মা কালীর আশীর্বাদ মানে স্বয়ং আদ্যাশক্তির আশীর্বাদ সঙ্গী হওয়া। মায়ের স্মরণে তাই কালীপুজোর দিন পাঠ করতে পারেন কালিকা স্তোত্রম। বিশুদ্ধ বস্ত্রে, একাগ্র চিত্তে মায়ের রূপ স্মরণ করলে চরম শত্রুও বিনষ্ট হয়। কালিকা স্তোত্র পাঠে নিম্নের এইসব উপকার নিশ্চিত। পাশাপাশি দেখে নিন সম্পূর্ণ কালিকা স্তোত্রও।
কালিকা স্তোত্র পাঠের উপকারিতা

১. ভয় ও নেতিবাচকতা মুক্তি: মা কালী হলেন ভয় নাশিনী। নিয়মিত স্তোত্র পাঠ করলে ভক্তের মন থেকে ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ দূর হয় এবং সাহস বৃদ্ধি পায়।
২. আত্মিক শুদ্ধি ও শান্তি: এই স্তোত্র পাঠের মাধ্যমে ভক্তের মন শুদ্ধ হয় এবং অন্তরে অপার শান্তি লাভ হয়। এটি গভীর ধ্যান ও আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটায়।
৩. সিদ্ধি লাভ: যারা তন্ত্র সাধনা বা গভীর আধ্যাত্মিক চর্চা করেন, তাদের জন্য কালিকা স্তোত্রম বিশেষ ফলদায়ক। এটি সাধকদের দ্রুত সিদ্ধি (আধ্যাত্মিক ক্ষমতা) লাভে সহায়তা করে।
৪. শত্রু বিনাশ ও সুরক্ষা: মা কালী অশুভ ও দুষ্ট শক্তির বিনাশ করেন। স্তোত্র পাঠ ভক্তকে শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করে এবং চারপাশে একটি সুরক্ষার বেষ্টনী তৈরি করে।
৫. কর্ম ও জীবনে সাফল্য: দেবী কালী হলেন শক্তির উৎস। এই স্তোত্র পাঠ ভক্তের ইচ্ছা শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে জীবনে বাধা দূর হয় এবং সাফল্য আসে।
কালিকা স্তোত্রম
ওঁ কৃশোদরি মহাচণ্ডি মুক্তকেশি বলিপ্রিয়ে।
{{/usCountry}}ওঁ কৃশোদরি মহাচণ্ডি মুক্তকেশি বলিপ্রিয়ে।
{{/usCountry}}কুলাচার প্রসান্নাস্যে নমস্তে শঙ্করপ্রিয়ে।।
ঘোরদংষ্ট্রে কোটরাক্ষি কিটীশব্দ প্রসাধিনি।
ঘুরঘোররবাস্ফারে নমস্তে চিত্তবাসিনি।।
বন্ধুকপুষ্পসঙ্কাশে ত্রিপুরে ভয়নাশিনি।
ভাগ্যোদয়সমুৎপন্নে নমস্তে বরবন্দিনি।।
জয় দেবীজগদ্ধাত্রি ত্রিপুরাদ্যে ত্রিদেবতে।
ভক্তেভ্যঃ বরদে দেবি মহিষঘ্নি নমোহস্তুতে ।।
ঘোরবিঘ্নবিনাশায় কুলাচারসমৃদ্ধয়ে।
নমামি বরদে দেবি মুণ্ডমালা বিভূষণে।
রক্তধারাসমাকীর্ণে করকাঞ্চীবিভূষিতে।
সর্ব্ববিঘ্নহরে কালি নমস্তে ভৈরবপ্রিয়ে।।
নমস্তে দক্ষিণামূৰ্ত্তে কালি ত্রিপুরভৈরবি।
ভিন্নাঞ্জনচয়প্রখ্যে প্রবীণশবসংস্থিতে।।
গলচ্ছোণিতধারাভিঃ স্মেরাননসরোরুহে।
পীনোন্নতকুচদ্বন্দ্বে নমস্তে ঘোরদক্ষিণে।।
আরক্তমুখশান্তাভির্নেত্রালিভির্বিরাজিতে।
শবদ্বয় কৃতোত্তংসে নমস্তে মদবিহ্বলে।।
পঞ্চাশন্মুণ্ডঘটিতমালা লোহিত লোহিতে।।
নানামণিবিশোভাঢ্যে নমস্তে ব্রহ্মসেবিতে।।
শবাস্থিকৃতকেয়ুর, শঙ্খ-কঙ্কন-মণ্ডিতে।
শববক্ষঃ সমারুঢ়ে নমস্তে বিষ্ণুপূজিতে।।
শবমাংস কৃতগ্রাসে অট্টহাসে মুহুর্মুহু।
মুখশীঘ্রস্মিতামোদে নমস্তে শিববন্দিতে।।
খড়্গমুণ্ডধরে বামে সব্যে (অ) ভয়বরপ্রদে।
দন্তুরে চ মহারৌদ্রে নমস্তে চণ্ডনাদিতে।।
ত্বং গতিঃ পরমা দেবি ত্বং মাতা পরমেশ্বরী।
ত্রাহি মাং করুণাসাদ্রে নমস্তে চণ্ডনায়িকে।।
নমস্তে কালিকে দেবি নমস্তে ভক্তবৎসলে।
মুর্খতাং হর মে দেবি প্রতিভা জয়দায়িনী।।
গদ্যপদ্যময়ীং বাণীং তর্কব্যাকরণাদিকম্।
অনধীতগতাং বিদ্যাং দেহি দক্ষিণকালিকে।।
জয়ং দেহি সভামধ্যে ধনং দেহি ধনাগমে।
দেহি মে চিরজীবিত্বং কালিকে রক্ষ দক্ষিণে।।
রাজ্যং দেহি যশো দেহি পুত্রান্ দারান্ ধনং তথা।
দেহান্তে দেহি মে মুক্তিং জগন্মাতঃ প্রসীদ মে।।
ওঁ মঙ্গলা ভৈরবী দুর্গা কালিকা ত্রিদশেশ্বরী।
উমা হৈমবতীকন্যা কল্যাণী ভৈরবেশ্বরী।।
কালী ব্রাহ্মী চ মাহেশী কৌমারী বৈষ্ণবী তথা।
বারাহী বাসলী চণ্ডী ত্বাং জগুর্ম্মুনয়ঃ সদা।।
উগ্রতারেতি তারেতি শিবত্যেকজটেতি চ।
লোকোত্তরেতি কালেতি গীয়তে কৃতিভিঃ সদা।।
যথা কালী তথা তারা তথা ছিন্না চ কুল্লকা।
একমূর্ত্তিশ্চতুর্ভেদ দেবি ত্বং কালিকা পুরা।।
একত্রিবিধা দেবী কোটিধানন্তরূপিনী।
অঙ্গাঙ্গিকৈর্নামভেদৈঃ কালিকেতি প্রগীয়তে।
শম্ভুঃ পঞ্চমুখেনৈব গুণান্ বক্তুং ন তে ক্ষমঃ।
চাপল্যৈর্যৎ কৃতং স্তোত্রং ক্ষমস্ব বরদা ভব।।
প্রাণান্ রক্ষ যশো রক্ষ পুত্রান্ দারান্ ধনং তথা।
সর্ব্বকালে সর্ব্বদেশে পাহি মাং দক্ষিণকালিকে।।
যঃ সংপূজ্য পঠেৎ স্তোত্রং দিবা বা রাত্রিসন্ধ্যায়োঃ।
ধনং ধান্যং তথা পুত্রং লভতে নাত্র সংশয়।।