...
...
Next Story

ভৈরব স্তুতি বদলে দিতে পারে জীবন! অন্ধকারে আলো দেখানোর ক্ষমতা রাখে এই স্তোত্র, জানেন কি

তান্ত্রিক সাধনা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের কাছে কাল ভৈরব অত্যন্ত জাগ্রত এক দেবতা। জ্যোতিষশাস্ত্রে তাঁকে 'সময়ের অধিপতি' বা 'দণ্ডপাণি' বলা হয়। মনে করা হয়, তাঁর আরাধনা বা 'ভৈরব স্তুতি' পাঠ করলে মানুষের ভাগ্যলিপি পর্যন্ত বদলে যেতে পারে।

Published on: Feb 8, 2026, 19:39:38 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

কাশী বিশ্বনাথের রক্ষাকর্তা এবং দেবাদিদেব মহাদেবের রুদ্র অবতার হলেন ভগবান কাল ভৈরব। তান্ত্রিক সাধনা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তদের কাছে তিনি অত্যন্ত জাগ্রত এক দেবতা। জ্যোতিষশাস্ত্রে তাঁকে 'সময়ের অধিপতি' বা 'দণ্ডপাণি' বলা হয়। মনে করা হয়, তাঁর আরাধনা বা 'ভৈরব স্তুতি' পাঠ করলে মানুষের ভাগ্যলিপি পর্যন্ত বদলে যেতে পারে।

ভৈরব স্তুতি বদলে দিতে পারে জীবন! অন্ধকারে আলো দেখানোর ক্ষমতা রাখে এই স্তোত্র
ভৈরব স্তুতি বদলে দিতে পারে জীবন! অন্ধকারে আলো দেখানোর ক্ষমতা রাখে এই স্তোত্র

ভৈরব স্তুতির মাহাত্ম্য এবং এর অলৌকিক প্রভাবের কথা জেনে নিন।

ভৈরব স্তুতি আসলে কী?

'ভৈরব স্তুতি' বা 'কাল ভৈরব অষ্টকম্' হলো ভগবান ভৈরবকে তুষ্ট করার এক বিশেষ স্তোত্র। আদি গুরু শঙ্করাচার্য রচিত এই অষ্টকম্ অত্যন্ত শক্তিশালী শব্দব্রহ্ম দ্বারা নির্মিত। এটি মূলত আটটি শ্লোকের একটি সংকলন, যেখানে দেবের রূপ, তাঁর বাহন (কুকুর) এবং তাঁর অমিত ক্ষমতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে ভক্ত নিজের ভেতরের ভয়, অলসতা এবং অহংকারকে বিসর্জন দিয়ে দিব্য শক্তির সান্নিধ্য লাভ করে।

এটি কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে?

ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনে ভৈরব স্তুতিকে একটি শক্তিশালী 'পজিটিভ এনার্জি'র উৎস হিসেবে দেখা হয়। এটি জীবনের নানা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে:

১. শত্রু ও বাধা নাশ: আপনার জীবনে যদি অহেতুক শত্রুতা বা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে, তবে ভৈরব স্তুতি তা থেকে রক্ষা পাওয়ার এক অব্যর্থ ঢাল। এটি সমস্ত নেতিবাচক নজর বা ব্ল্যাক ম্যাজিকের প্রভাব কাটিয়ে দেয়।

৩. আর্থিক উন্নতি ও কর্মে সাফল্য: ভগবান ভৈরবকে 'ক্ষেত্রপাল' বলা হয়। যারা আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এই স্তুতি তাদের ধনাগমনের পথ প্রশস্ত করে এবং ব্যবসার বাধা দূর করে।

৪. পাপ ও কর্মফল মোচন: কাশীর বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্তুতি পাঠ করলে পূর্বজন্মের কঠিন কর্মফল বা অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কাল ভৈরব হলেন শনি (Saturn) এবং রাহু (Rahu) গ্রহের নিয়ন্ত্রক দেবতা।

  • শনির সাড়ে সাতি ও ধাইয়া: যাদের কুণ্ডলীতে শনিদেব বিরূপ অবস্থায় আছেন বা যারা শনির সাড়ে সাতির কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ভৈরব স্তুতি পরম ঔষধ।
  • রাহুর দোষ: রাহুর কারণে জীবনে হঠাৎ আসা বিপর্যয় বা বিভ্রান্তি দূর করতে ভৈরব আরাধনার কোনো বিকল্প নেই।
  • অষ্টমী তিথির গুরুত্ব: বিশেষ করে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে (কালাষ্টমী) এই স্তুতি পাঠ করলে গ্রহদোষ দ্রুত প্রশমিত হয়।

পাঠ করার সঠিক নিয়ম

  • সময়: ব্রাহ্ম মুহূর্তে অথবা সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যাবেলায় এই স্তুতি পাঠ করা সবথেকে কার্যকর।
  • পদ্ধতি: সরষের তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে ভৈরব জির সামনে বসে শান্ত মনে উচ্চারণ করুন।
  • উপহার: পাঠ শেষে যদি কোনো কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা বিস্কুট খাওয়ানো যায়, তবে ভগবান ভৈরব অত্যন্ত প্রীত হন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks