...
...
Next Story

১৮ সেপ্টেম্বর কর্কটে মঙ্গল ও দেবগুরু বৃহস্পতির মহাশক্তিশালী যুতি! কয়েক দিনেই ৪ রাশির সোনার সময় শুরু

বৈদিক পঞ্চাঙ ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মঙ্গল গ্রহ চন্দ্রের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করতে চলেছেন, যেখানে আগে থেকেই বিরাজমান থাকবেন দেবগুরু বৃহস্পতি।

Published on: Aug 26, 2026, 13:00:46 IST
Advertisement

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে পরাক্রম, সাহস ও শক্তির কারক গ্রহ মঙ্গল এবং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সমৃদ্ধির কারক গ্রহ দেবগুরু বৃহস্পতি-র যুতি বা সহাবস্থানকে অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে গণ্য করা হয়। যখন এই দুই প্রধান শুভ ও বলশালী গ্রহ এক সাথে এক রাশিতে অবস্থান করে, তখন মহাকাশে এক অভূতপূর্ব শক্তি ও শুভ যোগের সৃষ্টি হয়।

কর্কটে মঙ্গল ও দেবগুরুর মহাশক্তিশালী যুতি! ৪ রাশির সোনার সময় শুরু হবে এবার
কর্কটে মঙ্গল ও দেবগুরুর মহাশক্তিশালী যুতি! ৪ রাশির সোনার সময় শুরু হবে এবার

বৈদিক পঞ্চাঙ ও জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মঙ্গল গ্রহ চন্দ্রের রাশি কর্কটে (Cancer) প্রবেশ করতে চলেছেন, যেখানে আগে থেকেই বিরাজমান থাকবেন দেবগুরু বৃহস্পতি। কর্কট রাশিতে মঙ্গল ও বৃহস্পতির এই মহা-সহাবস্থান বা যুতি জ্যোতিষ মণ্ডলে এক রাজকীয় প্রভাব তৈরি করবে। ১৮ সেপ্টেম্বরের পর গঠিত এই শক্তিশালী গ্রহযোগের সুপ্রভাবে বিশেষ ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে ক্যারিয়ারের অভাবনীয় প্রগতি, হঠাৎ অর্থপ্রাপ্তি, পদোন্নতি (Promotion) এবং মান-সম্মান বৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ আসতে চলেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর কর্কট রাশিতে মঙ্গল-বৃহস্পতির এই মহাপরাক্রমী সহাবস্থানে কোন ৪ রাশির ভাগ্যে সোনালী দিন আসবে—তা নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. কর্কট রাশিতে মঙ্গল-বৃহস্পতি যুতির বৈদিক ও জ্যোতিষীয় গুরুত্ব

জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মিলনকে পরম শুভ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়:

  • জ্ঞান ও পরাক্রমের মেলবন্ধন: বৃহস্পতির প্রজ্ঞা ও বুদ্ধির সাথে মঙ্গলের কর্মস্পৃহা ও সাহসিকতা যুক্ত হওয়ায় মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
  • রাজকীয় উন্নতি ও ধনযোগ: যে রাশির জাতকদের ওপর এই যুতির শুভ প্রভাব পড়ে, তারা কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারেন এবং স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে প্রচুর লাভবান হন।

২. ১৮ সেপ্টেম্বরের পর মঙ্গল-বৃহস্পতি যুতির প্রভাবে কপাল খুলবে যে ৪ রাশির

খ) তুলা রাশি (Libra): তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই যুতি দশম ভাব অর্থাৎ কর্মভাব বা ক্যারিয়ারের ঘরে ঘটবে। ফলে অফিসে বসের পূর্ণ সমর্থন পাবেন এবং বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির (Promotion) পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির সুসংবাদ মিলতে পারে। ব্যবসায়ীরা বড় কোনো নতুন সরকারি বা বেসরকারি কাজের কন্ট্রাক্ট সই করতে পারবেন। আপনার সুচিন্তিত পরিকল্পনার জোরে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হবে।

গ) কন্যা রাশি (Virgo): কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই দুই বলশালী গ্রহের স্থান পরিবর্তন একাদশ ভাব অর্থাৎ আয় ও লাভের ঘরে স্থান পাবে। ফলে আয়ের নতুন নতুন মাধ্যম তৈরি হবে, যা আপনার সঞ্চয় বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা শুভ কাজ দ্রুত শেষ হবে। শেয়ার বাজার, রিয়েল এস্টেট বা পুরনো কোনো বিনিয়োগ থেকে অপ্রত্যাশিত মোটা অঙ্কের মুনাফা হাতে আসতে পারে।

ঘ) মেষ রাশি (Aries): মেষ রাশির অধিপতি হলেন স্বয়ং মঙ্গলদেব। কর্কট রাশিতে মঙ্গলের প্রবেশ ও বৃহস্পতির সংযোগ আপনার চতুর্থ ভাব (সুখ, প্রপার্টি ও গৃহ) সক্রিয় করবে। এর ফলে নতুন বাড়ি, জমি-জায়গা বা পছন্দের গাড়ি কেনার বহুদিনের স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। পারিবারিক সমস্ত বিবাদের অবসান ঘটবে এবং পরিবারে আনন্দের আমেজ বিরাজ করবে। ব্যবসায়িদের নতুন যোগাযোগের মাধ্যমে লাভ মিলবে।

৩. মঙ্গল-বৃহস্পতির পূর্ণ আশীর্বাদ ও শুভ ফল লাভের সহজ প্রতিকার

এই মহাশক্তিশালী যুতির শুভ প্রভাব বহুগুণ বাড়াতে এবং গ্রহদোষ এড়াতে কিছু সহজ শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন করতে পারেন:

  • শ্রী হনুমান ও বিষ্ণুর আরাধনা: মঙ্গলবারে হনুমান চালিশা পাঠ করুন এবং বৃহস্পতিবারে ভগবান শ্রী হরি বিষ্ণুকে পীতাম্বরি বা হলুদ ফুল নিবেদন করুন।
  • দান-ধ্যান: দুঃস্থদের গুড়, মুগ ডাল, ছোলার ডাল বা হলুদ রঙের বস্ত্র দান করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক।
  • প্রদীপ প্রজ্জ্বলন: প্রতি বৃহস্পতিবারে কলা গাছের গোড়ায় এবং মঙ্গলবারে হনুমানজির সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কর্কট রাশিতে মঙ্গল ও বৃহস্পতির এই সহাবস্থান কর্কট, তুলা, কন্যা ও মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও ক্যারিয়ারে উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর দারুণ সুবর্ণ সুযোগ। সঠিক লক্ষ্য ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে সুযোগগুলোর সদ্ব্যবহার করলে জীবনে স্থায়ী স্থায়িত্ব ও রাজকীয় সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe