কাল ভৈরব হলেন হিন্দু দেবতা শিবের একটি উগ্র এবং রুদ্র রূপ। 'ভৈরব' শব্দের অর্থ হলো 'ভয়ঙ্কর' বা 'ভয় দূরকারী'। তিনি মহাবিশ্বের সময় ও স্থান নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁকে 'কালের অধিপতি' বা 'সময়ের দেবতা' হিসাবেও গণ্য করা হয়।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ব্রহ্মা যখন শিবের নিন্দা করেছিলেন, তখন শিবের ক্রোধ থেকে কাল ভৈরবের জন্ম হয়েছিল। তিনি ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক ছেদন করেছিলেন, যা তাঁকে 'ব্রহ্মহত্যাকারী' দোষে অভিযুক্ত করেছিল। এই দোষ মুক্ত করার জন্য তিনি দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ান এবং শেষ পর্যন্ত বারাণসীতে (কাশী) এসে মুক্তি পান। এই কারণে তিনি 'কাশীর কোতোয়াল' বা কাশীর রক্ষক নামেও পরিচিত। কাশীতে তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে বা থাকতে পারে না বলে বিশ্বাস করা হয়।
কাল ভৈরবের পুজো বিধি
কাল ভৈরবের পুজো সাধারণত ভয় দূর করা, শত্রুদের পরাস্ত করা এবং তন্ত্র-মন্ত্রের বাধা দূর করার জন্য করা হয়। ভৈরব জয়ন্তী বা প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে তাঁর পুজো করা হয়।
সময় ও স্থান: কাল ভৈরবের পুজো সাধারণত রাতে করা হয়। তাঁর পুজোর স্থান পরিষ্কার ও শান্ত হওয়া চাই।
উপকরণ: পুজোর প্রধান উপকরণ হলো শস্যদানা (যেমন সরিষা), কালো তিল, উড়দ ডাল, কালো চন্দন, ধূপ, প্রদীপ এবং ফুল। তবে তাঁকে মদ (বিশেষত স্থানীয় আরাক) ও মাংস নিবেদন করার প্রাচীন রীতিও প্রচলিত আছে (যা স্থানভেদে ভিন্ন হয়)। তবে সাত্ত্বিক উপাসকরা দুধ, গুড় ও নিরামিষ ভোগ নিবেদন করেন।
{{/usCountry}}উপকরণ: পুজোর প্রধান উপকরণ হলো শস্যদানা (যেমন সরিষা), কালো তিল, উড়দ ডাল, কালো চন্দন, ধূপ, প্রদীপ এবং ফুল। তবে তাঁকে মদ (বিশেষত স্থানীয় আরাক) ও মাংস নিবেদন করার প্রাচীন রীতিও প্রচলিত আছে (যা স্থানভেদে ভিন্ন হয়)। তবে সাত্ত্বিক উপাসকরা দুধ, গুড় ও নিরামিষ ভোগ নিবেদন করেন।
{{/usCountry}}আরাধনা: প্রথমে কাল ভৈরবকে প্রণাম করে জল নিবেদন করতে হয়। এরপর কালো তিল ও অড়হর ডালের ভোগ অর্পণ করা হয়। তাঁর মূর্তিকে বা ছবিতে কালো চন্দনের তিলক লাগানো হয়।
মন্ত্র জপ: পুজোর সময় "ওঁ ভম ভৈরবায় নমঃ" অথবা "ওঁ শ্রী কালভৈরবায় নমঃ" মন্ত্রটি কমপক্ষে ১০৮ বার জপ করা উচিত।
কুকুর সেবা: কাল ভৈরবের বাহন হলো কুকুর। তাই তাঁর পুজো করার সময় কালো কুকুরকে খাদ্য বা সেবা করলে তিনি বিশেষ প্রসন্ন হন বলে বিশ্বাস করা হয়।
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এখানে লেখা সব কথা আগামী দিনে সত্য প্রমাণিত হবে, এমন দাবি করা হচ্ছে না। জ্যোতিষশাস্ত্র সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন বা কোনও সমস্যার সমাধানের জন্য পেশাদার জ্যোতিষীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।