কালীপুজোর দিন বহু বাড়িতেই মা লক্ষ্মীর পুজো হয়। কিন্তু এই পুজো হয় অলক্ষ্মী বিদায়ের মাধ্যমে। এই রীতি বাঙালির একটি প্রাচীন লোকাচার এবং এর পেছনে গভীর পৌরাণিক ও সামাজিক বিশ্বাস রয়েছে।
কে এই অলক্ষ্মী?

শাস্ত্র মতে অলক্ষ্মী হলেন দেবী লক্ষ্মীর জ্যেষ্ঠা ভগিনী (বড় বোন) বা তাঁর ছায়া। তিনি দুর্ভাগ্য, অমঙ্গল, দারিদ্র্য, আলস্য, ঈর্ষা, ঝগড়া ও অপরিচ্ছন্নতার প্রতীক। পুরাণ অনুসারে, অলক্ষ্মীর উৎপত্তি দেবী লক্ষ্মীর আগেই। সমুদ্র মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মী অমৃতপাত্র হাতে উঠে আসার ঠিক আগেই গরল বা বিষের প্রতীক হিসেবে অলক্ষ্মীর আবির্ভাব হয়। লক্ষ্মী সৌভাগ্য ও ধনৈশ্বর্য নিয়ে আসেন, আর অলক্ষ্মী তার ঠিক বিপরীত - দুর্ভাগ্য ও কলহ। তবে কোনও কোনও শাস্ত্রে বলা হয়েছে, লক্ষ্মী ব্রহ্মার মুখের আভা থেকে জন্ম নেন, আর অলক্ষ্মী তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে।
পৌরাণিক বর্ণনায় কেমন এই অলক্ষ্মী?
তিনি কুরূপা, গায়ের রং চাপা এবং লোহার গহনা পরিহিতা। তাঁর বাহন হলো গাধা (গর্দভ)। তিনি অপরিষ্কার, নোংরা স্থান, কলহপ্রিয় পরিবার এবং অলসতা ও অধার্মিকতার মধ্যে বাস করেন।
আরও পড়ুন - দীপাবলির দিন কতগুলি প্রদীপ জ্বালানো শাস্ত্রমতে শুভ? জানুন নিয়ম
কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মী বিদায়ের রীতি কেন?
{{/usCountry}}কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মী বিদায়ের রীতি কেন?
{{/usCountry}}কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে, যা হলো বছরের অন্যতম অন্ধকার ও শক্তিশালী রাত। এই প্রথা পালনের প্রধান কারণগুলো হল শুভকে বরণ করার আগে অশুভকে দূর করা। দেবী লক্ষ্মী সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির দেবী। তিনি অপরিচ্ছন্নতা ও কলহ সহ্য করতে পারেন না। তাই দীপান্বিতা অমাবস্যার দিনে দেবী লক্ষ্মীর দীপান্বিতা লক্ষ্মীপূজা আরাধনা শুরু করার আগে অলক্ষ্মীকে বিদায় জানানো হয়। এর প্রতীকী অর্থ ঘরের সমস্ত দুর্ভাগ্য, অমঙ্গল, আলস্য ও দারিদ্র্যকে দূর করে তবেই সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধিকে বরণ করা।