...
...
Next Story

Kaal Sarp Dosh 12 types remedies: কালসর্প দোষ কী ও কেন হয়? জানুন এর ১২টি প্রকার, লক্ষণ এবং জীবন বদলানো সহজ প্রতিকার

Kaal Sarp Dosh 12 types remedies: জ্যোতিষ মতে, রাহু হলো কালসর্পের মুখ এবং কেতু হলো তার লেজ। জন্মকুণ্ডলীর নির্দিষ্ট ১২টি ভাব বা ঘরে রাহু ও কেতুর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কালসর্প দোষ ১২টি ভিন্ন ধরণে বিভক্ত হয়।

Published on: Jul 27, 2026, 16:22:17 IST
Advertisement

Kaal Sarp Dosh 12 types remedies: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে জন্মকুণ্ডলীর নানা ধরণের গ্রহজনিত দোষের মধ্যে ‘কালসর্প দোষ’ (Kaal Sarp Dosh)-কে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং জটিল একটি দশা হিসেবে গণ্য করা হয়। যখন কোনো ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে ছায়া গ্রহ রাহু এবং কেতুর মাঝখানে বাকি সমস্ত সাতটি প্রধান গ্রহ (সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি) চলে আসে, তখন কুণ্ডলীতে কালসর্প দোষ তৈরি হয়। এই দোষের কারণে ব্যক্তি কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও কাজের সঠিক ফল পান না এবং জীবনে নানাবিধ মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

কালসর্প দোষ কী ও কেন হয়? জানুন এর ১২টি প্রকার, লক্ষণ ও জীবন বদলানো সহজ প্রতিকার
কালসর্প দোষ কী ও কেন হয়? জানুন এর ১২টি প্রকার, লক্ষণ ও জীবন বদলানো সহজ প্রতিকার

কালসর্প দোষ মানেই যে কেবল অশুভ ফল—তা নয়; সঠিক সময়ে এর লক্ষণ চিনে জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় প্রতিকার করলে এই দোষের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কালসর্প দোষের ১২টি ধরণ, জীবনযাত্রায় এর প্রভাব এবং তা কাটিয়ে ওঠার মহাজাগতিক উপায় জেনে নিন।

জ্যোতিষ মতে, রাহু হলো কালসর্পের মুখ এবং কেতু হলো তার লেজ। জন্মকুণ্ডলীর নির্দিষ্ট ১২টি ভাব বা ঘরে রাহু ও কেতুর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কালসর্প দোষ ১২টি ভিন্ন ধরণে বিভক্ত হয়।

কালসর্প দোষের ১২টি প্রধান প্রকার

১. অনন্ত কালসর্প দোষ: রাহু ১ম ঘরে এবং কেতু ৭ম ঘরে থাকলে এটি গঠিত হয়। এর ফলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ে।

২. কুলিক কালসর্প দোষ: ২য় ঘরে রাহু ও ৮ম ঘরে কেতু থাকলে আর্থিক ক্ষতি ও পরিবারে কলহ দেখা দেয়।

৩. বাসুকি কালসর্প দোষ: ৩য় ঘরে রাহু ও ৯মান ঘরে কেতু থাকলে ভাই-বোনের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয় এবং ভাগ্যে বাধা আসে।

৫. পদ্ম কালসর্প দোষ: ৫ম ঘরে রাহু ও ১১শ ঘরে কেতু থাকলে সন্তান লাভে বাধা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটে।

৬. মহাপদ্ম কালসর্প দোষ: ৬ষ্ঠ ঘরে রাহু ও ১২শ ঘরে কেতু থাকলে শত্রুর ভয় এবং বিপুল ঋণ বৃদ্ধি পায়।

৭. তক্ষক কালসর্প দোষ: ৭ম ঘরে রাহু ও ১ম ঘরে কেতু থাকলে ব্যবসায় ক্ষতি ও বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে।

৮. কর্কোটক কালসর্প দোষ: ৮ম ঘরে রাহু ও ২য় ঘরে কেতু থাকলে আকস্মিক দুর্ঘটনা ও শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়।

৯. শঙ্খচূড় কালসর্প দোষ: ৯মান ঘরে রাহু ও ৩য় ঘরে কেতু থাকলে পিতৃপুরুষের দোষ ও ভাগ্যোন্নতিতে প্রবল বাধা আসে।

১০. ঘাতক কালসর্প দোষ: ১০ম ঘরে রাহু ও ৪র্থ ঘরে কেতু থাকলে ক্যারিয়ার ও চাকরিতে বারবার সমস্যা তৈরি হয়।

১১. বিষধর কালসর্প দোষ: ১১শ ঘরে রাহু ও ৫ম ঘরে কেতু থাকলে চোখ বা মাথার সমস্যা এবং স্মৃতির ওপর প্রভাব পড়ে।

১২. শেষনাগ কালসর্প দোষ: ১২শ ঘরে রাহু ও ৬ষ্ঠ ঘরে কেতু থাকলে আইনি ঝামেলা এবং গোপন শত্রুর বৃদ্ধি ঘটে।

কালসর্প দোষের প্রধান লক্ষণসমূহ

  • কঠোর পরিশ্রমের পরও কোনো কাজের সাফল্য শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হওয়া।
  • স্বপ্নে বারবার সাপ দেখা বা উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।
  • পরিবারে অকারণ অশান্তি, আইনি জটিলতা এবং জমানো টাকা দ্রুত অপচয় হওয়া।
  • মানসিক উদ্বেগ, অস্থিরতা এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা।

কালসর্প দোষ কাটানোর অলৌকিক ও সহজ প্রতিকার

যদি আপনার জন্মকুণ্ডলীতে এই দোষ থাকে, তবে ভয় না পেয়ে শাস্ত্রীয় কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত:

  • শিব আরাধনা: ভগবান শিব হলেন কালসর্প দোষের মূল নিরাময়কারী। প্রতিদিন বা প্রতি সোমবারে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক ও দুগ্ধাভিষেক করুন এবং ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র পাঠ করুন।
  • মহামৃত্যুঞ্জয় জপ: নিয়মিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে কুণ্ডলীর রাহু-কেতুজনিত সমস্ত অশুভ প্রভাব দ্রুত কেটে যায়।
  • নাগ পূজন ও দান: শ্রাবণ মাসের নাগ পঞ্চমী তিথিতে নাগ-নাগিনের রূপোর জোড়া বানিয়ে পুজো করে জলে ভাসিয়ে দিন।
  • সর্প স্তোত্র ও রাহু-কেতু মন্ত্র: শনিবার বা অমাবস্যা তিথিতে সর্প স্তোত্র পাঠ এবং রাহু-কেতুর বীজ মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।

কালসর্প দোষ জীবনের একটি বিশেষ দশা মাত্র, যা সঠিক আত্মসংযম, ভক্তি ও প্রতিকারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ভগবান শিবের আশ্রয় নিলে কুণ্ডলীর সব দোষ কেটে জীবনে সাফল্য, শান্তি ও সুখ-সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe