...
...
Next Story

কালসর্প দোষ আসলে কী? সত্যিই কি বিষয়টা ভয়ের? নাকি যা বলা হয়, বাড়িয়ে বলা হয়

সত্যি কি এটি ভয় পাওয়ার কিছু? নাকি ভয় না পেয়ে এই দোষের সঠিক কারণ এবং প্রতিকার জানলে জীবন অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে।

Published on: Feb 06, 2026 03:18 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

জ্যোতিষশাস্ত্রে সবচেয়ে আলোচিত এবং রহস্যময় যোগগুলোর মধ্যে একটি হলো 'কালসর্প দোষ'। অনেকের মনেই এই নাম শুনলে ভয়ের সঞ্চার হয়। ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এটি এমন এক অবস্থা যা জাতকের জীবনের চলার পথে বারবার বাধার সৃষ্টি করে। তবে সত্যি কি এটি ভয় পাওয়ার কিছু? নাকি ভয় না পেয়ে এই দোষের সঠিক কারণ এবং প্রতিকার জানলে জীবন অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে।

কালসর্প দোষ আসলে কী? সত্যিই কি বিষয়টা ভয়ের? নাকি যা বলা হয়, বাড়িয়ে বলা হয়
কালসর্প দোষ আসলে কী? সত্যিই কি বিষয়টা ভয়ের? নাকি যা বলা হয়, বাড়িয়ে বলা হয়

কালসর্প দোষের উৎপত্তি, প্রভাব এবং মুক্তি পাওয়ার উপায় জেনে নিন।

কালসর্প দোষ আসলে কী?

ভারতীয় বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে ছায়া গ্রহ রাহু (সর্পের মস্তক) এবং কেতু (সর্পের পুচ্ছ)-র বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে বা কোষ্ঠীতে সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি—এই সাতটি প্রধান গ্রহ রাহু এবং কেতুর মাঝখানে আটকা পড়ে যায়, তখন তাকে 'কালসর্প দোষ' বা 'কালসর্প যোগ' বলা হয়।

সহজ কথায়, রাহু ও কেতুরূপী সর্পের গ্রাসে যখন সব গ্রহ বন্দি হয়ে পড়ে, তখন শুভ গ্রহগুলো তাদের পূর্ণ ফল দিতে পারে না। এর ফলে জাতকের জীবনে নানা টানাপড়েন শুরু হয়।

কাদের এই দোষ থাকে এবং এর লক্ষণ কী?

জ্যোতিষীদের মতে, এই দোষ মূলত পূর্বজন্মের কোনো অপূর্ণ কর্ম বা অভিশাপের ফল হিসেবে বর্তমান জীবনে প্রকাশ পায়। সাধারণত ১২ ধরণের কালসর্প দোষ দেখা যায় (যেমন—অনন্ত, কুলিক, বাসুকি ইত্যাদি)। যাদের কুণ্ডলীতে এই দোষ থাকে, তাদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যেতে পারে:

  • অবিরাম সংগ্রাম: অনেক পরিশ্রম করার পরও শেষ মুহূর্তে কাজে বাধা আসা বা সাফল্যের কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে যাওয়া।
  • ভয়ঙ্কর স্বপ্ন: এই দোষে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই সাপের স্বপ্ন দেখেন, অথবা মৃত ব্যক্তির স্বপ্ন দেখে আঁতকে ওঠেন। স্বপ্নে অনেক সময় নিজেদের শ্বাসরোধ হতেও অনুভব করেন তারা।
  • পারিবারিক ও আর্থিক অশান্তি: অকারণে আর্থিক ক্ষতি, পরিবারে বিবাদ এবং বিবাহিত জীবনে সুখের অভাব।
  • মানসিক অস্থিরতা: সারাক্ষণ এক ধরণের অজানা ভয় বা দুশ্চিন্তায় ভোগা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এর প্রভাব

কালসর্প দোষ থেকে রেহাই পেতে শাস্ত্রে বেশ কিছু সহজ অথচ শক্তিশালী ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে:

  • ১. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ: প্রতিদিন রুদ্রাক্ষের মালা দিয়ে ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করলে রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব কেটে যায়।
  • ২. নাগপঞ্চমী ও শিবপূজা: শিবলিঙ্গে অভিষেক এবং নাগপঞ্চমীর দিনে রুপোর সাপ দান করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
  • ৩. রাহু-কেতুর শান্তি: প্রতি বুধবার অভাবী মানুষকে কালো তিল বা ডাল দান করুন। নীল রঙের পোশাক পরিধান করলে রাহুর প্রকোপ কিছুটা কমে।
  • ৪. রুদ্রাভিষেক: কোনো অভিজ্ঞ পুরোহিতের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে বা মন্দিরে রুদ্রাভিষেক যজ্ঞ করানো যেতে পারে।

কালসর্প দোষ মানেই অভিশাপ নয়, বরং এটি আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা। আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সঠিক জীবনশৈলী পালনের মাধ্যমে এই দোষের প্রভাব কমিয়ে জীবনে অসামান্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe