সেপ্টেম্বর মাসেই পড়ছে কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬র তিথি। এই অমাবস্যা ঘিরে প্রতিবছরই তারাপীঠ মন্দিরে নামে ভক্তদের ঢল। তন্ত্রমতে এই বিশেষ রাতকে বলা হয় ‘তারা রাত্রি’। জানা যায়, মহান সাধক বামাক্ষ্যাপা এই কৌশিকী অমাবস্যার দিনেই তারাপীঠের শ্মশানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মা তারার দেখা পেয়েছিলেন। সেই থেকেই এই কৌশিকী অমাবস্যা ঘিরে তারাপীঠে বিশেষ পুজো হয়।

হিন্দুশাস্ত্র প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, এই রাতে ভালো ও মন্দ, দুই শক্তির পথই খুলে যায়। পৌরাণিক কাহিনী বলে, শুম্ভ আর নিশুম্ভ নামে দুই অসুর এককালে, ব্রহ্মা দেবের কাছ থেকে বর পেয়েছিল যে, কোনও মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া নারী তাদের মারতে পারবে না। অর্থাৎ ‘অযোনিসম্ভূতা’ নারীই কেবল তাঁকে হত্যা করতে পারবে। এদিকে, দেবী পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষযজ্ঞে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, তখন তাঁর দেহ পুড়ে কালো মেঘের মতো বর্ণ ধারণ করেছিল। তাঁকে 'কালিকা' বা 'কালী' বলে ডাকতেন মহাদেব। অন্যদিকে, দেবতারা যখন শুম্ভ-নিশুম্ভের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কৈলাসে মহাদেবের শরণাপন্ন হন, তখন শিব দেবী পার্বতীকে ওই অসুরদ্বয়ের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার বার্তা দেন। কঠোর তপস্যার পর দেবী পার্বতী যখন মানস সরোবরের জলে স্নান করেন, তখন তাঁর দেহের সমস্ত কালো কোষ বা চামড়া ঝরে যায়। এই ঝরে পড়া কৃষ্ণবর্ণের কোষ বা 'কোষিকা' থেকে এক পরম সুন্দরী অথচ ভয়ঙ্করী কৃষ্ণবর্ণা দেবীর সৃষ্টি হয়। যেহেতু তিনি দেবী পার্বতীর দেহের কোষ থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন, তাই তাঁর নাম হয় দেবী কৌশিকী। তিনিই শুম্ভ, নিশুম্ভকে দমন করেন।
কৌশিকী অমাবস্যার দিনেই সেই দুই অসুর বধ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। ভাদ্র মাসের এই নির্দিষ্ট অমাবস্যা তিথিতেই দেবী কৌশিকী মহাশক্তিরূপ ধারণ করে শুম্ভ ও নিশুম্ভ এবং তাদের সেনাপতি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করে দেবতাদের এবং পুরো সৃষ্টিকে রক্ষা করেন।
{{/usCountry}}কৌশিকী অমাবস্যার দিনেই সেই দুই অসুর বধ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। ভাদ্র মাসের এই নির্দিষ্ট অমাবস্যা তিথিতেই দেবী কৌশিকী মহাশক্তিরূপ ধারণ করে শুম্ভ ও নিশুম্ভ এবং তাদের সেনাপতি চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করে দেবতাদের এবং পুরো সৃষ্টিকে রক্ষা করেন।
{{/usCountry}}কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬ তিথি-
২০২৬ সালে কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হচ্ছে, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। সেদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা ১১ মিনিটে শুরু হবে তিথি। আর তিথি শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। শুক্রবার সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে তিথি শেষ হবে।
(এই প্রতিবেদন মান্যতা নির্ভর। এর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। )