...
...
Next Story

বুধ ও কেতুর অশুভ যুতিতে গঠিত হচ্ছে জড়ত্ব যোগ! ৪ রাশির জীবনে বাড়তে পারে সংকট, সতর্ক থাকার জরুরি পরামর্শ

বুধের মতো শুভ ও বুদ্ধির কারক গ্রহের সাথে কেতুর সহাবস্থান জাতকের চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে আচ্ছন্ন বা 'জড়' করে ফেলে। সেই কারণেই একে ‘জড়ত্ব যোগ’ বলা হয়।

Published on: Aug 25, 2026, 17:43:29 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহের রাশি পরিবর্তন ও পারস্পরিক সহাবস্থান বা যুতি মানবজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। শুভ গ্রহগুলোর মিলনে যেমন রাজযোগের সৃষ্টি হয়, তেমনই কোনো কোনো ছায়া গ্রহ বা অশুভ গ্রহের সহাবস্থানে অশুভ যোগেরও উৎপত্তি ঘটে। সম্প্রতি বৈদিক পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, বুধ এবং কেতু গ্রহের সংমিশ্রণে মহাকাশে গঠিত হতে চলেছে ‘জড়ত্ব যোগ’ (Jadatva Yog)।

বুধ ও কেতুর অশুভ যুতিতে গঠিত হচ্ছে জড়ত্ব যোগ! ৪ রাশির জীবনে বাড়তে পারে সংকট
বুধ ও কেতুর অশুভ যুতিতে গঠিত হচ্ছে জড়ত্ব যোগ! ৪ রাশির জীবনে বাড়তে পারে সংকট

জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধকে বুদ্ধি, ব্যবসা, বাচনিক শক্তি ও লজিক্যাল থিংকিংয়ের কারক গ্রহ বলে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে কেতু হলো ছায়া গ্রহ, যা বিভ্রান্তি, মানসিক অস্থিরতা ও বাধা-বিপত্তির প্রতীক। বুধের মতো শুভ ও বুদ্ধির কারক গ্রহের সাথে কেতুর এই সহাবস্থান জাতকের চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে আচ্ছন্ন বা 'জড়' করে ফেলে। সেই কারণেই একে ‘জড়ত্ব যোগ’ বলা হয়। ২০২৬ সালে গঠিত এই অশুভ জড়ত্ব যোগের কারণে ৪টি বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে মানসিক চাপ, ধনহানি ও আর্থিক সংকটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোন কোন ৪ রাশিকে এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে এবং এর প্রতিকারই বা কী—তা নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বুধ-কেতু যুতি ও ‘জড়ত্ব যোগের’ প্রভাব

জ্যোতিষশাস্ত্রে জড়ত্ব যোগকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অশুভ যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়:

  • সিদ্ধান্তহীনতা ও বিভ্রান্তি: বুধ ও কেতুর একত্রে অবস্থানের ফলে মানুষের তীক্ষ্ণ চিন্তাভাবনা ধাক্কা খায়। ভুল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা ভুল বাচনিক ব্যবহারের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়।
  • সম্পর্ক ও আর্থিক টানাপোড়েন: এই যোগ চলাকালীন পারিবারিক মতভেদের সৃষ্টি হয় এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি পায়।

২. ‘জড়ত্ব যোগের’ প্রভাবে যে ৪ রাশির জাতকদের সতর্ক থাকা জরুরি

খ) মিথুন রাশি (Gemini): মিথুন রাশির অধিপতি স্বয়ং বুধ। ফলে কেতুর সাথে বুধের এই অশুভ সহাবস্থান আপনার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে অনাবশ্যক তর্ক বিতর্ক এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। অর্থ লেনদেনের সময় চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে নিন।

গ) কন্যা রাশি (Virgo): কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য জড়ত্ব যোগের প্রভাব পারিবারিক ও কর্মজীবনে জটিলতা তৈরি করতে পারে। যৌথ ব্যবসায় পার্টনারের সাথে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। অফিসে কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে মানসিক ক্লান্তি আসতে পারে। অতিরিক্ত খরচ বা বাজেটের বাইরে গিয়ে লেনদেন করলে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কমে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকবে।

ঘ) ধনুর রাশি (Sagittarius): ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের এই সময় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। যানবাহন চালানো বা নতুন কোনো চুক্তি সই করার সময় সজাগ থাকুন। কর্মক্ষেত্রে কাজের ক্রেডিট অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। হঠাৎ করে আসা অনির্ধারিত খরচের কারণে মানসিক চাপ বাড়তে পারে, তাই সঞ্চয়ের ওপর নজর দিন।

৩. জড়ত্ব যোগের অশুভ প্রভাব কাটানোর শাস্ত্রীয় প্রতিকার

জড়ত্ব যোগের অশুভ নজর থেকে বাঁচতে এবং গ্রহদোষ কাটাতে জ্যোতিষশাস্ত্রসম্মত কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে পারেন:

  • ভগবান শ্রী গণেশের আরাধনা: বুধ ও কেতু উভয়েরই দোষ কাটাতে শ্রী গণেশের পূজা সেরা মাধ্যম। প্রতি বুধবারে গণেশজিকে কচি দুর্বা নিবেদন করুন এবং ‘ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন।
  • বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ: নিয়মিত বিষ্ণু সহস্রনাম বা শ্রী কৃষ্ণ চালিশা পাঠ করলে বুধের শুভ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
  • পশুপাখির সেবা ও দান: অনাথ কুকুরদের খাদ্য দেওয়া বা পাখিদের জল দেওয়া কেতুর অশুভ প্রভাব হ্রাস করে। এছাড়া দুঃস্থদের সবুজ মুগ ডাল বা বস্ত্র দান করা মঙ্গলজনক।

গ্রহের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। ২০২৬ সালে গঠিত বুধ-কেতুর এই ‘জড়ত্ব যোগ’ মেষ, মিথুন, কন্যা ও ধনু রাশির জন্য একটু কঠিন হলেও, ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং সঠিক শাস্ত্রীয় প্রতিকার মেনে চললে যেকোনো ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe