...
...
Next Story

শিব পূজায় জপ করুন এই অলৌকিক মন্ত্র! মিলবে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি ও শিবের পরম আশীর্বাদ

শিব পূজার এই বিশেষ মন্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাব বিস্তারকারী হলো ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’। এই মন্ত্রকে দেবাদিদেবের আশীর্বাদ লাভের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।

Published on: Aug 3, 2026, 20:04:11 IST
Advertisement

সনাতন ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেব পরম করুণাময় এবং আশুতোষ নামে খ্যাত, যিনি সামান্য ভক্তি ও শ্রদ্ধাতেই ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন হন। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, ভগবান শিবের আরাধনায় মন্ত্র জপের গুরুত্ব অপরিসীম। ভগবান শিবকে প্রসন্ন করার জন্য বেশ কিছু অলৌকিক ও অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্র রয়েছে, যা সঠিক নিয়ম মেনে জপ করলে জীবন থেকে দুঃখ-কষ্ট, অকালমৃত্যুর ভয় এবং সকল বাধা-বিপত্তি নিমেষে কেটে যায়।

শিব পূজায় জপ করুন এই অলৌকিক মন্ত্র! মিলবে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি
শিব পূজায় জপ করুন এই অলৌকিক মন্ত্র! মিলবে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি

শিব পূজার এই বিশেষ মন্ত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাব বিস্তারকারী হলো ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’। এই মন্ত্রকে দেবাদিদেবের আশীর্বাদ লাভের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। পূজা-অর্চনায় মহাদেবের কৃপা লাভ এবং মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের মাহাত্ম্য জেনে নিন।

ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্র জপ কেবল আধ্যাত্মিক সুফলই আনে না, বরং মনের মধ্যে এক পরম শান্তি ও ইতিবাচক শক্তির সৃষ্টি করে। মহাদেবের আরাধনায় কোন কোন মন্ত্র জপ করা পরম ফলদায়ক, তা নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:

১. শ্রী মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ও তার অলৌকিক মাহাত্ম্য

ঋগ্বেদ ও যজুর্বেদে বর্ণিত এই মন্ত্রটি শিব আরাধনার সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র হিসেবে বিবেচিত।

মন্ত্র:

  • ‘ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।’
  • অর্থ ও সুফল:

এই মন্ত্রের অর্থ হলো—আমরা সুগন্ধি ও পুষ্টিবর্ধনকারী তিন নেত্রধারী ভগবান শিবের আরাধনা করি। শশা যেমন তার বোঁটার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়, তেমনি মহাদেব যেন আমাদের অকালমৃত্যু ও সংসারের সমস্ত ব্যাধি-বন্ধন থেকে মুক্ত করে অমৃত বা মোক্ষ প্রদান করেন। নিয়মিত এই মন্ত্র জপ করলে কঠিন ব্যাধি, অকালমৃত্যুর ভয় এবং মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে চিরতরে মুক্তি মেলে।

২. পদ্বাক্ষরী ও ষড়াক্ষরী শিব মন্ত্র

মানসিক শান্তি, বুদ্ধি এবং আত্মিক শক্তির জ্যোতি বাড়াতে শিব গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করা উচিত।

  • ‘ওঁ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।।’

এই মন্ত্র জপে মন স্থির হয় এবং জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বিশেষ মনোবল পাওয়া যায়।

৪. রুদ্র মন্ত্র ও শিব ধ্যান মন্ত্র

যাঁদের জীবনে কঠিন সংকট বা শত্রুভয় রয়েছে, তারা ভগবান শিবের রুদ্র মন্ত্র জপ করে শক্তি লাভ করতে পারেন। এটি জীবন থেকে ভয় দূর করে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে।

শিব মন্ত্র জপের সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি

সময় ও স্থান: সকালে ব্রহ্ম মুহূর্তে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাকে ঠাকুরের সামনে বা শিবলিঙ্গের কাছে বসুন।

  • আসন ও দিক: পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে কুশের আসনে বা পরিষ্কার সুতির আসনে বসুন।
  • রুদ্রাক্ষ জপমালা: শিব মন্ত্র জপ করার সময় সর্বদা শুদ্ধ রুদ্রাক্ষের মালা ব্যবহার করা উচিত।
  • অভিষেক ও প্রদীপ: সম্ভব হলে শিবলিঙ্গে জল বা কাঁচা দুধের অর্ঘ্য নিবেদন করে শুদ্ধ ঘিউয়ের প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালিয়ে শান্ত মনে জপ করুন।

ভোলেবাবা কেবল পরম ভক্তির কাঙাল। অনাড়ম্বরভাবেও যদি সঠিক নিয়ম ও উচ্চারণে এই শিব মন্ত্রগুলি জপ করা যায়, তবে মহাদেবের কৃপায় জীবনে পরম শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe