...
...
Next Story

বুধ ও অরুণ ১২০ ডিগ্রি কোণে তৈরি করেছেন নবপঞ্চম রাজযোগ! ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলেছে ৪ রাশির

গণেশ চতুর্থীর বিশেষ সময়ে বুদ্ধি, যুক্তি ও বাণিজ্যের কারক গ্রহ বুধদেব এবং পরিবর্তন ও আকস্মিক উন্নতির প্রতীক অরুণের (Uranus) মধ্যে ১২০ ডিগ্রির বিশেষ কোণ তৈরি হয়েছে।

Published on: Sep 15, 2026, 11:38:48 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, দেবমণ্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ গ্রহগুলির নির্দিষ্ট কোণীয় দূরত্ব বা সহাবস্থান মানবজীবনের ভাগ্যচক্রে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক মোড় নিয়ে আসে। যখন দুটি প্রভাবশালী গ্রহ একে অপরের থেকে ১২০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে, তখন মহাকাশে গঠিত হয় অত্যন্ত শুভ ও ভাগ্যবদলকারী ‘নবপঞ্চম রাজযোগ’ (Navpancham Rajyog)। সিদ্ধিদাতা শ্রী গণেশের পরম পবিত্র উৎসব গণেশ চতুর্থীর পুণ্য লগ্নে ঠিক তেমনই এক বিরল ও অলৌকিক রাজযোগের শুভ সূচনা ঘটতে চলেছে।

বুধ ও অরুণ তৈরি করেছেন নবপঞ্চম রাজযোগ! ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলেছে ৪ রাশির
বুধ ও অরুণ তৈরি করেছেন নবপঞ্চম রাজযোগ! ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার খুলেছে ৪ রাশির

জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর বিশেষ সময়ে বুদ্ধি, যুক্তি ও বাণিজ্যের কারক গ্রহ বুধদেব এবং পরিবর্তন ও আকস্মিক উন্নতির প্রতীক অরুণের (Uranus) মধ্যে ১২০ ডিগ্রির বিশেষ কোণ তৈরি হয়েছে। বুধ ও অরুণের এই ১২০ ডিগ্রি সংযোগে গঠিত নবপঞ্চম রাজযোগ নির্দিষ্ট ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে পরম সুখবর, অর্থ সংকট মুক্তি এবং কেরিয়ারে নজিরবিহীন প্রগতির পথ প্রশস্ত করবে। বিশেষ করে মেষ, বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির জাতক-জাতিকারা শ্রী গণেশের অশেষ কৃপায় ব্যবসায় বড় চুক্তি, আকস্মিক ধনলাভ ও কাঙ্ক্ষিত প্রমোশনের মুখ দেখবেন। এই শুভ নবপঞ্চম যোগে কোন ৪ রাশির জীবনে গোল্ডেন টাইম শুরু হতে চলেছে—জেনে নিন।

১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ-অরুণের 'নবপঞ্চম রাজযোগ'-এর বিশেষ গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ হলেন প্রখর বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার কারক, আর অরুণ (ইউরেনাস) হলেন আকস্মিক ইতিবাচক পরিবর্তন ও আধুনিক উদ্ভাবনের দিকদর্শী। গণেশ চতুর্থীতে গঠিত এই ১২০ ডিগ্রি সংযোগের প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • প্রখর সিদ্ধান্ত ক্ষমতা ও সমাধান: জাতকের জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আইটি, প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, শেয়ার বাজার, জ্যোতিষ ও বৈচিত্র্যময় বাণিজ্যিক চুক্তি নিষ্পত্তিতে দারুণ সাফল্য আসবে।
  • আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত আইনি বিবাদ মিটে যাবে এবং সুপ্ত বা আটকে থাকা আয়ের ক্ষেত্রগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে।

২. নবপঞ্চম রাজযোগে যে ৪ রাশির খুলবে ভাগ্যের বন্ধ দুয়ার

খ) বৃষ রাশি (Taurus): বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই রাজযোগ বরদানস্বরূপ। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পুরোনো কোনো বিনিয়োগ বা সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেন থেকে বাম্পার রিটার্ন মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলা উদ্বেগ কেটে গিয়ে মানসিক শান্তি ফিরে আসবে।

গ) কন্যা রাশি (Virgo): কন্যা রাশির অধিপতি হলেন স্বয়ং বুধদেব। ফলে স্বরাশিতে অবস্থানকালে অরুণের সাথে ১২০ ডিগ্রি কোণে গঠিত এই নবপঞ্চম যোগ কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের ব্যক্তিত্বে বিশেষ আলো ও আকর্ষণী শক্তি এনে দেবে। আয়ের একাধিক নতুন পথ খুলে যাবে, যা জমানো অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। ব্যবসায়ীদের নতুন বড় ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

ঘ) মকর রাশি (Capricorn): মকর রাশির জন্য বুধ ও অরুণের এই বিশেষ রাজযোগ কেরিয়ার ও নতুন প্রজেক্টে সাফল্য এনে দেবে। আইটি, শিক্ষা, প্রযুক্তি বা গবেষণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সম্মান পেতে পারেন। দূরবর্তী যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসায় বড় মুনাফা অর্জনের পথ প্রশস্থ হবে।

৩. নবপঞ্চম রাজযোগে শ্রী গণেশের আশীর্বাদ লাভের সহজ জ্যোতিষীয় প্রতিকার

গণেশ চতুর্থীর এই পবিত্র লগ্নে তৈরি হওয়া রাজযোগের পূর্ণ সুফল পেতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করা যেতে পারে:

  • শ্রী গণেশকে দুর্বা নিবেদন: প্রতি বুধবারে বা গণেশ পুজোর দিনে বিঘ্নহর্তা গণপতিকে ২১টি কচি দুর্বা এবং সবুজ মুগ ডাল নিবেদন করুন।
  • বুধ বীজ মন্ত্র জপ: প্রতিদিন সকালে স্নানের পর অন্তত ১০৮ বার 'ওঁ বুং বুধায় নমঃ' বা 'ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ' মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত কল্যাণকর।
  • দুঃস্থদের সবুজ বস্তু দান: অসচ্ছল মানুষদের সবুজ শাকসবজি, অন্ন বা বস্ত্র দান করলে বুধ ও অরুণ গ্রহের শুভ প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

গণেশ চতুর্থীর পুণ্য মুহূর্তে গঠিত বুধ ও অরুণের এই ‘নবপঞ্চম রাজযোগ’ মেষ, বৃষ, কন্যা ও মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য ধন-সম্পদ, সাফল্য ও কেরিয়ারে প্রগতির এক ঐতিহাসিক সুযোগ নিয়ে এসেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের সাথে এগিয়ে চললে এই সময়টি আপনার জীবনে স্থায়ী শুভ পরিবর্তন সুনিশ্চিত করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks