নর তুমহী আছারা।।

পদ্ম সনস্থিতি রূপ অনূপা। ধারি রূপ অতি পরম শুভূপা।।

কাঞ্চন থাল আরতি সাজৈ। ধূপ দীপ নৈবেদ্য বিরাজে।।

কনক সিংহাসন তুমহী সোহা। সুর নর মুনি মন তুমহী মোহা।।

ঋদ্ধি সিদ্ধি সব তুমরী চেরী। শুনহু মাতু অব বিনতী মেরি।।

অষ্ট সিদ্ধি নব নিধি কী দাত্রী। সর্ব মাঙ্গল্য শুভ ফল দাত্রী।।

জো জন তুমরো ধ্যান লাগাবৈ। সো জন পরম পদহি সো পাবৈ।।

নির্ধন জো তুমকো ধ্যাওয়ৈ। সো জন পূর্ণ সম্পদ পাবৈ।।

রোগী জো তুমরো নাম উচারৈ। সো জন রোগ মুক্ত হোই তারৈ।।

সংকট মে জো নাম পুকারৈ। সংকট কাটি তাহি সো উবারৈ।।

শ্রী মহালক্ষ্মী চালিশা জো গাবৈ। সো জন সর্ব সুখহি পাবৈ।।

পঢ়ৈ শুনৈ জো চিত লাগাই। তা পর কৃপা করৈ শ্রী রাই।।

পাপ হরো দুঃখ হরো মা, হরো সকল জঞ্জাল।

কৃপা করো শ্রী মহালক্ষ্মী, কিজৈ দীন দয়াল।।

ধন-ধান্যের দেবী মা মহালক্ষ্মী হলেন পরম করুণাময়ী। কোনো কঠিন আড়ম্বর না থাকলেও কেবল প্রতি শুক্রবারে শুদ্ধ মন এবং অকৃত্রিম ভক্তি নিয়ে এই চালিশা পাঠ করলেই সংসার থেকে যাবতীয় কষ্ট ও অভাব দূর হয়ে পরম সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি লাভ সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe