আজ মহাশিবরাত্রির পুজো তো করবেন, কিন্তু মহাদেবের ব্রতকথাটা জানেন কি? না জানলে, এখনই পড়ে নিন

কথিত আছে, এই ব্রতকথা পাঠ করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য মেলে। আপনি কি জানেন এই ব্রতকথা?

Published on: Feb 15, 2026, 20:13:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে ব্রত পালনের পাশাপাশি শিবরাত্রির পৌরাণিক কাহিনী বা ব্রতকথা শ্রবণ করা অত্যন্ত জরুরি। শাস্ত্রমতে, শিবরাত্রির মাহাত্ম্য বর্ণনা করা এই কাহিনী পাঠ করলে অজান্তে করা পাপ থেকেও মুক্তি মেলে। মহাশিবরাত্রির সেই বিখ্যাত ব্রতকথা এবং এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:

আজ মহাশিবরাত্রির পুজো তো করবেন, কিন্তু মহাদেবের ব্রতকথাটা জানেন কি
আজ মহাশিবরাত্রির পুজো তো করবেন, কিন্তু মহাদেবের ব্রতকথাটা জানেন কি

ব্যাধের সেই অলৌকিক কাহিনি, যা পাঠ করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য মেলে

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাদেব ও মা পার্বতীর আরাধনার মহাপর্ব মহাশিবরাত্রি। সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিন শিবলিঙ্গে জল ঢালার পাশাপাশি শিবরাত্রির ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করলে ভক্তের সমস্ত মনোকামনা পূর্ণ হয়। শিবপুরাণে বর্ণিত ব্যাধের সেই কাহিনীটিই মহাশিবরাত্রির প্রকৃত মহিমা তুলে ধরে, যা আমাদের শেখায় যে—মহাদেব আড়ম্বর নয়, কেবল শুদ্ধ ভক্তির কাঙাল।

ব্যাধ ও বেলগাছের সেই বিশেষ রাত

প্রাচীনকালে এক ব্যাধ (শিকারি) বনের পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। একদিন শিকার খুঁজতে খুঁজতে সে অনেক দূরে চলে যায় এবং রাত হয়ে যাওয়ায় বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলে। হিংস্র পশুর ভয়ে সে একটি বেলগাছের ওপর আশ্রয় নেয়। সেদিন ছিল ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি, অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। কিন্তু ক্ষুধার্ত ও পরিশ্রান্ত ব্যাধ তা জানত না।

সারা রাত জাগার জন্য এবং ক্ষুধা মেটানোর জন্য সে অন্যমনস্কভাবে বেলগাছের পাতা ছিঁড়ে নিচে ফেলতে থাকে। কাকতালীয়ভাবে সেই বেলগাছের ঠিক নিচেই একটি শিবলিঙ্গ ছিল, যা লতাপাতায় ঢাকা থাকায় ব্যাধের নজরে আসেনি। ব্যাধ যখনই পাতা ফেলছিল, তা সরাসরি শিবলিঙ্গের ওপর পড়ছিল। এভাবে অজান্তেই সে শিবরাত্রির প্রথম প্রহরে মহাদেবের পূজা সম্পন্ন করে ফেলে।

তিন প্রহরের পরীক্ষা ও ব্যাধের দয়া

রাতের বিভিন্ন সময়ে জল পিপাসায় কাতর হয়ে ব্যাধের চোখ থেকে অশ্রু পড়ে এবং তার শরীর থেকে ঘাম ও জল লিঙ্গের ওপর পড়ে—যা অভিষেক হিসেবে গণ্য হয়। এই রাতে একটি হরিণী, তার সন্তান এবং সবশেষে হরিণ ব্যাধের সামনে শিকার হিসেবে আসে। কিন্তু ব্যাধ যখনই তাদের মারতে উদ্যত হয়, তারা জীবন ভিক্ষা চায় এবং কাজ শেষ করে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়। ব্যাধ তাদের বিশ্বাস করে ছেড়ে দেয়।

এভাবে শিকারের প্রতীক্ষায় সে সারা রাত জেগে বেলপাতা ফেলতে থাকে, যা অজান্তেই চার প্রহরের পুজোর সমতুল্য হয়ে যায়। ভোরের আলো ফুটতেই সেই হরিণ পরিবার ফিরে আসে ব্যাধের কাছে প্রাণ উৎসর্গ করতে। তাদের সত্যনিষ্ঠা দেখে ব্যাধের মনের হিংসা দূর হয় এবং তার মনে দয়ার উদ্রেক ঘটে। সে আর শিকার না করে তাদের ছেড়ে দেয়।

মহাদেবের প্রকট হওয়া ও মোক্ষ লাভ

ব্যাধের এই অজ্ঞাতসারে করা ব্রত, উপবাস এবং জীবপ্রেম দেখে মহাদেব অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। তিনি স্বয়ং প্রকট হয়ে ব্যাধকে দর্শন দেন এবং তাকে আশীর্বাদ করেন যে, মৃত্যুর পর সে শিবলোকে স্থান পাবে। এই কাহিনীটি আমাদের শেখায় যে, কেউ যদি না জেনেও নিষ্ঠার সাথে শিবের আরাধনা করে, 'আশুতোষ' মহাদেব তাকেও কৃপা করেন।

জ্যোতিষশাস্ত্র ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

জ্যোতিষ মতে, মহাশিবরাত্রির রাতে শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করা এবং এই ব্রতকথা শ্রবণ করলে কোষ্ঠীর কালসর্প দোষ এবং রাহু-শনি জনিত কষ্ট লাঘব হয়। এই কাহিনীটি আমাদের অহংকার ও হিংসা ত্যাগ করে জীবে দয়া করার প্রেরণা দেয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More