...
...
Next Story

কীভাবে গণেশ রচনা করলেন মহাভারত? জেনে নিন কেন তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হয়েছিল এবং ভাঙা দাঁতের রহস্য

কেন মহর্ষি বেদব্যাসকে এই বিরাট রচনার দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য গণপতির শরণাপন্ন হতে হয়েছিল? কীভাবে বাধা-বিঘ্ন সত্ত্বেও অবিরাম গতিতে রচিত হলো এই মহাকাব্য? এবং কীভাবে এই কাজ করতে গিয়ে গণপতি তাঁর নিজের একটি দাঁত ভেঙে ব্যবহার করেছিলেন?

Published on: Sep 14, 2026, 13:32:09 IST
Advertisement

সনাতন হিন্দু ধর্মে মহামুনি বেদব্যাস রচিত 'মহাভারত' কেবল বিশ্বসাহিত্যের দীর্ঘতম মহাকাব্য নয়, এটি ভারতের সুপ্রাচীন জ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পরম উৎস। তবে এই সুবিশাল মহাকাব্যটির সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে এক অনন্য ও অলৌকিক কাহিনি। আপনি কি জানেন, মহর্ষি বেদব্যাস মুখে মহাভারতের মন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন, কিন্তু স্বীয় হস্তাক্ষরে পুরো কাব্যটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন স্বয়ং সিদ্ধিদাতা শ্রী গণেশ?

কীভাবে গণেশ রচনা করলেন মহাভারত? জেনে নিন কেন তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হয়েছিল
কীভাবে গণেশ রচনা করলেন মহাভারত? জেনে নিন কেন তাঁকেই দায়িত্ব নিতে হয়েছিল

কেন মহর্ষি বেদব্যাসকে এই বিরাট রচনার দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য গণপতির শরণাপন্ন হতে হয়েছিল? কীভাবে বাধা-বিঘ্ন সত্ত্বেও অবিরাম গতিতে রচিত হলো এই মহাকাব্য? এবং কীভাবে এই কাজ করতে গিয়ে গণপতি তাঁর নিজের একটি দাঁত ভেঙে ব্যবহার করেছিলেন?—এই সব পৌরাণিক ও শাস্ত্রীয় কাহিনি জেনে নিন।

কেন শ্রী গণেশকেই নিতে হয়েছিল মহাভারত লেখার দায়িত্ব?

পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস পরম ধ্যানের মাধ্যমে সমগ্র মহাভারতের কাহিনী, ধর্মীয় তত্ত্ব ও যুদ্ধগাথা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় মহাকাব্যটি লিপিবদ্ধ করা নিয়ে।

বেদব্যাসের চিন্তাভাবনা ও ব্রহ্মার পরামর্শ: বেদব্যাস অনুভব করেন যে মহাভারত এতটাই দীর্ঘ, জটিল ও আধ্যাত্মিক রসে পরিপূর্ণ যে কোনো সাধারণ মানব লেখকের পক্ষে তা নিখুঁতভাবে লেখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন এমন এক মহান সত্তাকে, যাঁর লেখার গতি হবে বিদ্যুতের মতো দ্রুত এবং যাঁর মেধা হবে অতুলনীয়। বেদব্যাস ব্রহ্মার আরাধনা করলে প্রজাপতি ব্রহ্মা তাঁকে পরামর্শ দেন সিদ্ধিদাতা শ্রী গণেশকে মহাভারতের অনুলিপিকার (Scribe) হওয়ার অনুরোধ জানাতে।

মহর্ষি বেদব্যাসের পাল্টা বুদ্ধিমত্তা: বেদব্যাস বিচক্ষণতার সাথে গণপতির শর্ত মেনে নেন, কিন্তু তিনি নিজেও একটি পাল্টা শর্ত যোগ করেন। বেদব্যাস বলেন, "হে গণপতি, আমি যা শ্লোক উচ্চারণ করব, তার অর্থ আপনি সম্পূর্ণ অনুধাবন না করে কোনোমতেই তা লিখতে পারবেন না।" গণেশজি সানন্দে এই শর্ত মেনে নেন।

মহাভারত রচনার অলৌকিক প্রক্রিয়া ও ভাঙা দাঁতের রহস্য

মহর্ষি বেদব্যাস ও সিদ্ধিদাতা গণেশের এই পরম চুক্তির পর শুরু হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ মহাকাব্যের অলৌকিক লিখন পর্ব।

  • কঠিন শ্লোক ও বেদব্যাসের বিশ্রামের কৌশল: যখনই বেদব্যাসের মুখে নতুন শ্লোক ভাবার বা কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন হতো, তখনই তিনি কিছু অত্যন্ত জটিল ও গভীর অর্থবোধক শ্লোক (যা 'কূট শ্লোক' নামে পরিচিত) উচ্চারণ করতেন। গণপতি সেই শ্লোকের গভীর অন্তর্নিহিত অর্থ অনুধাবন করতে কিছুক্ষণ চিন্তা করতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই ফাঁকেই বেদব্যাস মনে মনে পরবর্তী হাজার শ্লোক রচনা করে নিতেন।
  • কলম ভেঙে যাওয়া ও একদন্ত অবতার: মহাভারত লেখার তীব্র গতিতে একসময় গণপতির লেখনী বা কাঠখড়িটি ভেঙে যায়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি লেখা থামাতে পারবেন না! তাই মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে সিদ্ধিদাতা গণেশ নিজের ডানদিকের দাঁতটি (Tusk) নিজ হাতে ভেঙে ফেলেন এবং সেই ভাঙা দাঁতের ডগা কালিতে ডুবিয়ে পুনরায় দ্রুত গতিতে মহাকাব্য লেখা চালিয়ে যান। এই বিশেষ ত্যাগের কারণে গণপতি পরবর্তীতে 'একদন্ত' (Ekadanta) নামে অমর হয়ে থাকেন।

মহাভারত রচনার আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব

বেদব্যাস ও গণপতির এই মহা সমীকরণ আমাদের জীবনে সুগভীর শিক্ষা দেয়:

  • মেধা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়: বেদব্যাস ছিলেন জ্ঞানের প্রসূতি আর গণেশ ছিলেন সেই জ্ঞানকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার অলৌকিক প্রজ্ঞা।
  • জ্ঞান অর্জনে মনঃসংযোগ ও প্রতিশ্রুতির মূল্য: অনবরত লেখার মাধ্যমে গণপতি দেখিয়েছেন যে বড় কোনো মহৎ কাজ বা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে মনোযোগ এবং শর্ত পালনের নিষ্ঠা কতটা জরুরি।
  • আত্মত্যাগ: বিদ্যা ও ধর্মের প্রসারে নিজের অঙ্গ (দাঁত) বিসর্জন দিয়ে সিদ্ধিদাতা গণেশ প্রমাণ করেন যে জ্ঞান প্রচারের সামনে কোনো শারীরিক বাধা বড় হতে পারে না।

আজ আমরা যে মহাভারত পাঠ করি, তা মহর্ষি বেদব্যাসের অসামান্য দর্শন এবং ভগবান গণেশের অক্লান্ত মেধা ও আত্মত্যাগের এক অমর ফসল। এই ইতিহাস আমাদের শেখায় কীভাবে বিঘ্ন সত্ত্বেও নিষ্ঠা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতম লক্ষ্য পূরণ করা যায়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks